দাবি করা হয়েছে, ১৯৫০ সালের প্রতিনিধিত্ব আইনের ধারা ১৭ অনুযায়ী, এক ব্যক্তির নাম একাধিক জায়গায় থাকতে পারে না। সেই প্রেক্ষিতেই নোটিস দেওয়া হয়েছে প্রশান্ত কিশোরকে।

প্রশান্ত কিশোর
শেষ আপডেট: 5 November 2025 16:04
সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে বাংলা সহ ১২ রাজ্যে এসআইআর-এর (SIR) ঘোষণা করে দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। এই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কার্যত বিপাকে পড়েছেন ভোটকুশলী তথা জন সুরাজ পার্টির (Jan Suraj Party) সুপ্রিমো প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor)। কারণ জানা গেছে, বিহার এবং বাংলা দু'রাজ্যেরই ভোটার তিনি! এই কারণে প্রশান্ত কিশোরকে শোকজ নোটিশ ধরিয়েছে বিহারের ২০৯ কারাহার বিধানসভার নির্বাচনী পদাধিকারী।
বিহারের (Bihar) সাসারামের ২০৯ কারাহার বিধানসভার ভোটকেন্দ্র ৭৬৭, রোল নম্বর - ৬২১-এ প্রশান্ত কিশোরের নাম নথিভুক্ত রয়েছে। ভোটার পরিচয়পত্র নম্বর হল - IUJ1323718। এর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) ভবানীপুর বিধানসভাতেও নাম নথিভুক্ত রয়েছে তাঁর। বাংলার তালিকায় নাম রয়েছে ১২১ কালীঘাট রোড এই ঠিকানায়। এটি তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দফতর। পিকের বুথ হল রানি শঙ্করী লেনের সেন্ট হেলেন স্কুল।
দাবি করা হয়েছে, ১৯৫০ সালের প্রতিনিধিত্ব আইনের ধারা ১৭ অনুযায়ী, এক ব্যক্তির নাম একাধিক জায়গায় থাকতে পারে না। সেই প্রেক্ষিতেই নোটিস দেওয়া হয়েছে প্রশান্ত কিশোরকে। আগামী তিন দিনের মধ্যে উত্তর দিতে বলা হয়েছে তাঁকে।

এদিকে প্রশান্ত কিশোরের দলের এক নেতা বলেন, প্রশান্ত বিহারের আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার ছিলেন। তিনি সেখানকার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করেছেন। কিন্তু আবেদন পত্রের পরিণতি কী হয়েছে সে বিষয়ে তারা অবগত নন। বিহারের মুখ্য নির্বাচনী অফিসার বিনোদ সিং গুজ্জ্বল এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের এক কাউন্সিলর জানিয়েছেন কিশোর একটা সময় কালীঘাট এলাকায় ভোটার ছিলেন। গত বছর লোকসভা নির্বাচনের আগে বিহারের সিপিআইয়ের এক নেতা এই বিষয়টি উত্থাপন করে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিলেন। তখনই প্রশান্তের নাম বাংলার তালিকা থেকে কেটে দেওয়ার কথা। ফলে গোলযোগ কিছু হয়ে থাকলে তার দায় নির্বাচন কমিশনের। এখন এটাই দেখার, বিষয়টি নিয়ে তিনদিনের মধ্যে খোদ পিকে কী উত্তর দেন।
প্রসঙ্গত, বিহারের এবারের নির্বাচনে অনেকগুলি চমকের একটি হলো ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরের দল জন সুরাজ পার্টির উপস্থিতি। ২৪৩ আসনে লড়াই করছে প্রশান্তের পার্টি। যদিও তিনি নিজে এই নির্বাচনে প্রার্থী নন, স্রেফ ভোটার। আগামী ৬ এবং ১১ নভেম্বর বিহারে নির্বাচন হতে চলেছে। ফলাফল ১৪ তারিখ।