কেরলে এই ধরনের ঘটনার সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সম্প্রতি, আরও দুটি ভয়ঙ্কর অভিযোগ উঠে এসেছে রাজ্য থেকে।

মৃত ফাসিলা
শেষ আপডেট: 31 July 2025 15:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরলের ত্রিশূরের ভেল্লাঙ্গুলারে স্বামীর বাড়িতে আত্মঘাতী হলেন এক গর্ভবতী মহিলা। ২৩ বছরের ফাসিলাকে ২৯ জুলাই ফাঁস লাগানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে ইরিঞ্জালকুডা থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে তাঁর স্বামী নওফাল এবং শাশুড়ি রামলাকে। বুধবার তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
ফাসিলার পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলা গার্হস্থ্য হিংসার জেরেই আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন তাঁদের মেয়ে। তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ফাসিলার পরিবারের হাতে থাকা হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার ভিত্তিতে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, তরুণী একাধিকবার স্বামী ও শাশুড়ির অত্যাচারের কথা তাঁর মাকে জানিয়েছিলেন।
তিনি মাকে জানান, দ্বিতীয়বারের জন্য গর্ভবতী এবং তাঁর স্বামী একাধিকবার পেটে লাথি মেরেছে। এমনকি, একবার তাঁর হাতও ভেঙে দেয় সে। শাশুড়ি রোজকার মতোই গালিগালাজ করত। মৃত্যুর আগে শেষদিকে তিনি মাকে লেখেন, 'আমি মরে যাচ্ছি, না হলে ওরাই মেরে ফেলবে।'
এই মর্মান্তিক ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। সরকারি মেডিক্যাল কলেজে দেহের ময়নাতদন্তের পর তা পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ফাসিলা তাঁর এক পুত্রসন্তানকে রেখে গেলেন।
কেরলে এই ধরনের ঘটনার সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সম্প্রতি, আরও দুটি ভয়ঙ্কর অভিযোগ উঠে এসেছে রাজ্য থেকে।
২১ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরশাহির এক অ্যাপার্টমেন্টে কেরলের কোল্লামের ২৯ বছরের অথুল্যার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর পরিবার দাবি করেছে, এই মৃত্যু আত্মহত্যা নয়, বরং তাঁকে খুন করেছে স্বামী। কোল্লাম থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ২০১৪ সালে বিয়ের পর থেকে অতুল্যার উপর নির্যাতন চলত বলেও অভিযোগ পরিবারের। কিছু ছবি ও ভিডিও সামনে এনেছে তাঁরা, যেখানে অতুল্যার শরীরে নানান আঘাতের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে, তাঁর স্বামী নৃশংস নির্যাতনের কথা স্বীকার করলেও বলেন, 'এসব তো খুব স্বাভাবিক।'
আরও একটি ঘটনা ঘটেছে ৮ জুলাই, সংযুক্ত আরব আমিরশাহিরই শারজায়। ৩২ বছরের বিপাঞ্জিকা মানিয়ান এবং তাঁর দেড় বছরের মেয়েকে ফ্ল্যাট থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, বিপাঞ্জিকা একটি সুইসাইড নোট রেখে গিয়েছেন, যাতে দীর্ঘদিনের গার্হস্থ্য হিংসা, পণপ্রথা, ও বিশ্বাসঘাতকতার কথা লেখা ছিল। সেই চিঠিতে লেখা ছিল, 'ও ভিডিও দেখত আর আমায় তেমন আচরণ করতে বলত। আমাকে পিটিয়ে কুকুরের মতো ব্যবহার করত। আর পারছি না। ওদের ছেড়ে দিও না।'
কেরল পুলিশ ইতিমধ্যেই বিপাঞ্জিকার স্বামী নিধীশ, তাঁর বোন এবং বাবার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও পণ নির্যাতনের মামলা রুজু করেছে।