বর্তমান সময় শুধুমাত্র তরুণ প্রজন্মের ব্যক্তিগত উন্নতি দ্বারা চালিত নয়; তাদের দায়িত্ব কাঁধে নেওয়া এবং অর্থপূর্ণ প্রভাব ফেলার আকাঙ্ক্ষাও সমানভাবে অনুপ্রাণিত। আগামী তরুণ প্রজন্ম হবে আরও বেশি সক্রিয়। তাঁরা এমন পথ খুঁজে বের করতে পারে যেখানে তাঁদের সৃষ্টিশীলতা সমস্যার সমাধান করবে এবং তাদের উচ্চতর সেবার অঙ্গীকার বাস্তবে রূপান্তরিত করবে।

নরেন্দ্র মোদী।
শেষ আপডেট: 11 January 2026 16:09
ভারতের উন্নয়নের গল্প তাঁরাই লিখবেন, যাঁরা আজ এর ধারণাগুলোকে রূপ দিচ্ছেন। ভারত কীভাবে আরও দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে, আরও ভালভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করতে পারে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত হতে পারে – তা নিয়ে সারা দেশে তরুণ ভারতীয়রা নিবিড়ভাবে ভাবছেন। তাঁদের ধারণাগুলো উঠে আসছে ক্যাম্পাস ও সম্প্রদায় থেকে, স্টার্ট-আপ ও খেলার মাঠ থেকে, শ্রেণিকক্ষ ও গ্রামের সভা থেকে। আসল প্রশ্নটি এখন আর এটি নয় যে তরুণদের অবদান রাখার কিছু আছে কি না, বরং প্রশ্নটি হলো তাঁদের ধারণাগুলোকে দেশের গতিপথকে প্রভাবিত করার জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য মঞ্চ দেওয়া হচ্ছে কি না। বিকশিত (উন্নত) ভারত ইয়ং লিডার্স ডায়ালগ (ভিবিওয়াইএলডি) ঠিক সেই মঞ্চটি প্রদানের জন্যই ডিজাইন করা হয়েছে।
আজ ভারত বিশ্বের বৃহত্তম তরুণ জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল। তাই এটা খুবই স্বাভাবিক যে জাতির ভবিষ্যতের গতিপথ কেবল নীতি বা প্রতিষ্ঠানের দ্বারাই নয়, বরং এর তরুণ নাগরিকদের কল্পনা, দৃঢ় বিশ্বাস এবং সাহসের দ্বারাও নির্ধারিত হবে। এই বিশাল যুবশক্তি শুধু একটি জনসংখ্যাগত সুবিধামাত্র নয়; এটি ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ জাতীয় সম্পদ, যা উদ্ভাবনকে চালিত করতে, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এবং দেশকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুস্থায়ী উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম।

বর্তমান সময় শুধুমাত্র তরুণ প্রজন্মের ব্যক্তিগত উন্নতি দ্বারা চালিত নয়; তাদের দায়িত্ব কাঁধে নেওয়া এবং অর্থপূর্ণ প্রভাব ফেলার আকাঙ্ক্ষাও সমানভাবে অনুপ্রাণিত। আগামী তরুণ প্রজন্ম হবে আরও বেশি সক্রিয়। তাঁরা এমন পথ খুঁজে বের করতে পারে যেখানে তাঁদের সৃষ্টিশীলতা সমস্যার সমাধান করবে এবং তাদের উচ্চতর সেবার অঙ্গীকার বাস্তবে রূপান্তরিত করবে।
যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রী হিসেবে আমার কার্যকালে আমি বিভিন্ন পরিবেশে ভারতীয় তরুণদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ পেয়েছি—বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে, গ্রামীণ জেলাগুলিতে, ক্রীড়াঙ্গনে এবং তরুণদের দ্বারা পরিচালিত সামাজিক উদ্যোগগুলিতে। একটি বিষয় যা ধারাবাহিকভাবে চোখে পড়ে, তা হলো দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণদের চিন্তাভাবনার গভীরতা। আমার মনে আছে, আমি গ্রামীণ তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের একটি দলের সঙ্গে দেখা করেছিলাম, যাঁরা তাঁদের গ্রামগুলিতে অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করেছিল। সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে তাঁরা স্থানীয়ভাবে তৈরি সমাধানের মাধ্যমে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ঘাটতি পূরণ করেছেন। তাঁদের ধারণাগুলো বাস্তবসম্মত, মাটির বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দায়িত্ববোধের এক স্পষ্ট অনুভূতি সঞ্জাত এই ধরনের অভিজ্ঞতা একটি সহজ সত্যকে পুনর্নিশ্চিত করে যে, যখন তরুণদের বিশ্বাস করা হয় এবং তাঁদের সুযোগ দেওয়া হয়, তখন তাঁরা কেবল অংশগ্রহণই করে না, নেতৃত্বও দেয়।
রাজনৈতিক পটভূমিবিহীন এক লক্ষ যুবককে জনজীবনে নিয়ে আসার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লালকেল্লা থেকে করা আহ্বানে অনুপ্রাণিত হয়ে, সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে জাতীয় যুব উৎসবকে ঢেলে সাজিয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ‘বিকশিত ভারত ইয়ং লিডার্স ডায়ালগ’ চালু করা হয়েছিল।
এর প্রতিক্রিয়া ছিল অভূতপূর্ব। ৩০ লক্ষেরও বেশি যুবক উন্নত ভারত চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছিল, দুই লক্ষেরও বেশি প্রবন্ধ জমা পড়েছিল এবং হাজার হাজার যুবক রাজ্য পর্যায়ে তাঁদের ধারণা তুলে ধরেছিল। এই যাত্রার পরিসমাপ্তি ঘটে নতুন দিল্লির ভারত মণ্ডপমে, যেখানে ৩,০০০ তরুণ নেতা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি স্বতঃস্ফূর্ত বার্তালাপে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে তাঁদের ধারণা শোনেন এবং নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাঁদের অনুপ্রাণিত করেন।
সংখ্যার বাইরে, আলোচনার ধরনই এটিকে প্রকৃত অর্থে ঐতিহাসিক করে তোলে। এটি লিখিত ও মৌখিক উভয়ভাবেই স্বীকার করে নিয়েছে যে, ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশকে ‘উন্নত ভারত’ রূপদানে ভারতের তরুণদের কণ্ঠস্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ অংশগ্রহণকারীদের জাতীয় চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে সমালোচনামূলকভাবে ভাবতে, সমাধান প্রস্তাব করতে এবং ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষাকে সমষ্টিগত লক্ষ্যের সঙ্গে সারিবদ্ধ করতে উৎসাহিত করা হয়েছিল, যা আকাঙ্ক্ষা ও কর্মের মধ্যেকার ব্যবধান দূর করেছে।
বিকশিত ভারত ইয়ং লিডার্স ডায়ালগের শক্তি কেবল এর ব্যাপকতার মধ্যেই নিহিত নয়, বরং এর নকশার মধ্যেও রয়েছে। চিন্তা, ভাষা, সংস্কৃতি এবং জীবন অভিজ্ঞতার বৈচিত্র্য এই উদ্যোগের কাঠামোর মধ্যেই প্রোথিত। শহুরে ও গ্রামীণ ভারতের তরুণরা, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা, উদ্ভাবক এবং তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা একটি সাধারণ মঞ্চে একত্রিত হন। অংশগ্রহণের একাধিক স্তর নিশ্চিত করে যে ধারণাগুলো বার্তালাপ ও আদান-প্রদানের মাধ্যমে পরিমার্জিত হয়, এবং ভৌগোলিক অবস্থান, ভাষা বা পটভূমির কারণে সেগুলো বাদ পড়ে যায় না। এর মাধ্যমে, এই বার্তালাপটি নিশ্চিত করে যে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক তরুণ-তরুণীরই একটি কণ্ঠস্বর থাকবে এবং সেটিকে জোরালোভাবে তুলে ধরার জন্য একটি মঞ্চও থাকবে।
স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে স্বাধীন ভারতের প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলা পর্যন্ত ভারতের তরুণরা সর্বদা জাতির গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল, প্রতিটি সন্ধিক্ষণে তরুণ ভারতীয়রা সাহস, দৃঢ় বিশ্বাস এবং নেতৃত্ব দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে এসেছে। আজ জাতি আবারও তারুণ্যের দিকে তাকিয়ে আছে, শুধু অংশগ্রহণের জন্য নয়, বরং ভারতের উন্নয়ন গাথাকে যৌথভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নেতৃত্ব ও গতিশীলতার প্রত্যাশায়। ২০৪৭ সালের উন্নত ভারতের স্বপ্ন কেবল অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সামাজিক সম্প্রীতি, পরিবেশগত দায়িত্ববোধ, প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির আহ্বান জানায়। এই জটিল চ্যালেঞ্জগুলোর জন্য প্রয়োজন নতুন চিন্তাভাবনা, অভিযোজন ক্ষমতা এবং নতুনকে গ্রহণ করার সামর্থ্য—এই গুণগুলো ভারতের যুবশক্তির মধ্যে প্রবলভাবে রয়েছে।
একটি যুগান্তকারী প্রথম সংস্করণের অভূতপূর্ব সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে, ৯ থেকে ১২ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত ভিবিওয়াইএলডি ২০২৬, একটি জাতীয় যুব সমাবেশ থেকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অনুরণন সৃষ্টিকারী একটি প্ল্যাটফর্মে উত্তরণের ক্ষেত্রে একটি নির্ণায়ক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ‘ডিজাইন ফর ভারত’ এবং ‘টেক ফর বিকশিত ভারত’-এর মতো নতুন উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক ভারতীয় যুব প্রবাসীদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে এই সংলাপ সীমানা ছাড়িয়ে প্রসারিত হচ্ছে। তবুও, এর মূল লক্ষ্য অপরিবর্তিত রয়েছে: তরুণ ভারতীয়দের সাহসী চিন্তা করতে, নির্ভয়ে সৃষ্টি করতে এবং দৃঢ় প্রত্যয়ে নেতৃত্ব দিতে ক্ষমতায়ন করা।
এই সংস্করণের ব্যাপকতা সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষার গভীরতাকে তুলে ধরে। ‘বিকশিত ভারত ক্যুইজ, যা ভিবিওয়াইএলডি ২০২৬-এর নির্বাচনের প্রথম পর্যায়, তাতে ৫০ লক্ষেরও বেশি তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করেছে, যা এটিকে এই ধরনের বৃহত্তম যুব অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমগুলোর মধ্যে অন্যতম করে তুলেছে। চার দিন ধরে নিবিড়ভাবে, দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে আসা অংশগ্রহণকারীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্র ও ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রমকারী বাস্তবসম্মত অন্তর্দৃষ্টি, ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জ্ঞান আহরণ করবেন।
তবে ভিবিওয়াইএলডি ২০২৬-কে যা সত্যিই অনন্য করে তোলে, তা হলো এখানে আমাদের যুবশক্তিকে শুধু কথা বলারই নয়, বরং তাঁদের কথা শোনানোর সুযোগও করে দেয়। এই মঞ্চটি তরুণ ভারতীয়দের ধারণা, আকাঙ্ক্ষা এবং সমাধান সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরার সুযোগ করে দেয়। স্বামী বিবেকানন্দের স্মরণে দেশজুড়ে জাতীয় যুব দিবস হিসেবে পালিত ১২ জানুয়ারি, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ভারত মণ্ডপমে তরুণদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে মতবিনিময় করবেন এবং ভারতমাতার ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁরা কী কী কল্পনা করেন ও তাকে কীভাবে রূপ দিতে চান, তা শুনবেন।
ভারত যখন তার স্বাধীনতার শতবর্ষের দিকে এগিয়ে চলেছে, তখন এমন তরুণদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য, যাদের মধ্যে সাহসের সঙ্গে কল্পনা করার এবং ধারণাগুলোকে অর্থপূর্ণ কাজে রূপান্তরিত করার দৃঢ় সংকল্প রয়েছে। 'বিকশিত ভারত ইয়ং লিডার্স ডায়ালগ' কেবল একটি আলোচনার মঞ্চ নয়, এটি একটি আন্দোলন যা তরুণ ভারতীয়দের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে, জাতীয় চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলা করতে এবং একটি উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে তাঁদের আকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগাতে আহ্বান জানায়। যাঁরা নেতৃত্ব দেওয়ার আত্মবিশ্বাস এবং সেবা করার প্রতিশ্রুতি রাখেন, তাঁরাই একটি উন্নত ভারত গড়বে। ভারতের যুবসমাজ প্রস্তুত। জাতিকে অবশ্যই তাদের সঙ্গে চলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
লেখক: কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী। মতামত ব্যক্তিগত।