মুম্বইয়ের কবুতরখানা ও দিল্লির পথকুকুরের উৎপাত বন্ধে বম্বে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের সমর্থন করল মহারাষ্ট্রের বিরোধী জোট মহাবিকাশ আঘাড়ির শরিক দল উদ্ধবপন্থী শিবসেনা।

পায়রা ও পথকুকুর মানুষের জীবনের উপর বিপজ্জনক হুমকির মতো।
শেষ আপডেট: 13 August 2025 15:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বইয়ের কবুতরখানা ও দিল্লির পথকুকুরের উৎপাত বন্ধে বম্বে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের সমর্থন করল মহারাষ্ট্রের বিরোধী জোট মহাবিকাশ আঘাড়ির শরিক দল উদ্ধবপন্থী শিবসেনা। বুধবার শিবসেনার মুখপত্র ‘সামনা’র সম্পাদকীয়তে যা লেখা হয়েছে, তাতে খুশি ও সুবিধা হওয়ার কথা বিরোধী দল বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহায়ুতি জোটের। কারণ, এদেশের সাধারণ ধারা হল, সরকার যা করবে তার বিরোধিতা করা। কিন্তু, উদ্ধব ঠাকরের দল আচমকা সরকারের দুরূহ কাজে পাশে দাঁড়ানোয় রাজনৈতিক মহলেও স্বস্তি ও খুশির হাওয়া বইছে।
সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, পায়রা ও পথকুকুর মানুষের জীবনের উপর বিপজ্জনক হুমকির মতো। এর উপর ধর্মীয় ভাবাবেগ চাপিয়ে দেওয়া ভুল। প্রতিবছর হাজার হাজার লোক পথ ও রেল দুর্ঘটনায় মারা পড়ছেন। কিন্তু তাঁদের জন্য সরকার কিংবা যাঁরা ভূতপ্রেতের দয়ায় বিশ্বাস করেন, তাঁরা কোনওদিন এই মানুষগুলির প্রতি এতটুকু সহানুভূতি দেখাননি। মানুষ মরে মরুক, কিন্তু কুকুর ও পায়রা যেন বেঁচে থাকে। এটাই জীবনের নতুন মন্ত্র হয়ে উঠেছে। গত ১০ বছর ধরে এই বৈষম্য শুরু হয়েছে।
উদ্ধবসেনার আরও অভিযোগ, একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় (জৈন) পায়রাদের খাওয়ানোর প্রথা বজায় রাখতে আদালতের নির্দেশ অমান্য করতে তৈরি হয়ে গিয়েছে। তারা হাতে অস্ত্র তুলে নিতেও প্রস্তুত বলে ঘোষণা করেছে। কিন্তু মহাবীরের ভাবনায় কোনওদিনই হিংসার স্থান ছিল না। হিন্দুধর্মেও কোথাও লেখা নেই যে, সরকারি খাদ্যশস্যের ৫ কিলো খাবার খাওয়াতে হবে। তারা যদি মানুষকে কামড়ায় তাও সই।
সম্পাদকীয়তে আরও লেখা হয়েছে, খেতে না পেয়ে, ঋণের ভারে মানুষ মরছে, আত্মহত্যা করছে। কত অসুখে লোক প্রাণ হারাচ্ছে। কিছু মানুষ সেই ভাইবোনদের দুর্দশার দিকে তাকাচ্ছে না। তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছে কেবল কুকুর-বিড়াল, পায়রার জন্য। উদ্ধবসেনার আরও মন্তব্য শুধু দিল্লি নয়, গোটা দেশেই পথকুকুরের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। মুম্বইয়ে পায়রাকে খাওয়ানোর প্রতিবাদকে সাহসী কাজ বলে উল্লেখ করে সামনা লিখেছে, কিন্তু একটি ধর্মের মানুষ তাঁদের অন্ধবিশ্বাসে ভর করে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তাঁরা এখন অস্ত্র তুলে ধরার হুমকি দিচ্ছেন। সুপ্রিম কোর্টও বলেছে, পায়রা মানবস্বাস্থ্যের পক্ষে হানিকর। তাদের জলপানি দেওয়া চলবে না। কবুতরখানাগুলি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
উদ্ধবসেনার এই সম্পাদকীয়তে রাজনৈতিক দিক থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে, বৃহন্মুম্বই পুরসভাকে শহর থেকে কবুতরখানা সরাতে এবং দিল্লিকে পথকুকুর মুক্ত করতে বিজেপির তিন ইঞ্জিন সরকারকে তেমন একটা বেগ পেতে হবে না। অন্তত উদ্ধব ঠাকরে পন্থী শিবসেনা আদালতের নির্দেশকে সমর্থন দেওয়ায় বড় স্বস্তি মিলেছে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের শিবিরে। অন্যদিকে, মারাঠি অস্মিতা বা মারাঠি গরিমা তুলে ধরতে জৈন বিরোধী পালতোলা নৌকাতেও হাওয়া ভরে দিলেন উদ্ধবপন্থীরা। কারণ ব্রিটিশ আমল থেকেই ব্যবসা সূত্রে দলে দলে গুজরাতিরা এসে মুম্বইয়ে স্থায়ী আস্তানা গেড়েছেন। রাজস্থানি ও গুজরাতিদের আধিপত্য খুবই প্রভাবশালী সমগ্র মহারাষ্ট্রেই। সেদিক দিয়েও জৈনদের সরাসরি কাঠগড়ায় তুলে সরকারকে নির্ভাবনায় রাখল অন্যতম বিরোধী দল উদ্ধবপন্থী শিবসেনা।
প্রসঙ্গত, কবুতর (পায়রা) বাঁচাতে প্রয়োজনে অস্ত্র ধরবেন অহিংসার পূজারী জৈনরা। জৈন সন্ন্যাসী মুনি নীলেশচন্দ্র বিজয় এই হুমকি দিয়েছেন। মুম্বইয়ের দাদর কবুতরখানা বন্ধ করার প্রতিবাদে ১৩ অগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন আন্দোলন শুরু হবে বলেও সরকারকে সতর্ক করে দেন বিজয়। মুম্বইয়ের বিভিন্ন জায়গায় পায়রাদের সাধারণ মানুষ দানাপানি দেন। অথচ, সেই পায়রার বিষ্ঠা থেকে মানুষের মধ্যে দেখা দেয় শ্বাসকষ্ট, হাঁপানির মতো প্রাণঘাতী অসুখ। সে কারণে আদালতের নির্দেশে কবুতরখানা বন্ধ করেছে বৃহম্মুম্বই পুরসভা। তারই প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন জৈন সন্ন্যাসী।
পায়রাদের খাবার খাওয়ানো জৈন ধর্মের একটি প্রাচীন ধর্মীয় প্রথা। দেশ জুড়ে জৈন ধর্মাবলম্বীরা নিষ্ঠার সঙ্গে এই অনুশাসন মেনে এসেছেন। নীলেশচন্দ্র সেকথা তুলে ধরে বলেন, জৈন সম্প্রদায় আদালতের নির্দেশ অমান্য করবে। যদি আমাদের ধর্মীয় প্রথার বিরুদ্ধে আদালত রায় দিয়ে থাকে, আমরা তার বিরুদ্ধে যাব, বলেন তিনি। সেই উপলক্ষে দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে উঠবে। তিনি বলেন, জৈনরা শান্তি চান। কিন্তু, যদি প্রয়োজন পড়ে, তাহলে ধর্মরক্ষায় জৈনরা অস্ত্র হাতে তুলে নিতেও পারেন।