১৫ অগস্ট দিনটি চিরকাল দেশের মানুষের স্মৃতিতে অমলিন থাকবে। দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসনের সময় দেশের সব প্রান্তের মানুষ স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন। অসংখ্য নারী-পুরুষ, তরুণ-প্রবীণ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আত্মনিয়োগ করেছিলেন।

ফাইল ছিবি
শেষ আপডেট: 14 August 2025 21:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানালেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu)। তিনি বলেন, স্বাধীনতা দিবস (Independence Day) ও প্রজাতন্ত্র দিবস (Republic Day) প্রতিটি ভারতীয়ের কাছে গর্বের দিন, যা আমাদের দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। ১৫ অগস্ট দিনটি চিরকাল দেশের মানুষের স্মৃতিতে অমলিন থাকবে। দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসনের সময় দেশের সব প্রান্তের মানুষ স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন। অসংখ্য নারী-পুরুষ, তরুণ-প্রবীণ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। আগামিকাল আমরা যখন তিরঙ্গা পতাকা উত্তোলন করব, তখন সকল শহিদ ও স্বাধীনতা সংগ্রামীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাব।
রাষ্ট্রপতি নিজের বক্তব্যে গণতান্ত্রিক দিক তুলে ধরেন। বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পর ভারত সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার-ভিত্তিক গণতন্ত্রে পরিণত হয়। লিঙ্গ, ধর্ম বা অন্যান্য কারণে ভোটাধিকার সীমাবদ্ধ হয়নি, যা বিশ্বের অনেক দেশে তখনও প্রচলিত ছিল। নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ভারত সফলভাবে গণতান্ত্রিক পথে এগিয়েছে। আমাদের প্রাচীন গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন এই সাফল্য। ভারতের সংবিধান গণতন্ত্রের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে, এবং আমরা এটিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিই।
বিভাজনের বেদনাদায়ক ইতিহাসও স্মরণ করালেন দ্রৌপদী মুর্মু। তিনি বলেন, দেশভাগের সময় ভয়াবহ সহিংসতা দেখা গিয়েছিল, লক্ষ লক্ষ মানুষকে স্থানান্তরে বাধ্য করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, সংবিধানের চার স্তম্ভ- ন্যায়, স্বাধীনতা, সমতা ও ভ্রাতৃত্ব, আমাদের সভ্যতার মূল মূল্যবোধ। এর কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের মর্যাদা। সকলের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। যাঁরা ঐতিহাসিকভাবে পিছিয়ে পড়েছেন, তাঁদের জন্য বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন।
তিনি জানান, স্বাধীনতার সময় ভারত চরম দারিদ্র্যে ছিল কিন্তু ৭৮ বছরে অসাধারণ অগ্রগতি হয়েছে। গত অর্থবছরে ৬.৫% জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে ভারত বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির মধ্যে দ্রুততম। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে, রফতানি বৃদ্ধি ও অর্থনীতির সব সূচক ইতিবাচক। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে সংস্কার, বিচক্ষণ নীতি ও কৃষক-শ্রমিকদের পরিশ্রম।
সুশাসনের ফলে কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার বাইরে এসেছেন। দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সরকার একাধিক কল্যাণমূলক কর্মসূচি চালাচ্ছে। আঞ্চলিক বৈষম্য কমছে, পিছিয়ে থাকা রাজ্যগুলোও এগিয়ে আসছে। ব্যবসা, ছোট ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে প্রতিবন্ধকতা দূর হয়েছে। গত দশকে অবকাঠামো উন্নয়নে বড় অগ্রগতি হয়েছে, ভারতমালা প্রকল্পে জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন রেলগাড়ি, এবং কাশ্মীর উপত্যকায় ঐতিহাসিক রেল সংযোগ তার প্রমাণ। এতে বাণিজ্য ও পর্যটন বাড়বে।
দ্রুত নগরায়নের কারণে শহরের উন্নয়নে জোর দেওয়া হচ্ছে—মেট্রো রেল সেবা একাধিক শহরে সম্প্রসারিত হয়েছে, ‘অমৃত’ প্রকল্পে শহুরে পানীয়জল ও নিকাশির ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে। গ্রামে ‘জল জীবন মিশন’ পাইপলাইনে পানীয় জল সরবরাহ বাড়াচ্ছে।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ বিশ্বের বৃহত্তম স্বাস্থ্য প্রকল্প, যা ইতিমধ্যেই ৫৫ কোটির বেশি মানুষকে সুরক্ষা দিয়েছে। ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সের সকল নাগরিকও এর আওতায় এসেছেন। ডিজিটাল ক্ষেত্রে ভারতের সাফল্যও উল্লেখযোগ্য—প্রায় সব গ্রামে ৪জি সংযোগ পৌঁছেছে, ডিজিটাল লেনদেনে ভারত বিশ্বে শীর্ষে, এবং সরাসরি উপকারভোগীর কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছাচ্ছে।