সোমনাথ মন্দিরের পুনর্নির্মাণ নিয়েও নানা বাধা এসেছিল। স্বাধীনতার পর সর্দার বল্লভভাই পাটেল যখন মন্দির পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেন, তখনও আপত্তি তোলা হয়।
_0.jpg.webp)
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 11 January 2026 16:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাতে ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’-এর (Somnath Swabhiman Parv) মঞ্চ থেকে আবারও ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Modi)। রবিবার ‘শৌর্য যাত্রা’-র (Shaurya Yatra) সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরও দেশের কিছু মানুষ ঔপনিবেশিক মানসিকতা (Colonial Mindset) নিয়ে ভারতের গৌরবময় ইতিহাস আড়াল করার চেষ্টা করেছেন।
মোদীর অভিযোগ, ভারতের প্রাচীন সভ্যতা, মন্দির সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় আক্রমণের কঠিন ইতিহাস বহুবার চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। যাঁরা সোমনাথ মন্দির রক্ষায় লড়েছিলেন, তাঁদের কৃতিত্বও প্রাপ্য সম্মান পায়নি (Somnath Temple History)। তিনি বলেন, হামলারীদের হিংসা ও ধ্বংসযজ্ঞকে পাঠ্যবইয়ে শুধু ‘লুটপাট’ নামে বর্ণনা করা হয়েছে কিন্তু বর্বরতা ও নিপীড়নের অধ্যায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে (Somnath Temple Attack)।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সোমনাথ মন্দিরের পুনর্নির্মাণ নিয়েও নানা বাধা এসেছিল। স্বাধীনতার পর সর্দার বল্লভভাই পাটেল যখন মন্দির পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেন, তখনও আপত্তি তোলা হয়। ১৯৫১ সালে রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদের মন্দিরে উপস্থিতি নিয়েও বিরোধ ছিল। তাঁর দাবি, তখন যারা বাধা দিয়েছিল তারা আজও সক্রিয়, শুধু অস্ত্রের বদলে এসেছে গোপন ষড়যন্ত্র।
তিনি দেশকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যে কোনও বিভাজনের শক্তিকে পরাজিত করতে হবে। গত হাজার বছরের ইতিহাস আমাদের আগামী হাজার বছরের প্রস্তুতি দেয়।”
মোদী জানান, সোমনাথ শুধু একটি মন্দির নয়- এটি ভারতের শক্তি, সহিষ্ণুতা, বিশ্বাস ও সভ্যতার প্রতীক। ১০২৬ সালে মাহমুদ গজনির প্রথম আক্রমণের পর বহুবার ধ্বংস হলেও মানুষের বিশ্বাসে সোমনাথ কখনও হারায়নি। প্রতিবারই নতুন করে নির্মাণ হয়েছে যা বিশ্বের ইতিহাসেও বিরল।
স্বাধীনতার পর ১৯৪৭ সালে ধ্বংসপ্রাপ্ত মন্দির দেখে পুনর্নির্মাণের সংকল্প করেন সর্দার পাটেল। সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় সেই কাজ সম্পূর্ণ হয় ১৯৫১ সালে, তখন রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ মন্দির পুনঃস্থাপনার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ২০২৬ সালে সেই ঐতিহাসিক পুনর্নির্মাণের ৭৫ বছর পূর্ণ হবে। আজ আরব সাগরের তীরে দাঁড়িয়ে থাকা আদি জ্যোতির্লিঙ্গ সোমনাথ ভারতের আত্মসম্মান ও সাংস্কৃতিক শক্তির প্রতীক হিসেবে নতুন বার্তা দিচ্ছে।