পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে ভারতের বাজারে চাপ বাড়ছে বলে দাবি রাহুল গান্ধীর। ভোট মিটলেই পেট্রল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দাম বাড়তে পারে বলে মোদী সরকারকে কটাক্ষ বিরোধী দলনেতার।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 22 March 2026 08:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় চলা যুদ্ধের প্রভাব এবার ভারতের বাজারেও স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে। ডলারের তুলনায় টাকার দাম কমেছে, বেড়েছে গ্যাসের মূল্য। এই পরিস্থিতিকে সামনে রেখে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। শনিবার এক্স-এ পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, পাঁচ রাজ্যের ভোট মিটলেই পেট্রল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের দাম বাড়তে পারে। তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো কোনও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই কেন্দ্রীয় সরকার-এর (Modi Government) হাতে।
রাহুল গান্ধী তাঁর পোস্টে লেখেন, ডলারের বিপরীতে টাকার দাম দ্রুত কমছে এবং জ্বালানির দাম বাড়ার ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। গত কয়েক দিনে টাকার দর উল্লেখযোগ্যভাবে পড়েছে। শুক্রবারও ৮৬ পয়সা কমে ডলার পিছু টাকার মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৩.৭৫ টাকা। অর্থাৎ এখন ১ ডলারের দাম প্রায় ৯৪ টাকার কাছাকাছি, যা সর্বকালের সর্বনিম্ন বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। এই প্রসঙ্গ টেনে রাহুলের মন্তব্য, ডলারের বিপরীতে রুপি ১০০-র দিকে এগোচ্ছে এবং জ্বালানির দাম বাড়ার ইঙ্গিত ভবিষ্যতের মূল্যবৃদ্ধির দিকেই ইশারা করছে।
টাকার দাম কমার প্রভাব গোটা অর্থনীতিতেই পড়বে বলেই মনে করছেন তিনি। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার এই পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক বলে ব্যাখ্যা করেছে, রাহুল গান্ধীর দাবি বাস্তব চিত্র ভিন্ন। তাঁর মতে, চারটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—প্রথমত উৎপাদন ও পরিবহণ খরচ বাড়বে, দ্বিতীয়ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বড় ধাক্কা খাবে, তৃতীয়ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে এবং চতুর্থত বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ তুলে নিলে শেয়ার বাজারে চাপ তৈরি হবে।
খুব শীঘ্রই জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, এটি শুধু সময়ের অপেক্ষা—ভোট মিটলেই পেট্রল, ডিজেল এবং গ্যাসের দাম বাড়তে পারে। আগামী এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরালা, তামিলনাড়ু এবং কেন্দ্রশাসিত পুদুচেরিতে বিধানসভা ভোট রয়েছে। রাহুলের বক্তব্য যে এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখেই করা, তা স্পষ্ট। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও বাস্তব পরিকল্পনা নেই; সরকারের কথার চেয়ে সাধারণ মানুষের হাতে কত টাকা থাকছে, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে হরমুজ় প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানির জোগানে টান পড়েছে। ফলে এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। বেশ কিছু হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর সামনে এসেছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে আশ্বাস দিয়েছে, তাতে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। এলপিজি ডিলারদের দোকানে ভিড় বাড়ছে এবং প্রতিদিনই লম্বা লাইনের ছবি দেখা যাচ্ছে।