দীর্ঘদিন ধরে সেন্ট্রাল ভিস্তা অঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পুরনো ভবনগুলিতে বিভিন্ন মন্ত্রক পরিচালিত হত। ফলে সমন্বয়ের অভাব, প্রশাসনিক জটিলতা এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ ছিল।

নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 13 February 2026 17:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাধীনতার পর এই প্রথম বদলে গেল দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ঠিকানা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) উদ্বোধন করলেন ‘সেবা তীর্থ’ (Seva Teerth) - একটি সমন্বিত আধুনিক প্রশাসনিক কমপ্লেক্স, যেখানে স্থানান্তরিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO)। কেন্দ্রের মতে, এটি ভারতের প্রশাসনিক কাঠামোয় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
শুক্রবার ‘সেবা তীর্থ’ নাম ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী (PM Narendra Modi)। একই সঙ্গে উদ্বোধন করা হয় ‘কর্তব্য ভবন–১’ ও ‘কর্তব্য ভবন–২’-এর। এই দুই ভবনে অর্থ, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ, কর্পোরেট বিষয়ক, শিক্ষা, সংস্কৃতি, আইন, তথ্য ও সম্প্রচার, কৃষি, রাসায়নিক ও সার, জনজাতি বিষয়কসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক এক ছাদের তলায় কাজ করবে।
দীর্ঘদিন ধরে সেন্ট্রাল ভিস্তা অঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পুরনো ভবনগুলিতে বিভিন্ন মন্ত্রক পরিচালিত হত। ফলে সমন্বয়ের অভাব, প্রশাসনিক জটিলতা এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ ছিল। নতুন পরিকাঠামো সেই সমস্যার সমাধান করবে বলেই আশা কেন্দ্রের। দ্রুত সিদ্ধান্তগ্রহণ, ব্যয় হ্রাস এবং স্বচ্ছতা - এই তিন লক্ষ্যে জোর দেওয়া হয়েছে।
সেবা তীর্থ কমপ্লেক্সে এখন একসঙ্গে থাকবে পিএমও (সেবা তীর্থ–১), ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সেক্রেটারিয়েট (সেবা তীর্থ–২) এবং ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েট (সেবা তীর্থ–৩)। এতদিন এরা আলাদা আলাদা স্থানে কাজ করত। নতুন ব্যবস্থায় কৌশলগত সমন্বয় আরও জোরদার হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
ডিজিটাল পরিকাঠামোয় জোর দিয়ে তৈরি হয়েছে এই ভবনগুলি। কেন্দ্রীভূত রিসেপশন, নির্দিষ্ট জন-সাক্ষাৎ অঞ্চল এবং উন্নত ই-গভর্ন্যান্স ব্যবস্থা নাগরিক পরিষেবা আরও সহজ করবে। চার-তারকা GRIHA মানদণ্ডে নির্মিত এই কমপ্লেক্সে রয়েছে নবীকরণযোগ্য শক্তি ব্যবহার, জল সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও শক্তি-সাশ্রয়ী নকশা।
উদ্বোধনের দিনই নতুন দফতর থেকে একগুচ্ছ সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেন প্রধানমন্ত্রী। দুর্ঘটনাগ্রস্তদের জন্য ‘পিএম রাহত’ প্রকল্পে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার অনুমোদন, ‘লাখপতি দিদি’ প্রকল্পের লক্ষ্য ২০২৯ সালের মধ্যে ৬ কোটিতে উন্নীত করা, কৃষি অবকাঠামো তহবিল দ্বিগুণ করে ২ লক্ষ কোটি টাকা করা এবং স্টার্টআপ ইন্ডিয়া ফান্ড অব ফান্ডস ২.০-র জন্য ১০,০০০ কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা - এই সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১০০ টাকার একটি স্মারক মুদ্রাও প্রকাশ করেন তিনি।
বর্তমান পিএমও যেখানে ছিল, নর্থ ও সাউথ ব্লক - সেগুলি খালি হলে সেখানে গড়ে তোলা হবে ‘যুগে যুগীন ভারত সংগ্রহালয়’ নামে একটি জনসাধারণের জাদুঘর। এ জন্য ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর ফ্রান্সের মিউজিয়াম ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার চুক্তি সই হয়েছে।
প্রশাসনিক কাঠামোকে আধুনিক ও সমন্বিত রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে এই স্থানান্তরকে কেন্দ্র বড় মাইলফলক হিসেবেই তুলে ধরছে।