Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

খামেনেই-র পরে নতুন ইরান! কীভাবে নির্ধারিত হবেন নতুন সর্বোচ্চ নেতা? আলোচনায় কাদের নাম?

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-র মৃত্যুর পর অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব কাউন্সিল গঠন। কীভাবে বেছে নেওয়া হয় নতুন সর্বোচ্চ নেতা, কী ভূমিকা অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের?

খামেনেই-র পরে নতুন ইরান! কীভাবে নির্ধারিত হবেন নতুন সর্বোচ্চ নেতা? আলোচনায় কাদের নাম?

খামেনেই-র পরে নতুন ইরান!

তিয়াষ মুখোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: 1 March 2026 18:21

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের (Iran) সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-র (Ayatollah Khamenei) মৃত্যুর খবরে দেশজুড়ে শোকের আবহের পাশাপাশি শুরু হয়েছে ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ রদবদলের প্রক্রিয়াও। সে দেশের সংবাদমাধ্যম ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তেহরানে তাঁর কম্পাউন্ড ধ্বংস (Iran Israel War) হয়েছে এবং সেখানেই ৮৬ বছর বয়সে খামেনেই-র মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনার পর দ্রুত পদক্ষেপ হিসেবে একটি অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব কাঠামোও গঠন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, জ্যেষ্ঠ আলেম আলিরেজা আরাফিকে (Alireza Arafi) অস্থায়ী নেতৃত্ব কাউন্সিলের ধর্মীয় সদস্য হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি এখন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেন মোহসেনি এজেই–এর সঙ্গে মিলে তিন সদস্যের একটি পরিষদের অংশ। এই পরিষদই স্থায়ী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে।

ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রে এই পরিবর্তন, ১৯৮৯ সালের পর থেকে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত। সেই বছরেই আয়াতোল্লা রুহোল্লা খোমেনি-র মৃত্যুর পরই খামেনেই ক্ষমতায় আসেন এবং পরবর্তী ৩৭ বছর ধরে তিনিই ইরানকে এক প্রভাবশালী, যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক প্রভাব বিস্তার, একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে প্রতিবাদ দমনে কঠোর অবস্থান, এই দুই পথেই তিনি তাঁর শাসন সুদৃঢ় করেন।

অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের সাংবিধানিক কাঠামো

ইরানের সংবিধানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু বা অক্ষমতার ক্ষেত্রে ক্ষমতা কীভাবে হস্তান্তর হবে। সে অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিল মনোনীত একজন ধর্মীয় বিচারক—এই তিনজন মিলে একটি নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করেন। তাঁদের কাজ কেবল অন্তর্বর্তী দায়িত্ব পালন করা; স্থায়ী উত্তরসূরি নির্ধারণ করা নয়।

আলিরেজা আরাফির এই নিয়োগ মানেই যে তিনি পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হবেন, এমন নয়। ল্যাঙ্কাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইমন ম্যাবনের মতে, এই পরিষদের উদ্দেশ্য প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। স্থায়ী নেতা বেছে নেওয়ার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে অন্য একটি সংস্থার হাতে, তার নাম অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস।

ম্যাবন মনে করিয়ে দেন, আয়াতোল্লা উপাধি থাকলেই কেউ সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার যোগ্য হয়ে যান না। ইরানে বহু ধর্মীয় নেতাই আয়াতোল্লা পদমর্যাদায় রয়েছেন, তবে তাঁরা রাজনৈতিক ক্ষমতায় নেই। সর্বোচ্চ নেতার জন্য ধর্মীয় মর্যাদা ছাড়াও নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, রাজনৈতিক দক্ষতা এবং শাসনক্ষমতা, এসব মিলিয়ে নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করতে হয়।

উত্তরসূরি নির্ধারণের প্রস্তুতি

বিশ্লেষকদের ধারণা, খামেনেই-র বয়স ও শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে ইরান আগে থেকেই উত্তরাধিকার নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গত কয়েক বছরে তাঁর অসুস্থতা নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যায়। ক্যানসার বা অন্য কোনও জটিল রোগে তিনি ভুগছিলেন বলেও এক তথ্য ঘুরছিল। অবশ্য তাঁর বয়সও ৮৬ হয়ে যাওয়ায়, ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে আলোচনা অবশ্যম্ভাবী ছিল।

অধ্যাপক ম্যাবন বলেন, গত জুনের তথাকথিত '১২ দিনের যুদ্ধ' ইরানকে বড় শিক্ষা দিয়েছে। সেই সময় কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। এর পর থেকেই নেতৃত্বের শীর্ষ স্তরে আঘাত এলে কীভাবে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো হবে, তার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত অন্তর্বর্তী কাঠামো গঠন সেই প্রস্তুতিরই ইঙ্গিত বহন করে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সামরিক ও রাজনৈতিক স্তরে সমন্বিত প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, যা প্রমাণ করে যে নেতৃত্বশূন্যতার সম্ভাবনা মাথায় রেখেই কৌশল তৈরি ছিল।

অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টসের ভূমিকা

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের একমাত্র অধিকার অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টসের হাতে। এই সংস্থা জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় আলেমদের নিয়ে গঠিত এবং প্রতি আট বছরে একবার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়।

অধ্যাপক ম্যাবনের মতে, এই পরিষদ সম্ভবত ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে, কিংবা হয়তো অনেক আগেই সম্ভাব্য নাম চূড়ান্ত করে রেখেছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বাকি। তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের আগে প্রার্থীদের অনুমোদন দেয় আরেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা— গার্ডিয়ান কাউন্সিল। তারা নিশ্চিত করে যে প্রার্থীরা ধর্মীয় ও নৈতিক মানদণ্ড পূরণ করছেন।

এই ব্যবস্থায় এক ধরনের ভারসাম্য রয়েছে। একদিকে গণতান্ত্রিক ভোটের মাধ্যমে পরিষদ গঠন, অন্যদিকে ধর্মীয় মান যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। কারণ নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক নয়, ধর্মীয় বৈধতার সঙ্গেও যুক্ত।

ইরানে বড় মৃত্যুর পর সাধারণত ৪০ দিনের শোকপালন করা হয়। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পরেই স্থায়ী সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণা করা হতে পারে।

১৯৮৯ সালের পর নিয়মে পরিবর্তন

প্রথম দিকে ইরানের শাসনব্যবস্থায় শর্ত ছিল, সর্বোচ্চ নেতা হতে হলে তাঁকে ‘গ্র্যান্ড আয়াতোল্লা’ হতে হবে, যা ধর্মীয় মর্যাদার সর্বোচ্চ স্তর। কিন্তু খোমেনির মৃত্যুর পর পরিস্থিতি বদলায়। নির্ধারিত উত্তরসূরিরা নানা কারণে সরে দাঁড়ান বা সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে সংবিধান সংশোধন করে এমন ব্যবস্থা করা হয় যাতে অপেক্ষাকৃত নিম্নপদস্থ ধর্মীয় নেতা হলেও সর্বোচ্চ নেতা হতে পারেন।

এই পরিবর্তনের ফলেই আলি খামেনেই ক্ষমতায় আসতে সক্ষম হন, যদিও তিনি তখন গ্র্যান্ড আয়াতোল্লা ছিলেন না। এ থেকেই বোঝা যায়, নিয়ম প্রয়োজনে বদলানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক বাস্তবতা বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

কঠোরপন্থী না বাস্তববাদী?

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন এবং কেমন হবেন? অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস কি কঠোর মতাদর্শী কাউকে বেছে নেবে, যিনি পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সংঘাতের পথেই হাঁটবেন? নাকি এমন কাউকে আনবে, যিনি কিছুটা বাস্তববাদী এবং দেশে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ কমাতে চেষ্টা করবেন?

অধ্যাপক ম্যাবনের মতে, এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত জটিল। একদিকে ইজরায়েল ও আমেরিকার সঙ্গে সংঘাত, অন্যদিকে দেশের ভিতরে প্রতিবাদ— এই দুই প্রেক্ষাপট বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষমতার অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতাও থাকবে।

এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হাসান রৌহানি বা প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভাদ জারিফের মতো ব্যক্তিত্বদের নাম আলোচনা হয়, যাঁদের আন্তর্জাতিক পরিসরে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। অন্যদিকে ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও কুদস ফোর্স–ঘনিষ্ঠ কঠোরপন্থীরাও প্রভাব বিস্তার করতে পারেন।

সম্ভাব্য নাম ও বাস্তবতা

আয়াতোল্লা খামেনেই এযাবৎ কখনও প্রকাশ্যে উত্তরসূরির নাম ঘোষণা করেননি বলেই জানা যায়। তবে বছরের পর বছর ধরে কয়েকটি নাম আলোচনায় ছিল। খামেনেই-র ছেলে মুজতবা খামেনেই, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতার নাতি হাসান খোমেনি, এবং প্রতিষ্ঠানের ভিতরের কয়েকজন সিনিয়র আলেম।

কিন্তু সাম্প্রতিক হামলায় খামেনেই-র ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ও প্রভাবশালী নেতাদের কেউ কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ফলে ক্ষমতার সমীকরণ নতুনভাবে সাজতে হতে পারে।

সবচেয়ে বড় বিষয়, খামেনেই কয়েক দশকে যে কর্তৃত্ব গড়ে তুলেছিলেন, সেই উচ্চতায় এখনকার সম্ভাব্য কোনও প্রার্থী আদৌ পৌঁছতে পারবেন কিনা, সেটা একেবারেই অনিশ্চিত। বিশেষ করে রেভলিউশনারি গার্ড ও ধর্মীয় নেটওয়ার্কের মতো শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা নতুন নেতার জন্য সহজ হবে না।

সব মিলিয়ে, খামেনেই-র মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক সন্ধিক্ষণ। সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী প্রক্রিয়া শুরু হলেও, শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে ধর্মীয় মর্যাদা, রাজনৈতিক ভারসাম্য, সামরিক শক্তির অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপর। আগামী কয়েক সপ্তাহেই স্পষ্ট হবে, ইরান কি আগের পথেই হাঁটবে, নাকি নতুন দিকচিহ্ন আঁকবে।


```