বিহার বিধানসভা ভোটের আগে আত্মবিশ্বাসী প্রশান্ত কিশোর। জানালেন, জন সুরাজ পার্টি হয় ১৫০টিরও বেশি আসন জিতবে, নয়তো ১০টা। সবটাই বিহারের মানুষের ওপর ছেড়ে দিলেন পিকে।
.jpeg.webp)
প্রশান্ত কিশোর (ছবি- দ্য ওয়াল)
শেষ আপডেট: 17 October 2025 11:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহার বিধানসভা ভোটের আর বাকি হাতে গোনা কয়েক সপ্তাহ। তার মধ্যেই ভোটকুশলী থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা প্রশান্ত কিশোর করলেন বড় দাবি। জানিয়ে দিলেন তাঁর দল, জন সুরাজ পার্টি (জেএসপি)-র ওপর যদি আস্থা রাখে বিহারের মানুষ, তবে ঝুলিতে আসবে ১৫০টিরও বেশি আসন। আর যদি তেমন না হয়, মানুষ বিশ্বাস করতে না পারেন, তাহলে ১০টি আসনও মিলবে না।
পাশাপাশি প্রশান্ত কিশোর জানিয়ে দেন, 'বৃহত্তর স্বার্থে' তিনি আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না।
আপাতত নতুন গজিয়ে ওঠা এই দলের লক্ষ্য ১৫০ আসন। প্রতিযোগিতায় রয়েছে আরজেডি, জেডিইউ, বিজেপি-সহ অন্যান্য পরিচিত দল। তবে, সেবিষয়ে তাদের নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন পিকে। বিজেপি-জেডিইউ-নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ও আরজেডি-কংগ্রেস জোট ‘ইন্ডিয়া ব্লক’, দু’পক্ষকেই একহাত নিয়ে বলেন, 'এখন বলটা পুরোপুরি বিহারের মানুষের কোর্টে। তারা সিদ্ধান্ত নেবেন, কেমন সরকার আর কেমন নেতা চান। যদি আগের মতোই দুঃখ-কষ্টে বাঁচতে চান, তাহলে যাকে খুশি বেছে নিক। ভাল শাসন আর সন্তানদের ভবিষ্যত উন্নত করতে হলে জন সুরাজ পার্টি আছে।'
১৫০ মানে জয়, আর নাহলে পরাজয়, স্পষ্ট করেন তিনি। এবার বিহারের ২৪৩ আসনেই লড়বে তাঁর দল, জোটে যাওয়ার প্রশ্নই নেই!
বিহারবাসীর উন্নয়নই দলের একমাত্র লক্ষ্য, তা বার বার উঠে এসেছে পিকে-র কথায়। বলেন, 'এত আলোচনা, প্রচারের পর মানুষ বুঝে গেছে, এই পথই বিহারের দুর্দশা থেকে মুক্তির রাস্তা। এখন মানুষ যদি বিশ্বাসের ঝাঁপ দেয়, তাহলে সব অঙ্ক উলটে যাবে। এতদিন মানুষ বলত বিকল্প নেই, এখন তো আছে। যদি এখনও ভুল করেন, তাহলে পরিবর্তন হবে না। দুর্নীতি, কর্মসংস্থানের অভাব, সব একই থাকবে। বিহারের ছেলেমেয়েরা অন্য রাজ্যে কাজ খুঁজতে যেতে বাধ্য হবে।'
তিনি মনে করেন, জেএসপি জিতুক বা না জিতুক, জিততে হবে বিহারকেই। ভাল মানুষজনকে রাজনীতিতে আসার আহ্বান জানান, প্রার্থী বাছাই করতে গিয়ে ঠিক কী কী বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে, শেয়ার করেন সাক্ষাৎকারে এদিন, মানুষকে বিকল্প পথ বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
১০ অক্টোবর আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের কেন্দ্র রাঘোপুর থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করে ফেলেছেন প্রশান্ত। তেজস্বী প্রসঙ্গে কিশোরের মন্তব্য, 'এইবার রাঘোপুরে তেজস্বীর জেতা কঠিন হবে। আরজেডিরও আগের মতো আসন পাওয়া সম্ভব নয়।' তিনি মনে করেন, ২০২০ সালের ভোটে চিরাগ পাসওয়ানের একক লড়াই আরজেডির ‘ভাগ্যের ছোঁয়া’ হয়ে উঠেছিল। যুক্ত করেন, 'চিরাগ পাসওয়ান তখন শুধু জেডিইউ-র আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল, ফলে আরজেডি ৩৮টি আসনে বাড়তি সুবিধা পায়। ওই ৩৮ বাদ দিলে তেজস্বীর দলের প্রকৃত শক্তি ২৫-৩০ আসনের বেশি নয়। এইবার সেই ‘অ্যাডভান্টেজ’ নেই।'
এনডিএ সরকারের ১০,০০০ টাকার ভাতা এবং তেজস্বীর 'প্রতি পরিবারে সরকারি চাকরি' প্রতিশ্রুতির এদিন কড়া সমালোচনা করেন তিনি। বিশ্বের কোনও দেশই ৩.৫ কোটি মানুষকে সরকারি চাকরি দিতে পারে না বলে উল্লেখ করেন। আর শেষে নিজের দলকে ‘আম আদমি পার্টি’-র সঙ্গে তুলনা করার প্রসঙ্গে বলেন, 'আম আদমি পার্টি এসেছে এক আন্দোলন থেকে। আমি আন্দোলনে বিশ্বাস করি না। তিন বছর ধরে বিহারে হাঁটছি, কিন্তু কোনও আন্দোলন করিনি।' নিজের মতো, নিজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই তাই লড়াইয়ের ময়দানে ছয় হাঁকাতে প্রস্তুত পিকে অ্যান্ড টিম।