দিল্লিভিত্তিক সংস্থা ভিএসআর ভেঞ্চার্স প্রাইভেট লিমিটেড পরিচালিত ওই লিয়ারজেটটি বুধবার সকাল প্রায় ৮টা ৪৫ মিনিটে বারামতির টেবিল-টপ এয়ারস্ট্রিপে নামার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
.jpg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 29 January 2026 12:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রের বারামতীতে বিমান দুর্ঘটনাকে (Baramati Plane Crash) ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। বুধবার সকালে অবতরণের দ্বিতীয় প্রচেষ্টার সময় ভেঙে পড়া ওই বিমানের ককপিট (Ajit Pawar Plane Crash) থেকে শেষ মুহূর্তে ‘ওহ শি—’ শব্দ শোনা গিয়েছিল বলে জানিয়েছে অসামরিক বিমান পরিবহণ দফতরের (DGCA) এক শীর্ষ সূত্র। এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান মোট পাঁচ জন, যার মধ্যে ছিলেন মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার।
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৬৬ বছর বয়সি অজিত পাওয়ার, তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী, এক জন সহকারী এবং বিমানের দুই ককপিট ক্রু - পাইলট-ইন-কমান্ড সুমিত কাপুর ও ফার্স্ট অফিসার সম্ভাবী পাঠক। দিল্লিভিত্তিক সংস্থা ভিএসআর ভেঞ্চার্স প্রাইভেট লিমিটেড পরিচালিত ওই লিয়ারজেটটি বুধবার সকাল প্রায় ৮টা ৪৫ মিনিটে বারামতির টেবিল-টপ এয়ারস্ট্রিপে নামার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
ডিজিসিএ-র (DGCA) এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ককপিট ভয়েস রেকর্ডার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী দুর্ঘটনার ঠিক আগে ক্রুদের মুখে শেষ যে শব্দটি শোনা যায়, তা ছিল আতঙ্কসূচক। ওই আধিকারিক আরও জানান, বারামতী বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড কন্ট্রোল পরিচালনা করেন শহরের দুই বেসরকারি বিমান প্রশিক্ষণ সংস্থা - রেডবার্ড অ্যাভিয়েশন এবং কারভার অ্যাভিয়েশন-এর পাইলট ক্যাডেটরা। ওই ক্যাডেটরাই ছিলেন বিমানের সঙ্গে শেষ যোগাযোগের দায়িত্বে।
বুধবার সন্ধেতেই বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (AAIB)-এর একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফরেনসিক তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি, অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তগুলির সময়ক্রম তুলে ধরা হয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, সকাল ৮টা ১৮ মিনিটে ভিটিএসএসকে নম্বরের বিমানটি বারামতী বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। তখন পাইলট সুমিত কাপুরের মোট উড়ান অভিজ্ঞতা ছিল ১৫,০০০ ঘণ্টার বেশি এবং সহ-পাইলট সম্ভাবী পাঠকের অভিজ্ঞতা ছিল প্রায় ১,৫০০ ঘণ্টা। তাঁদের আবহাওয়ার পরিস্থিতি জানিয়ে নিজেদের বিবেচনায় অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়।
ক্রুদের পক্ষ থেকে বাতাসের গতি ও দৃশ্যমানতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। জানানো হয়, দৃশ্যমানতা প্রায় তিন কিলোমিটার, যা অবতরণের জন্য সাধারণত গ্রহণযোগ্য। এরপর বিমানটি রানওয়ে ১১-এর দিকে চূড়ান্ত অবতরণের পথে এগোয়। কিন্তু সেই সময় পাইলট জানান, রানওয়ে চোখে পড়ছে না। নিয়ম মেনে তখন ‘গো-অ্যারাউন্ড’-এর নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুনরায় ঘুরে আসার পর আবার অবস্থান জানতে চাওয়া হলে পাইলট জানান, তিনি আবার ফাইনাল অ্যাপ্রোচে রয়েছেন এবং এবার রানওয়ে দৃশ্যমান। সকাল ৮টা ৪৩ মিনিটে অবতরণের ছাড়পত্র দেওয়া হলেও, মন্ত্রকের দাবি অনুযায়ী, সেই ছাড়পত্রের কোনও ‘রিডব্যাক’ পাওয়া যায়নি। ঠিক তার এক মিনিট পর, অর্থাৎ ৮টা ৪৪ মিনিটে, এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল রানওয়ে ১১-এর প্রান্তে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পায়।
এই একাধিক প্রযুক্তিগত ও যোগাযোগজনিত দিকই এখন তদন্তের কেন্দ্রে। ইতিমধ্যে উদ্ধার হয়েছে বিমানের ব্ল্যাক বক্স। তদন্ত চলছে, কিন্তু প্রশ্নের ভিড়ে আজ উত্তর নেই, আছে শুধু শূন্যতা।