এআই-এর সম্ভাবনাকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি ইতিহাসের উদাহরণ টানেন। বেতার যোগাযোগের আবিষ্কারের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, প্রথম যখন তারবিহীন সঙ্কেত পাঠানো সম্ভব হয়েছিল, তখন কেউ কল্পনাও করেনি যে একদিন গোটা পৃথিবী বাস্তব সময়ে যুক্ত হয়ে যাবে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 19 February 2026 11:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর (AI Summit) ভবিষ্যৎ কেমন হবে - এই প্রশ্নেই বৃহস্পতিবার রাজধানীতে আয়োজিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে (AI Impact Summit) নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তাঁর বার্তা পরিষ্কার - এআই যেন মানুষের ওপরে নয়, মানুষের কল্যাণেই কাজ করে। প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের এই সময়ে প্রয়োজন মানবকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, এআই-কেন্দ্রিক নয়।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সকলের কল্যাণ এবং সুখ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। মানুষ যেন কেবল তথ্যের উৎস বা ডেটা পয়েন্ট হয়ে না যায়।” তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে প্রযুক্তির গণতন্ত্রীকরণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর। এআই যেন সীমিত কয়েকটি সংস্থার নিয়ন্ত্রণে না থেকে বৃহত্তর সমাজের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, এই বার্তাই দেন তিনি।
এই উপলক্ষেই তিনি তুলে ধরেন ‘MANAV’ কাঠামো - এআই শাসনের একটি নীতিগত রূপরেখা। ‘মানব’ শব্দটিকেই ভিত্তি করে তৈরি এই কাঠামো পাঁচটি মূল নীতির উপর দাঁড়ানো। প্রথমত, নৈতিক ও নীতিবোধসম্পন্ন ব্যবস্থা (Moral and Ethical System); দ্বিতীয়ত, দায়বদ্ধ শাসন কাঠামো (Accountable Governance); তৃতীয়ত, জাতীয় সার্বভৌমত্ব, বিশেষ করে তথ্যের উপর দেশের অধিকার (National Sovereignty); চতুর্থত, সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রযুক্তি (Accessible and Inclusive Technology); এবং পঞ্চমত, বৈধ ও স্বীকৃত কাঠামো (Valid and Legitimate Systems)।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, প্রযুক্তিকে বিকাশের জন্য মুক্ত পরিসর দিতে হবে, তবে নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি মানুষের হাতেই থাকতে হবে। তাঁর কথায়, “এআই-কে আমরা বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেব, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতেই থাকবে।”
এআই-এর সম্ভাবনাকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি ইতিহাসের উদাহরণ টানেন। বেতার যোগাযোগের আবিষ্কারের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, প্রথম যখন তারবিহীন সঙ্কেত পাঠানো সম্ভব হয়েছিল, তখন কেউ কল্পনাও করেনি যে একদিন গোটা পৃথিবী বাস্তব সময়ে যুক্ত হয়ে যাবে। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও তেমনই এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা করছে। আজ যা দেখা যাচ্ছে বা অনুমান করা হচ্ছে, তা কেবল শুরু - আগামী দিনে এর প্রভাব আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিতে দেওয়া এই বক্তৃতায় ভারতের অবস্থান স্পষ্ট - প্রযুক্তিগত অগ্রগতি প্রয়োজন, কিন্তু তার কেন্দ্রে থাকতে হবে মানুষকেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতার প্রশ্নকে সামনে রেখেই ভবিষ্যতের পথচলা গড়ে তুলতে চায় দেশ।