তদন্তে যুক্ত এক সূত্রের খবর, প্রথম অবতরণ বাতিল হওয়ার পর দৃশ্যমানতা আরও খারাপ হয়ে যায়। তবু পাইলট দ্বিতীয়বার বারামতীতেই নামার সিদ্ধান্ত নেন।

অজিত পাওয়ার বিমান দুর্ঘটনা
শেষ আপডেট: 29 January 2026 16:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বারামতীতে (Baramati) লিয়ারজেট দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার-সহ (Ajit Pawar) পাঁচ জনের মৃত্যুর (Ajit Pawar Death) ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে উঠে এল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। তদন্তসূত্রের খবর, খারাপ দৃশ্যমানতার মধ্যে অবতরণের সময় পাইলটের ভুল সিদ্ধান্তই (visibility may have led to the plane crash) এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার (Plane Crash) সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। পাশাপাশি, প্রযুক্তিগত ত্রুটির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বুধবার ভোরে বারামতীর কাছে দ্বিতীয়বার অবতরণের চেষ্টা করার সময় লিয়ারজেট ৪৫ এক্সআর বিমানটি ভেঙে পড়লে তাতে সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সকলের। বিমানটিতে ছিলেন এনসিপি প্রধান অজিত পাওয়ার, তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ও সহকারী, এবং দুই ককপিট ক্রু— পাইলট-ইন-কমান্ড সুমিত কাপুর ও ফার্স্ট অফিসার সম্ভাবী পাঠক।
তদন্তে যুক্ত এক সূত্রের খবর, প্রথম অবতরণ বাতিল হওয়ার পর দৃশ্যমানতা আরও খারাপ হয়ে যায়। তবু পাইলট দ্বিতীয়বার বারামতীতেই নামার সিদ্ধান্ত নেন। চাইলে বিমানটি পুণেতে ঘুরিয়ে নেওয়া যেত। কিন্তু দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় অবতরণ করতে গিয়ে বিমানটিকে পুনরায় সোজা করার চেষ্টা খুব দেরিতে করা হয়। গতি ও অবস্থান— দু’দিক থেকেই তখন পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গিয়েছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
এই রুটে নিয়মিত উড়ান চালানো অভিজ্ঞ পাইলটদের মতে, নিয়ন্ত্রণহীন (ক্লাস ‘জি’) বিমানবন্দরে এমন পরিস্থিতিতে অবতরণের চেষ্টা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ বারামতী বিমানবন্দরে কোনও নেভিগেশনাল এইড নেই, নেই পূর্ণকালীন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থাও।
ডিজিসিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিজুয়াল ফ্লাইট রুলস অনুযায়ী এমন বিমানবন্দরে অবতরণের জন্য অন্তত ৫ কিলোমিটার দৃশ্যমানতা প্রয়োজন। যদিও বিশেষ ভিএফআর প্রয়োগ করলে ৩ কিলোমিটার দৃশ্যমানতায় অবতরণ করা যায়। এই ক্ষেত্রে দৃশ্যমানতা ছিল প্রায় ৩ কিলোমিটার। তদন্তকারীদের অনুমান, রানওয়ের সঙ্গে চোখে-দেখা যোগাযোগ পাওয়ার পর পাইলট হয়তো আচমকা সংশোধনী পদক্ষেপ নেন, যার জেরে বিমানের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়।
বুধবার সন্ধ্যায় এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)-এর বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফরেনসিক তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই উদ্ধার হয়েছে বিমানের ‘ব্ল্যাক বক্স’— ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডার। সেগুলির বিশ্লেষণেই স্পষ্ট হবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ।
ওই দিন সকাল আটটা নাগাদ মুম্বই থেকে বারামতীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন অজিত পাওয়ার। স্থানীয় স্বশাসন নির্বাচনের আগে নিজের শহরে চারটি জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ দ্বিতীয় অবতরণের চেষ্টার সময়েই ঘটে যায় দুর্ঘটনা।
অজিত পাওয়ারের আকস্মিক মৃত্যুতে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে বড় শূন্যতা। উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ তো বটেই, এনসিপির নেতৃত্বেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে একজন প্রভাবশালী ও সক্রিয় রাজনৈতিক নেতার আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা রাজ্য।
তদন্ত শেষ হলে নিয়ন্ত্রণহীন বিমানবন্দরগুলিতে অবতরণ সংক্রান্ত নির্দেশিকা আরও কঠোর করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।