শ্রীনগরের নওগাম থানায় বিস্ফোরণে নিহত দর্জি মহম্মদ শফি পুলিশের কাজে সাহায্য করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 16 November 2025 10:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরে নওগাম থানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৫৭ বছর বয়সী দর্জি মহম্মদ শফি, যিনি পুলিশের কাজে সাহায্য করতে থানায় গিয়েছিলেন। জানা যাচ্ছে, হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে বাজেয়াপ্ত করা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মতো বিপজ্জনক বিস্ফোরক ছোট ছোট ব্যাগে ভরে মজুত করার জন্য পুলিশকর্মীরা তাঁকে ডেকে এনেছিলেন।
নওগামের পরিচিত দর্জি মহম্মদ শফি পুলিশকর্মীদের অনুরোধে দিনরাত এক করে থানাতেই সেই ব্যাগ সেলাইয়ের কাজ করছিলেন। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, খাওয়ার জন্য একবার বাড়ি ফেরার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।
পরিবারের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে খাওয়ার পর শফি যখন আবার থানায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন তাঁর কন্যা তাঁকে বাইরে ঠান্ডার কথা বলে বারবার বারণ করেছিলেন। কিন্তু কাজ শেষ না হলে ছুটি নেই জানিয়ে প্রৌঢ় দর্জি বলেন, তাঁকে ফিরতেই হবে। এটাই ছিল তাঁর শেষ কথা।
শফির এক আত্মীয়ের বর্ণনায় উঠে আসে সেই রাতের ভয়াবহতা। তাঁরা বিস্ফোরণের শব্দ শুনে থানায় ছুটে যান। কিন্তু ততক্ষণে পুরো থানাটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল দেহাংশ। কয়েক ঘণ্টা খোঁজার পর ধ্বংসস্তূপের এক কোণ থেকে প্রৌঢ় দর্জির ছিন্নভিন্ন দেহ খুঁজে বের করা সম্ভব হয়।
শফিই ছিলেন তিন সন্তানের সংসারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যুতে গোটা পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা নওগামের ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন।
তবে শফির পরিবার প্রশ্ন তুলেছে, যিনি পুলিশকে সাহায্য করতে গিয়ে প্রাণ দিলেন, তাঁর পরিবারের জন্য সরকার কেন পুলিশকর্মীর মতো করে সংসার চালানোর স্থায়ী সাহায্য করবে না? এক আত্মীয়ের কথায়, "যদি উনি পুলিশকর্মী হতেন, ওঁর পরিবারকে সংসার চালানোর জন্য চিন্তা করতে হত না।" পাশাপাশি, বসতি এলাকার মধ্যে থানা এবং সেখানে এত বিপজ্জনক পদার্থ মজুত রাখা নিয়েও শফির পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।