গুজরাত, রাজস্থান ও দক্ষিণ ভারত সফর সেরে রবিবার রাতেই দিল্লি ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ তাঁর বিমান দিল্লিতে অবতরণ করার কথা।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 1 March 2026 20:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খামেনেই-এর (khamenei death) মৃত্যু এবং ইরান-আমেরিকা (Iran Israel war) সংঘাতের জেরে কার্যত বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আরবদুনিয়া। এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগে নয়াদিল্লি (New Delhi)। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে রবিবার রাতেই মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির (CCS) জরুরি বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, রণক্ষেত্রের মাঝখানে আটকে পড়া হাজার হাজার ভারতীয়কে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনাই এখন কেন্দ্রের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
সফর কাটছাঁট করে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী
গুজরাত, রাজস্থান ও দক্ষিণ ভারত সফর সেরে রবিবার রাতেই দিল্লি ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ তাঁর বিমান দিল্লিতে অবতরণ করার কথা। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে সোজাসুজি তিনি নিরাপত্তা কমিটির বৈঠকে যোগ দেবেন। এই বৈঠকে বিদেশমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল উপস্থিত থাকতে পারেন।
নজরে হরমুজ প্রণালী ও তেলের বাজার
নয়াদিল্লির দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘হরমুজ প্রণালী’। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল রফতানি হয়। যুদ্ধ শুরু হতেই তেহরান এই পথ দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের ৮০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে, যার বড় অংশ আসে এই আরবদুনিয়া থেকে। জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় দেশে পেট্রোপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আজকের বৈঠকে এই সঙ্কট মোকাবিলায় ‘বিকল্প রুট’ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
উদ্ধারকাজ ও নিরাপত্তা
সূত্রের দাবি, পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কয়েক লক্ষ ভারতীয় কর্মরত। যুদ্ধের আঁচ বাড়লে তাঁদের জীবন বিপন্ন হতে পারে। আজকের বৈঠকে তাঁদের জন্য বিশেষ ‘এয়ারলিফট’ বা উদ্ধারকারী অভিযানের নীল নকশা চূড়ান্ত হতে পারে। পাশাপাশি, ভারতের সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীকেও বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
খামেনেইর মৃত্যুর (Khamenei Death) পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব কে সামলাবে, শূন্যস্থানে উপযুক্ত কাকে আনা হবে, এনিয়ে বিস্তর আলোচনা-জল্পনা হয়েছিল। অবশেষে সেই শূন্যতা সাময়িকভাবে পূরণ করতে তিন সদস্যের যে অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ চালু হয়েছে, সেখানে অন্তর্বর্তী বিচার বিশেষজ্ঞ হিসেবে জায়গা করলেন আলিরেজা আরাফি। দেশজুড়ে শোক, ক্ষোভ এবং উদযাপনের মিশ্র আবহের মধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ করল সরকার।
এই পরিষদে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Iran President Pezeshkian) এবং চিফ জাস্টিস গোলামহোসেন মোহেসনি এজেই। দেশের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব এখন আপাতত এই তিনজনই সামলাবেন, যতক্ষণ না অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে নির্বাচিত করছে।