যদিও এখনও পর্যন্ত এই রিভিউ পিটিশনটি রেজিস্ট্রার শাখা শুনানির জন্য গ্রহণ করেনি। যদি গ্রহণ করা হয়, তবেই আদালত মামলাটি পুনরায় শুনানির সিদ্ধান্ত নেবে।
.jpg.webp)
কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী
শেষ আপডেট: 13 July 2025 08:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের নাগরিকত্ব বিতর্কে অস্বস্তিতে কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi citizenship)। তাঁর বিরুদ্ধে ‘ব্রিটিশ নাগরিকত্ব’ (British citizenship case) নিয়ে পুরনো মামলাটি পুনরায় খোলার দাবি জানালেন বিজেপি নেতা ভিগ্নেশ শিশির। নতুন তথ্যপ্রমাণসহ এলাহাবাদ হাইকোর্টের (Allahabad High Court) লখনউ বেঞ্চে আবেদনও করেছেন তিনি।
ভিগ্নেশের দাবি, তাঁর হাতে এসেছে একাধিক নতুন প্রমাণ - যার মধ্যে রয়েছে লন্ডন, ভিয়েতনাম এবং উজবেকিস্তানে রাহুল গান্ধীর কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত বেশ কিছু ভিডিও এবং অন্যান্য নথি। আদালতে সেইসব তথ্য তিনি জমাও দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, এতদিন যেসব তথ্য আদালতের সামনে ছিল না, সেগুলো এখন সামনে আসায় মামলাটি ফের খোলার প্রয়োজন রয়েছে।
উল্লেখ্য, রাহুল গান্ধীর নাগরিকত্ব নিয়ে এই বিতর্ক নতুন নয়। ভিগ্নেশ শিশির এর আগেও দাবি করেছিলেন, রাহুল আদতে ব্রিটিশ নাগরিক। তিনি জানান, ব্রিটেন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাহুলের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কিছু তথ্য তিনি পেয়েছেন, যদিও গোপনীয়তার কারণে সব তথ্য ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ দেয়নি। তাঁর আর্জি ছিল, এই ইস্যুতে সিবিআই তদন্ত হওয়া উচিত এবং কেন্দ্রেরও উচিত বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করা। কারণ ভারতের আইনে দ্বৈত নাগরিকত্ব বেআইনি (Indian citizenship law)।
তবে দীর্ঘদিন মামলা চলার পরও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কোনও স্পষ্ট জবাব না আসায় আদালত শেষপর্যন্ত মামলাটি খারিজ করে দেয়। তবে আদালত সেই সময় মন্তব্য করেছিল, আবেদনকারী চাইলে আইনের অন্য পথ অবলম্বন করতে পারেন। সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই ভিগ্নেশের এই নতুন রিভিউ পিটিশন।
যদিও এখনও পর্যন্ত এই রিভিউ পিটিশনটি রেজিস্ট্রার শাখা শুনানির জন্য গ্রহণ করেনি। যদি গ্রহণ করা হয়, তবেই আদালত মামলাটি পুনরায় শুনানির সিদ্ধান্ত নেবে।
এই প্রথম নয়, রাহুল গান্ধীর নাগরিকত্ব নিয়ে অভিযোগ আগেও উঠেছে। দিল্লি হাই কোর্টে এরকমই একটি মামলা করেছিলেন বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। তাঁর দাবি ছিল, রাহুল ২০০৫-০৬ সালে একটি ব্রিটিশ সংস্থা ‘Backops Limited’-এর বার্ষিক রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় নিজেকে ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।
এছাড়াও একাধিক কোম্পানির নথিতে রাহুল নিজেকে ইংল্যান্ডের নাগরিক বলে উল্লেখ করেছেন বলেও দাবি করেন স্বামী। সেই সূত্র ধরেই বারবার রাহুলের মনোনয়ন বাতিলের দাবি উঠেছে। যদিও এই অভিযোগগুলি কখনওই আদালতে চূড়ান্ত রূপ পায়নি, এবং কেন্দ্রীয় সরকারও এই বিষয়ে মুখ খুলতে চায়নি।
এই মামলা নতুন করে শুরুর আর্জি এমন এক সময় এল, যখন সংসদের বাদল অধিবেশন সামনে এবং বিরোধীদের মধ্যে ঐক্যের প্রশ্নে কংগ্রেস নেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর ভূমিকা ফের কেন্দ্রে। এই প্রেক্ষাপটে এই বিতর্ক রাজনৈতিক ভাবে কংগ্রেসের পক্ষে আরও অস্বস্তির কারণ হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের অনুমান।