পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিশদে আলোচনা হয়েছে দুই দেশের শীর্ষনেতার মধ্যে। ইরান–আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ায় অঞ্চলের বহু মার্কিন ও ইজরায়েলি ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চলছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 28 March 2026 21:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির (West Asia Conflict) এক মাস পেরিয়ে গেছে। এই সময় নতুন করে চড়ছে উত্তেজনার পারদ। ইরানে ইজরায়েলি হামলা (Iran Israel War), পাল্টা আরব দুনিয়ায় (Middle East Tension) আঘাত হানছে তেহরান (Tehran)। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ফোনে কথা বললেন সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ বিন সলমনের (Mohammed bin Salman) সঙ্গে। অঞ্চলের দ্রুত বদলে যাওয়া নিরাপত্তা পরিস্থিতি, জ্বালানি পরিবহণের সঙ্কট এবং হরমুজ প্রণালীর (Hormuz Pronali) বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব- সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে, সেই প্রেক্ষিতেই এই আলোচনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ফোনালাপের বিষয়বস্তু মোদী নিজেই এক্স পোস্টে জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিশদে আলোচনা হয়েছে দুই দেশের শীর্ষনেতার মধ্যে। ইরান–আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ায় অঞ্চলের বহু মার্কিন ও ইজরায়েলি ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চলছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কাতার, ইরাক- এই সব দেশগুলির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিকাঠামোও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণের আওতায় এসেছে। এই হামলাগুলির তীব্র নিন্দা করেছেন তিনি এবং সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ফোনালাপে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
تحدثتُ مع صاحب السمو الملكي الأمير محمد بن سلمان بن عبدالعزيز آل سعود، ولي العهد ورئيس مجلس الوزراء السعودي، وناقشنا الصراع الدائر في غرب آسيا.
وجددتُ التأكيد على إدانة الهند للهجمات التي تستهدف البنية التحتية الإقليمية للطاقة.
واتفقنا على ضرورة ضمان حرية الملاحة، وإبقاء خطوط…— Narendra Modi (@narendramodi) March 28, 2026
সবচেয়ে বড় সঙ্কট তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) ঘিরে। যুদ্ধ শুরু হতেই ইরান কার্যত এই সমুদ্রপথ ‘অবরুদ্ধ’ করে রেখেছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহণের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে হয়। ভারতও পশ্চিম এশিয়া থেকে আমদানি করা তেল–গ্যাসের ওপর যথেষ্ট নির্ভরশীল। ফলে পথ বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ তীব্রভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং এর প্রভাব ভারতের আমদানি ব্যয়ে পড়ছে। মোদী বলেন, নৌপরিবহণের পথ নিরাপদ ও সচল রাখা প্রয়োজন- এই বিষয়ে সৌদি যুবরাজও তাঁর মতোই একমত। দু’জনেই মনে করেন, জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন জরুরি।
ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কয়েক লক্ষ ভারতীয় কর্মরত। যুদ্ধ বাড়ায় তাঁদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সৌদিতে বসবাসকারী ভারতীয়দের জন্য সৌদি সরকারের সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন এবং যুবরাজকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি নাকি আমেরিকার সঙ্গে মিলিত হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমনকি, নিজেদের বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতিও আমেরিকাকে দিয়েছে বলে শোনা যায়। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
এরই মধ্যে ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কয়েকটি ‘বন্ধু’ দেশকে ছাড় দেওয়া হয়েছে, যার তালিকায় রয়েছে ভারতও। ফলে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা যেমন বাড়ছে, তেমনই রাষ্ট্রনেতাদের কূটনৈতিক কথোপকথন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টায় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।