আরবদুনিয়ার রাজনীতিতে এই ঐতিহাসিক মোড় যখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, তখন হঠাৎই শিরোনামে উঠে এসেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের একটি ছোট গ্রাম— কিন্তুর।
.jpeg.webp)
আয়াতোল্লা রুহোল্লা খোমেনেই
শেষ আপডেট: 1 March 2026 16:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইজরায়েল ও আমেরিকার (Israel America) যৌথ সাঁড়াশি অভিযানে নিকেশ ইরানের (Iran) সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (Ayatollah Khamenei)। আরবদুনিয়ার রাজনীতিতে এই ঐতিহাসিক মোড় যখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, তখন হঠাৎই শিরোনামে উঠে এসেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের একটি ছোট গ্রাম— কিন্তুর। বারাবাঁকি জেলার এই গ্রামটির সঙ্গে ইরানের বর্তমান ধর্মতান্ত্রিক শাসনের এক গভীর এবং বিস্ময়কর বংশগত সংযোগ রয়েছে।
ইরানের বিপ্লবের ‘শিকড়’ বারাবাঁকিতে
কিন্তুর গ্রামটি ঐতিহাসিকভাবে শিয়া বিদ্যার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এটি আয়াতোল্লা রুহোল্লা খোমেনেইয়ের (Ayatollah Ruhollah Musavi Khomeini) পূর্বপুরুষদের ভিটে। উল্লেখ্য, খোমেনেই ছিলেন ১৯৭৯ সালের ইরানি ইসলামিক বিপ্লবের মূল স্থপতি এবং আধুনিক ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের প্রতিষ্ঠাতা।
খোমেনেই এবং ‘হিন্দি’ উপাধি
কিন্তুর ছিল খোমেনেইয়ের পিতামহ সৈয়দ আহমেদ মুসাভির জন্মস্থান। ১৯ শতাব্দীর শুরুর দিকে মুসাভি ভারতের ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তি পেতে ভারত ছেড়ে ইরাকের নাজাফে পাড়ি জমান, যা শিয়া শিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। পরবর্তীতে ১৮৩৪ সালে তিনি ইরানের খোমেন শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
মজার বিষয় হল, ইরানি নথিপত্রে মুসাভি তাঁর নামের সঙ্গে “হিন্দি” উপাধিটি ধরে রেখেছিলেন—যা তাঁর ভারতীয় বংশোদ্ভূত হওয়ার পরিচয় বহন করে। ঐতিহাসিকদের মতে, এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসাভির শিক্ষাই খোমেনেইয়ের আধ্যাত্মিক জগত গঠনে মূল ভিত্তি তৈরি করেছিল।
পরবর্তী ক্ষমতার লড়াই
১৯৮৯ সালে খোমেনেইয়ের মৃত্যুর পর খামেনেই ক্ষমতার রাশ ধরেন এবং পূর্বসূরির চেয়েও দীর্ঘ সময় শাসন করেন। তিনি শিয়া পুরোহিততন্ত্রের ক্ষমতা ব্যাপক বিস্তার করেন এবং আধাসামরিক রেভোলিউশনারি গার্ডকে তাঁর শাসনের মূল স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তোলেন।
কিন্তু খামেনেই-এর আকস্মিক মৃত্যুতে এখন ইরানের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে। ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’ এখন খামেনেই-এর উত্তরসূরি নির্বাচন করবে, তবে কোনও স্পষ্ট উত্তরাধিকারী এখনও নেই। ফেব্রুয়ারি মাসে আক্রমণের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জনগণকে তাদের “সরকার দখল করার” ডাক দিয়েছিলেন। এখনকার এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে, রেভোলিউশনারি গার্ড—যারা তাদের ক্ষমতা ধরে রাখতে কঠোর বলপ্রয়োগ করতে দ্বিধা করে না, তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।