গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, তৃণমূল আশ্রিত কয়েকজন দুষ্কৃতী কপিলমুনিকে ডেকে নিয়ে গিয়ে লাঠি এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে মারধর করে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর জগদ্দল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে বিজেপি।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 9 February 2026 16:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার ভোটের (West Bengal Elections 2026) আর বেশিদিন বাকি নেই। তার আগে জগদ্দলে (Jagaddal TMC BJP Clash) রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও এক ধাপ বাড়ল বিজেপির (BJP) দেওয়াল লেখাকে কেন্দ্র করে। মারধরের অভিযোগ ঘিরে শাসক ও বিরোধী - দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় তীব্র তরজা।
বিজেপির অভিযোগ, দলের এক কর্মীকে পরিকল্পিতভাবে বাড়ি থেকে ডেকে এনে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। ঘটনাটি ঘটেছে জগদ্দল বিধানসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়।
বিজেপির দাবি অনুযায়ী, দলের প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি কপিলমুনি শাহ দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এলাকায় দেওয়াল লিখনের কাজ করছিলেন। জানানো হয়েছে, ‘বাঁচতে চাই বিজেপি তাই’ - এই স্লোগান লেখা হচ্ছিল দেওয়ালে। কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, তৃণমূল আশ্রিত কয়েকজন দুষ্কৃতী কপিলমুনিকে ডেকে নিয়ে গিয়ে লাঠি এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে মারধর করে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর জগদ্দল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে বিজেপি।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিজেপি নেতা প্রিয়াংশু পাণ্ডে দাবি করেন, ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে শাসক দল। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীদের সংগঠন ভাঙতেই পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের সন্ত্রাসমূলক ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। বিজেপির অভিযোগ, দেওয়াল লেখার মতো রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এই হামলা আসলে গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার চেষ্টা।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করেছে। ভাটপাড়া পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দেবজ্যোতি ঘোষ বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস এই ধরনের হিংসাত্মক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তাঁর দাবি, যদি কোথাও আইনবিরোধী কোনও ঘটনা ঘটে থাকে, তবে আইন আইনের পথেই চলবে। তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যে আইনের শাসন বজায় রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ভোটের মুখে জগদ্দলে দেওয়াল লেখাকে ঘিরে এই সংঘর্ষ নতুন করে রাজনৈতিক হিংসা ও রাজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলে দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।