পাঞ্জাব পুলিশের বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদ, অবৈধ অস্ত্র পাচার এবং সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে তাদের “জিরো টলারেন্স” নীতি বজায় থাকবে।

দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে
শেষ আপডেট: 14 March 2026 20:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সীমান্ত পেরিয়ে অস্ত্র পাচার (Amritsar arms trafficking) এবং জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল পাঞ্জাব পুলিশ। অমৃতসর গ্রামীণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আইএসআই মদতপুষ্ট একটি জঙ্গি মডিউল (ISI-funded terror module Punjab) ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
এই অভিযানে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, আধুনিক পিস্তল ও বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার হয়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন পাঞ্জাব পুলিশের ডিজিপি।
কী কী উদ্ধার হল
পুলিশের অভিযানে একটি একে ৪৭ রাইফেল-সহ দুটি ম্যাগাজিন এবং ৩৬টি গুলি উদ্ধার হয়েছে। এ ছাড়াও তিনটি অত্যাধুনিক গ্লক ৯এমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ডিজিপি এক বিবৃতিতে জানান, অমৃতসর গ্রামীণ এলাকার ঘারিন্দা থানায় এই ঘটনার ভিত্তিতে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই জঙ্গি চক্রের সঙ্গে কারা জড়িত এবং তাদের আন্তর্জাতিক যোগসূত্র কী - তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। চক্রটির সামনের এবং পেছনের সমস্ত যোগাযোগ খুঁজে বের করে পুরো নেটওয়ার্ক ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে।
পাঞ্জাব পুলিশের বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদ, অবৈধ অস্ত্র পাচার এবং সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে তাদের “জিরো টলারেন্স” নীতি বজায় থাকবে।
এর আগে ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জলন্ধরের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স এবং এসএএস নগরের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ইউনিট যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে দুই গুরুত্বপূর্ণ সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছিল।
এই দুই ব্যক্তি নলাগড়ের একটি পুলিশ স্টেশনে ঘটে যাওয়া আইইডি বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি বছরের ১ জানুয়ারি, হিমাচল প্রদেশে। গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্তের নাম মহাবীর ওরফে কাকা এবং মনপ্রীত ওরফে মনি। তারা দুজনেই এসবিএস নগরের বাসিন্দা। এই অভিযানে তাদের কাছ থেকেও একটি ৯ মিলিমিটার গ্লক পিস্তল এবং গুলি উদ্ধার করা হয়েছিল।
বিদেশ থেকে নির্দেশ
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই সন্দেহভাজনরা বিদেশে থাকা কয়েকজনের নির্দেশে কাজ করছিল। তদন্তকারীদের দাবি, গোপি নাওয়াশেহরিয়া এবং জাসি কুলাম নামে দুই ব্যক্তি এই চক্রকে পরিচালনা করছিল। তারা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন বাব্বার খালসা ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, বিদেশে থাকা নিয়ন্ত্রকদের নির্দেশে অভিযুক্তরা বিস্ফোরক আরডিএক্স এবং গ্রেনেডের চালান সংগ্রহ করেছিল।
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই আরডিএক্সেরই একটি অংশ ব্যবহার করা হয়েছিল নলাগড় থানায় বিস্ফোরণ ঘটানোর সময়।
ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে
বর্তমানে তদন্তকারী সংস্থাগুলি অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখছে। এর মাধ্যমে তাদের যোগাযোগের জাল এবং পুরো জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিস্তার সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
পুলিশের মতে, এই তদন্তের মাধ্যমে সীমান্ত পারাপার অস্ত্র পাচার এবং জঙ্গি কার্যকলাপের বৃহত্তর চক্রের রহস্য উন্মোচিত হতে পারে।