জানা গেছে, শেখর দাবি করতেন তিনি শুধু কারও মুখের দিকে তাকিয়েই তার ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারেন। কৌতূহলবশত তাঁর কাছে গিয়ে নিজের ভাগ্য গণনা করতে বলেন সত্যনারায়ণ। তখন জ্যোতিষী দাবি করেন, তাঁর জীবনে নাকি কঠিন সময় চলছে এবং তা কাটাতে বিশেষ এক পূজা বা আচার করতে হবে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 12 March 2026 15:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টিয়া পাখি দিয়ে ভাগ্য গণনা করতে গিয়ে জ্যোতিষীর কথায় বিশ্বাস করেছিলেন তিনি (Bengaluru parrot astrologer fraud)। 'কঠিন সময়' কাটাতে গিয়ে আরও বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লেন বেঙ্গালুরুর এক আয়কর দফতরের কর্মী (income tax officer cheating case Bengaluru)। অভিযোগ, ওই জ্যোতিষী তাঁর কাছ থেকে সোনা-রুপোর গয়না এবং নগদ মিলিয়ে ৩১ লক্ষ টাকারও বেশি নিয়ে উধাও হয়ে গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারিত ব্যক্তির নাম ভি সত্যনারায়ণ। তিনি আয়কর দফতরের একজন নন-গেজেটেড সরকারি কর্মী। এই ঘটনায় তিনি ভারতীনগর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছে News18।
অভিযুক্ত জ্যোতিষীর নাম শেখর। অভিযোগ, তিনি রাস্তার ধারে বসে টিয়া পাখি দিয়ে ভাগ্য গণনা করতেন, যাকে স্থানীয়ভাবে ‘গিলি শাস্ত্র’ বা প্যারট অ্যাস্ট্রোলজি (parrot astrology) বলা হয়।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রথমবার সত্যনারায়ণের সঙ্গে দেখা হয় ওই জ্যোতিষীর। ঘটনাটি ঘটেছে ২০২৫ সালের বড়দিনের সময় থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের ৪ মার্চের মধ্যে, বেঙ্গালুরুর ভারতীনগর এলাকার সেন্ট জনস রোডের কাছে, শ্রী সার্কেল সংলগ্ন এলাকায়।
কঠিন সময় চলছে’, শুরু প্রতারণার ফাঁদ
জানা গেছে, শেখর দাবি করতেন তিনি শুধু কারও মুখের দিকে তাকিয়েই তার ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারেন। কৌতূহলবশত তাঁর কাছে গিয়ে নিজের ভাগ্য গণনা করতে বলেন সত্যনারায়ণ। তখন জ্যোতিষী দাবি করেন, তাঁর জীবনে নাকি কঠিন সময় চলছে এবং তা কাটাতে বিশেষ এক পূজা বা আচার করতে হবে। এর জন্য তিনি ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এক সপ্তাহ পরে ওই আয়কর কর্মী সেই টাকা দেন।
এরপর শেখর দাবি করেন যে, আচার সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তিনি জানান, আরও শক্তিশালী একটি আচার করতে হবে যাতে সত্যনারায়ণের কর্মজীবনে উন্নতি এবং পদোন্নতি হয়।
বদলির সমস্যার সুযোগ নেয় অভিযুক্ত
প্রথমে ওই সরকারি কর্মী এই প্রস্তাব মানতে রাজি হননি। পরে অফিসে একটি ঝুলে থাকা বদলি নিয়ে সত্যনারায়ণ যখন আবার জ্যোতিষীর কাছে যান, তখন শেখর আবারও বড় আচার করার পরামর্শ দেন।
এবার তিনি বলেন, আচার সম্পন্ন করার জন্য সত্যনারায়ণকে বাড়ির সমস্ত সোনা ও রুপোর গয়না নিয়ে আসতে হবে। আচার শেষে সব কিছু ফেরত দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি, পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে সত্যনারায়ণ প্রায় ১৯৪ গ্রাম সোনার গয়না ওই জ্যোতিষীর হাতে তুলে দেন। এর মধ্যে ছিল একটি নেকলেস, কানের দুল এবং একটি ব্রেসলেট। এছাড়া তিনি প্রায় ১.৩ কেজি রুপোর গয়নাও শেখরের হাতে দেন।
জ্যোতিষী তখন বলেন, আচার সম্পন্ন করার জন্য সময় লাগবে এবং পরের দিন এসে সব গয়না নিয়ে যেতে।
পরে শুরু হয় টালবাহানা
যখন সত্যনারায়ণ তাঁর গয়না ফেরত চাওয়ার জন্য চাপ দিতে শুরু করেন, বাহান দিতে শুরু করেন শেখর। বারবার বলতে থাকেন যে আচার এখনও চলছে। পরে একটা সময় পর অভিযুক্ত ফোন ধরা বন্ধ করে দেয়। অভিযোগ, তিনি সত্যনারায়ণ এবং তাঁর পরিবারকে হুমকিও দেন।
এরপর বাধ্য হয়ে ওই আয়কর কর্মী পুলিশের দ্বারস্থ হন।
পলাতক অভিযুক্ত, খোঁজে পুলিশ
অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক। তাকে খুঁজে বের করতে তল্লাশি শুরু হয়েছে এবং দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।