বুধবার পথকুকুর সরিয়ে ফেলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালতে জমা পড়া একটি আবদেনে সাড়া দিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি গাভাই।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 13 August 2025 12:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পথকুকুর নিয়ে দিল্লি ও লাগোয়া পুরসভাগুলিকে সুপ্রিম কোর্টের কঠোর নির্দেশের প্রেক্ষিতে দেশজুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক শিবির থেকে বলিউড পাড়াও ‘পথকুকুর নিকেশের’ এই পদ্ধতির সমালোচনায় মুখর হয়েছে। মঙ্গলবার বলি অভিনেতা জন আব্রাহাম দেশের প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাইকে একটি খোলা চিঠিতে ‘দিল্লিবাসী’ কুকুরদের প্রতি সহানুভূতি প্রার্থনা করে আর্জি জানিয়েছিলেন। বুধবার পথকুকুর সরিয়ে ফেলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালতে জমা পড়া একটি আবদেনে সাড়া দিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি গাভাই।
এদিন প্রধান বিচারপতির এজলাসে জমা পড়া আবেদন দেখে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, আমি বিষয়টি দেখব। উল্লেখ্য, সোমবার পথকুকুর নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করে সুপ্রিম কোর্ট। দিল্লি ও ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিওনের (NCR) পুরসভাকে রাস্তার সমস্ত কুকুরকে ধরার নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। শুধু তাই নয়, এই সব কুকুরকে নির্বীজকরণ করে স্থায়ীভাবে তাদের খোঁয়াড়ে পাঠানোর কথাও বলে দিয়েছে। কঠোরভাবে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, এই নির্দেশের যেন অন্যথা না হয় এবং যথাযথভাবে পালন করা হয়। সর্বোচ্চ আদালত পশুপ্রেমীদের সতর্ক করে দিয়ে আরও বলেছে, যদি কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন এই কাজে বাধা দেয়, তাহলে তার বা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।
বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং আর মাধবনের বেঞ্চ এদিন বলেছে, এনসিটি দিল্লি, এমসিডি, এনএমডিসি (বিভিন্ন পুর কর্তৃপক্ষ) যেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রাস্তা থেকে সমস্ত কুকুরকে পাকড়াও করে। এই কাজ কী করে করা হবে এবং যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আলাদা বাহিনী গঠন করতে হবে। কিন্তু, যত দ্রুত সম্ভব তা করতে হবে। সমস্ত পাড়াকে পথকুকুর মুক্ত করতে হবে, এটাই প্রথম কাজ হবে পুর কর্তৃপক্ষগুলির। আদালত জোর দিয়ে বলেছে, রাস্তাঘাটকে পথকুকুর মুক্ত করার কাজে কোনও আপস চলবে না।
একটি মামলার শুনানি শেষে আদালত বলে, যদি কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন এই কাজের পথে বাধা সৃষ্টি করে। যেমন কুকুর ধরার সময় বাধা দেয় এবং তাদের লুকিয়ে রাখে। এ ধরনের ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। পুর কর্তৃপক্ষগুলিকে এই কাজে আট সপ্তাহ সময় দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে কুকুরদের জীবন সুরক্ষার আর্জিতে দেশজোড়া পশুপ্রেমীদের মনে ভরসা জুগিয়ে প্রধান বিচারপতি কথা দেন, আমি বিষয়টি দেখব। আর তাতেই আপাতত হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন লাখে লাখে পশুপ্রেমীরা।