রবিবার দিল্লিতে এক সিন্ধি সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানে রাজনাথ জানান, সিন্ধু পাকিস্তানের অংশ হলেও সভ্যতাগতভাবে তা ভারতেরই অঙ্গ। এই নিয়েই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

কড়া প্রতিক্রিয়া ইসলামাবাদের
শেষ আপডেট: 24 November 2025 12:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তান ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে “বিভ্রমমূলক”, “বিস্তারবাদী” এবং “আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন (violation of international law)” বলে কড়া ভাষায় সমালোচনা করল। সোমবার এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক জানায়, সিন্ধ অঞ্চল ভারতের অংশ হয়ে যেতে পারে, এমন মন্তব্য রাষ্ট্রসঙ্ঘ স্বীকৃত সীমান্ত, আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে।
পাকিস্তান সরকারের অভিযোগ, রাজনাথ সিংয়ের মন্তব্য “পুনর্বিবেচনাবাদী, হিন্দুত্ব বিস্তারবাদী মানসিকতা” তুলে ধরে, যা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্যের নিন্দা জানায়। স্বীকৃত সীমান্তের অখণ্ডতাকে চ্যালেঞ্জ করার প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে বলেও দাবি করে।
ইসলামাবাদের বক্তব্য, এমন উত্তেজনাপূর্ণ মন্তব্য এড়িয়ে চলা উচিত ভারতের। তারা পরামর্শ দেয়, ভারত যেন নিজের দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার বিষয়ে বেশি মনোযোগ দেয়।
কী মন্তব্য করেছিলেন রাজনাথ সিং?
রবিবার দিল্লিতে এক সিন্ধি সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানে রাজনাথ জানান, আজ সিন্ধু পাকিস্তানের অংশ হলেও সভ্যতাগতভাবে তা ভারতেরই অঙ্গ। তিনি বলেন, “সিন্ধু উপত্যকার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ভারতের সঙ্গে অটুট। রাজনৈতিক সীমান্ত বদলায়, ভবিষ্যতে কী হবে বলা যায় না। কে জানে, আগামী দিনে সিন্ধু ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাবে না।”
রাজনাথ সিং আরও বলেন, 'সিন্ধু নদ অনেক সিন্ধি হিন্দুর কাছে পবিত্র এবং এল কে আদবানির প্রজন্ম এখনও ১৯৪৭ সালের দেশভাগে সিন্ধুর ওপারে চলে যাওয়ার কষ্ট ভুলতে পারেনি। এ নদের জল যে মু তিনি জানান, আব-এ-জমজমের মতোই সিন্ধ অঞ্চলের বহু মুসলিম সিন্ধু নদীর জলকে পবিত্র বলে মনে করতেন।'
ইসলামাবাদ জবাবে স্পষ্ট করে দেয়, সিন্ধু প্রদেশ পাকিস্তানের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এ নিয়ে কোনও বক্তব্যই তারা মেনে নেবে না। পাকিস্তানের মতে, ভারতের মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
সম্প্রতি মরক্কোতে ভারতীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে দেখা করে রাজনাথ সিং আরও দাবি করেছিলেন, পাক অধিকৃত কাশ্মীর বা PoK কোনও আগ্রাসন ছাড়া “নিজে থেকেই” ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইছে, কারণ সেখানকার জনগণ ইতিমধ্যেই দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেছে। সেবিষয়ও প্রতিক্রিয়া দেয় ভারত।