সুইসাইড নোটে কুমার প্রতারকের একাধিক মোবাইল নম্বর লিখে গিয়েছেন। সেই নম্বরগুলোর সূত্র ধরেই তদন্তে নেমেছে চান্নাপাটনার এমকে ডোড্ডি থানার পুলিশ।

কুমার (সংগৃহীত ছবি)
শেষ আপডেট: 16 July 2025 14:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভুয়ো সিবিআই অফিসারের প্রতারণায় শেষমেশ আত্মহত্যা। ১১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল ভয় দেখিয়ে। কর্নাটকের কেলাগেরে গ্রামে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হলেন বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা কুমার, পেশায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থা বেসকমে চুক্তিভিত্তিক কর্মী।
ঘটনাটি সামনে আসে মঙ্গলবার সকালে, ওই দিন কেলাগেরে গ্রামে একটি গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় কুমারের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পাশ থেকে একটি হাতে লেখা সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়। তাতে লেখা, ‘এই চিঠি অবহেলা কোরো না।’
সেখানেই বিস্তারিতভাবে উল্লেখ রয়েছে, কীভাবে ‘বিক্রম গোস্বামী’ নামের এক ব্যক্তি নিজেকে সিবিআই অফিসার পরিচয় দিয়ে কুমারকে ফোন করে ভয় দেখান। বলেন, তাঁর নামে নাকি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। সেই কথায় ভয় পেয়ে প্রথম দফায় কুমার ১.৯৫ লক্ষ টাকা একটি অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন।
কিন্তু প্রতারণা সেখানেই থেমে থাকেনি। একের পর এক ফোন করে আরও টাকা দাবি করতে থাকে ওই ভুঁয়ো অফিসার। অবশেষে চাপে পড়ে মোট ১১ লক্ষ টাকা পাঠিয়ে দেন কুমার। তবুও হেনস্থা বন্ধ হয়নি। আত্মহত্যার চিঠিতে কুমার লিখেছেন, 'এই হেনস্থার জন্য আর অসুস্থ শরীর নিয়ে লড়তে পারছি না। তাই আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছি।'
সুইসাইড নোটে কুমার প্রতারকের একাধিক মোবাইল নম্বর লিখে গিয়েছেন। সেই নম্বরগুলোর সূত্র ধরেই তদন্তে নেমেছে চান্নাপাটনার এমকে ডোড্ডি থানার পুলিশ।
তবে এখনই পুরো বিষয়টি নিশ্চিত নয়, বলছে পুলিশ। সুইসাইড নোটে উল্লেখিত লেনদেন এবং প্রতারকের পরিচয় যাচাই করে দেখছে তারা। তদন্তে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কুমারের ফোন। সেটি এখনও আনলক করা সম্ভব হয়নি। ফোন খুললে হয়তো আরও তথ্য মিলবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
ঘটনায় শোকস্তব্ধ কুমারের সহকর্মীরা। কর্নাটকের বিদ্যুৎ দফতরে নিরাপত্তাহীনতার প্রশ্নও উঠেছে কুমারের মৃত্যুর পরে।