যুদ্ধবিধ্বস্ত ওই অঞ্চল থেকে ভারতের খনিজ তেল ও গ্যাসের সিংহভাগ আমদানি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরবরাহ ব্যবস্থা যাতে কোনও ভাবেই ব্যাহত না হয়, সে দিকে নজর রাখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 23 March 2026 14:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ার (Middle East War) সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা (India’s energy reserves) নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। সোমবার সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও যাতে দেশের তেল ও গ্যাসের জোগানে কোনও ঘাটতি না হয়, তার জন্য সব রকম চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্র। ভারতের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে জ্বালানি যে এক অপরিহার্য স্তম্ভ, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, আরব দুনিয়ার দেশগুলির সঙ্গেই ভারত নিরন্তর যোগাযোগ বজায় রাখছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত ওই অঞ্চল থেকে ভারতের খনিজ তেল ও গ্যাসের সিংহভাগ আমদানি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরবরাহ ব্যবস্থা যাতে কোনও ভাবেই ব্যাহত না হয়, সে দিকে নজর রাখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন, “আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি যাতে সাধারণ মানুষের রান্নার গ্যাস কিংবা পেট্রল-ডিজেলের সরবরাহে কোনও প্রভাব না পড়ে। ভারত তার এলপিজি-র চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে মেটায়। বিশ্ববাজারে সরবরাহের এই অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আমরা দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি ঘরোয়া চাহিদাকেই সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।”
এদিনের বক্তৃতায় হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া ভারতীয় জাহাজগুলির প্রসঙ্গও উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রী জানান, ওই পথে আটকে থাকা বেশ কিছু জাহাজকে সুরক্ষিতভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “আমাদের মূল লক্ষ্য হল সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সমস্যা কমানো। পেট্রল ও ডিজেলের জোগান স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্র প্রতি মুহূর্তে কাজ করছে।”
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের আবহে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, বিদেশে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক ও জনসম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং গভীর।
সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের সহায়তায় কূটনৈতিক মিশনগুলি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলেও জানান মোদী। ইতিমধ্যেই ছাত্রছাত্রী-সহ তিন লক্ষেরও বেশি ভারতীয় দেশে ফিরেছেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও, একাধিক দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে জানিয়ে মোদী বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলি তাদের ভূখণ্ডে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে।