ছেলেকে এমন অবস্থায় দেখে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে বাবার। সঙ্গে সঙ্গে তাকে কাঁদিভালির ডঃ বাবাসাহেব আম্বেদকর হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। পরে অভিযোগ দায়ের করেন কুরার থানায়। শিশু নির্যাতন ও মানসিক নিপীড়ন-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়।

অভিযুক্ত শিক্ষিকা
শেষ আপডেট: 31 July 2025 11:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাতের লেখা খারাপ! সেই ‘অপরাধে’ আট বছরের এক ছাত্রের হাতে জ্বলন্ত মোমবাতি চেপে ধরলেন শিক্ষক। ঘটনায় মুম্বইয়ের মালাড এলাকার এক গৃহশিক্ষিকাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শিশুটির ডান হাত মারাত্মকভাবে পুড়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাটি মুম্বইয়ের মালাড অঞ্চলের জেপি ডেক্স বিল্ডিংয়ের। অভিযুক্ত শিক্ষিকার নাম রাজশ্রী রাঠোর। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, তৃতীয় শ্রেণির ওই পড়ুয়া গোরেগাঁওয়ের একটি স্কুলের ছাত্র। প্রতিদিন নিয়ম করে ওই শিক্ষিকার বাড়িতে টিউশন পড়তে যেত সে। ঘটনার দিন, দিদি তাকে টিউশনে দিয়ে আসে। কিছুক্ষণ পরই রাজশ্রী বাচ্চাটির দিদিকে ফোন করে ডেকে পাঠান।
টিউশন সেন্টারে পৌঁছে ভাইকে কাঁদতে দেখে সে। তার ডান হাতে ভয়ানক পোড়ার ক্ষত। জানতে চাইলে শিক্ষিকা প্রথমে গোটা ঘটনাকেই ‘নাটক’ বলে উড়িয়ে দেন। কিন্তু বাড়িতে ফিরে শিশু ফুপিয়ে কেঁদে জানায়, খারাপ হাতের লেখার জন্য রাজশ্রী ম্যাম জ্বলন্ত মোমবাতি দিয়ে তার হাত পুড়িয়ে দিয়েছেন।
ছেলেকে এমন অবস্থায় দেখে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে বাবার। সঙ্গে সঙ্গে তাকে কাঁদিভালির ডঃ বাবাসাহেব আম্বেদকর হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। পরে অভিযোগ দায়ের করেন কুরার থানায়। শিশু নির্যাতন ও মানসিক নিপীড়ন-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের পর অভিযুক্ত রাজশ্রী রাঠোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ও অভিভাবকদের একাংশ জানিয়েছেন, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও রাজশ্রী শিশুদের উপর নির্মম আচরণ করতেন। মুম্বই পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে। শিশুটির পরিবারের পাশাপাশি অন্যান্য সম্ভাব্য নির্যাতিত ও তাদের পরিবারের বয়ান সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শহরজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শিশু অধিকার রক্ষা কর্মী ও অভিভাবকদের একাংশ কড়া শাস্তির দাবি তুলেছেন। তাঁদের প্রশ্ন, স্কুলের বাইরের এই সমস্ত প্রাইভেট টিউটর বা টিউশন সেন্টারগুলির উপর প্রশাসনিক নজরদারি কতটা রয়েছে? বা আদৌ রয়েছে কি না। শিশুটির পোড়া হাত ও শিক্ষিকার ছবি ইতিমধ্যেই মামলার প্রমাণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে।