কলকাতা ও তামিলনাড়ুতে অভিযান চালিয়ে বড়সড় জঙ্গি নাশকতার ছক বানচাল করল পুলিশ। আইএসআই-এর মদতে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ধরা পড়ল মোট ৮ জন সন্দেহভাজন।

জঙ্গি যোগে গ্রেফতার
শেষ আপডেট: 22 February 2026 10:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গে অভিযান চালিয়ে ধরা পড়ল আট সন্দেহভাজন জঙ্গি। অভিযোগ, পাকিস্তানের আইএসআই (ISI) এবং বাংলাদেশ-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনের সহায়তায় ভারতে বড়সড় নাশকতার ছক কষছিল এই চক্র। সূত্রের খবর, ধৃতদের মধ্যে এক জন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছে।
তামিলনাড়ুর তিরুপ্পুর জেলায় গারমেন্টস তৈরির ইউনিটে কাজ করার ছদ্মবেশে থাকত মিজানুর রহমান (Mizanur Rahman), মহম্মদ শাবাত (Mohammed Shabat), উমর (Umar), মহম্মদ লিতন (Mohammed Litan), মহম্মদ শাহিদ (Mohammed Shahid) এবং মহম্মদ উজ্জল (Mohammed Ujjal)। ওই ছ’জনকে সেখান থেকেই গ্রেফতার করে তামিলনাড়ু পুলিশ। পশ্চিমবঙ্গ থেকেও আরও দু’জনকে ধরা হয়েছে।
জানা যাচ্ছে, নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে ভুয়ো আধার কার্ড (Forged Aadhaar Card) ব্যবহার করছিল তারা। তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে আটটি মোবাইল ফোন ও ১৬টি সিম কার্ড। গোটা চক্রকে তামিলনাড়ু পুলিশই প্রথমে আটক করে। পরে তদন্তের সুবিধার জন্য তাদের দিল্লি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
কয়েকদিন আগেই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা সূত্রে জানা যায়, পাকিস্তান-ভিত্তিক লস্কর-ই-তইবা (Lashkar-e-Taiba) দিল্লির লালকেল্লা (Red Fort) সংলগ্ন এলাকা ও চাঁদনি চকের (Chandni Chowk) এক মন্দির-সহ দেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানে বিস্ফোরণের ছক কষছে। সন্দেহ, আইইডি (IED) হামলার পরিকল্পনা করছিল জঙ্গিরা। পাকিস্তানের ইসলামাবাদের এক মসজিদে ৬ ফেব্রুয়ারির আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আহত হয়েছিলেন ১৬০ জনেরও বেশি। যদিও সেই হামলার দায় স্বীকার করেছিল আইএস (Islamic State)।
তিন মাস আগেই, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর, দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লা মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় একটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল রাজধানী। বিস্ফোরণে প্রাণ যায় ১২ জনের, জখম হন প্রায় দু’ডজন মানুষ। তদন্তে জানা যায়, গাড়িটি চালাচ্ছিল উমর মহম্মদ ওরফে উমর উন নবী (Umar Mohammad alias Umar Un Nabi), যিনি ফারিদাবাদের আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের (Al-Falah University) একজন ডাক্তার। বিস্ফোরণের দিনই ফারিদাবাদে ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক—অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট-সহ উদ্ধার হয়। এর আগেই মডিউলের দুই সদস্য ড. মুজাম্মিল শাকিল (Dr. Muzammil Shakeel) এবং ড. আদিল রাথার (Dr. Adil Rather)–কে গ্রেফতার করেছিল তদন্তকারীরা। সূত্রের দাবি, সে কারণে চাপে পড়েই উমর ওই বিস্ফোরণ ঘটায়।
বর্তমানে ধৃত আট জনকে জেরা করে গোটা চক্রের যোগসূত্র, জঙ্গি যোগাযোগ এবং চূড়ান্ত পরিকল্পনার খতিয়ান খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্তে মিলতে পারে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।