Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতার

মায়ের স্বাস্থ্যবিমায় বছরে ৫০ হাজার টাকা প্রিমিয়াম, অসুখে মিলল লবডঙ্কা, কী করতে পারেন আপনি?

ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, তিনি নিয়মিত প্রিমিয়াম দিতেন। মায়ের চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তিনি লখনউয়ের (Lucknow) স্টার হেলথ অ্যান্ড অ্যালায়েড ইনস্যুরেন্স (Star Health and Allied Insurance)-এর অফিসে যান। অভিযোগ, তাঁকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয় এবং শেষে ক্লেম নাকচ করে দেওয়া হয়।

মায়ের স্বাস্থ্যবিমায় বছরে ৫০ হাজার টাকা প্রিমিয়াম, অসুখে মিলল লবডঙ্কা, কী করতে পারেন আপনি?

কল্পিত ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি করা।

শুভেন্দু ঘোষ

শেষ আপডেট: 16 February 2026 11:46

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক ছেলে প্রতি বছর মায়ের স্বাস্থ্যবিমার (health insurance) প্রিমিয়াম হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে দিতেন। বিশ্বাস ছিল— মায়ের অসুখবিসুখে এই পলিসিই তাঁর পাশে দাঁড়াবে। সুচিকিৎসায় আর্থিকভাবে কাজে আসবে। কিন্তু মা অসুস্থ হওয়ার পর বিমা সংস্থার অফিস থেকে বিরস মুখে তাঁকে ফিরতে হয়। তিনি খালি হাতে ফিরে আসেন কোনও টাকা না পেয়েই। সঙ্গে তীব্র হতাশা আর আর্থিক ধাক্কা খেয়ে। এক্স (X)-এ তাঁর সেই পোস্ট এখন বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে— স্বাস্থ্যবিমা কিনলেই কি পারিবারিক স্বাস্থ্য-সুরক্ষা নিশ্চিত, নাকি আসল লড়াই শুরু হয় দাবি বা ক্লেম (claim) করার সময়?

ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, তিনি নিয়মিত প্রিমিয়াম দিতেন। মায়ের চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তিনি লখনউয়ের (Lucknow) স্টার হেলথ অ্যান্ড অ্যালায়েড ইনস্যুরেন্স (Star Health and Allied Insurance)-এর অফিসে যান। অভিযোগ, তাঁকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয় এবং শেষে ক্লেম নাকচ করে দেওয়া হয়। আরও অভিযোগ, সেখানে এক এজেন্ট তাঁকে বলেছিলেন— হামসে পুছকর পলিসি থোড়ি লি থি (আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে তো পলিসি নেননি)।

পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, প্রিমিয়াম নেওয়ার সময় বিমা সংস্থাগুলো এত কড়াকড়ি করে, কিন্তু টাকা দেওয়ার বেলায় এত আপত্তি কেন? তাহলে কি স্বাস্থ্যবিমা এখন বাস্তব সুরক্ষা নয়, শুধু কাগজের প্রতিশ্রুতি (paper promise)? এই পোস্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। বহু মানুষ নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন— সকলেরই প্রায় কমবেশি একই রকম ক্ষোভ, হতাশা আর অসহায়তার গল্প।

জনরোষে বিমা সংস্থার ভূমিকা প্রশ্নের মুখে

একজন লেখেন, বিমা সংস্থার “একমাত্র কাজ টাকা তোলা”— মানুষকে শুধু ভুল বোঝানো হয়। কেউ আবার সরকারি কর্তৃপক্ষকে ট্যাগ করে হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। আরেকজন বলেন, তিনি প্রায় আট বছর ধরে বছরে ৮০ হাজার টাকা করে প্রিমিয়াম দিচ্ছেন— ক্লেমের সময় তাঁরও কি এমন পরিস্থিতি হবে? কিছু লোকের মন্তব্য আরও কড়া— কঠোর নিয়ন্ত্রণ, আদালতের হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছেন তাঁরা। বেশিরভাগ প্রতিক্রিয়াতেই ফুটে উঠেছে ভয়, রাগ আর অবিশ্বাস। এটা আর শুধু এখন একটি পরিবারের অভিজ্ঞতায় আটকে নেই। প্রশ্নটা এখন অনেক বড়—প্রিমিয়াম দিলে কি সত্যিই সুরক্ষা পাওয়া যায়?

স্টার হেলথের জবাব

স্টার হেলথ পোস্টের নীচে প্রকাশ্যে জবাব দিয়েছে। তারা জানায়, ক্লেমের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নথিভুক্ত তথ্য (documented disclosures) ও যাচাই করা মেডিক্যাল রেকর্ডের ভিত্তিতে। যদি যাচাইয়ের সময় “গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন” (material non-disclosure) ধরা পড়ে, তাহলে নীতিমালা ও নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া বাধ্যতামূলক। সংস্থাটি আরও বলে, ক্লেম সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ ও অভিযোগ জানানোর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে, যাতে ন্যায়বিচার বজায় থাকে। তবে অফিসের আচরণ বা এজেন্টের মন্তব্য নিয়ে তারা কিছু বলেনি।

বিমা কেনা বনাম টাকা পাওয়া

স্বাস্থ্যবিমা মূলত এক ধরনের চুক্তি। পলিসি কেনার সময় গ্রাহককে নিজের সমস্ত মেডিক্যাল তথ্য সঠিকভাবে জানাতে হয়। কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য না জানালে, সেই ভিত্তিতে পরে ক্লেম বাতিল করা যেতে পারে। এই বিষয়টাই পরিচিত “মেটেরিয়াল নন-ডিসক্লোজার” নামে। কিন্তু বাস্তবে বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায়, মানুষ এজেন্টকে মুখে সব জানিয়েছেন, কিন্তু সেই তথ্য ঠিকভাবে ফর্মে লেখা হয়নি। পরে ক্লেমের সময় বিমা সংস্থা কেবল কাগজের দিকটাই দেখে। মুখে বলা আর লিখিত নথির এই ফারাকই সবচেয়ে বড় ঝামেলার জায়গা।

যাঁরা অসুস্থতা আর হাসপাতালের দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকেন, তাঁদের কাছে এই প্রযুক্তিগত নিয়ম খুব দুর্বিষহ ঠেকে। প্রিমিয়াম দেওয়া একটা নিয়মিত অভ্যাস— প্রতি বছর রুটিনের মতো। কিন্তু ক্লেম আসে জীবনের সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তে। তখন টাকা না পেলে সেটা শুধু আর্থিক আঘাত নয়। প্রিয়জনের চিকিৎসার টেনশন, হাসপাতালের বিল— সব মিলিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই এমন পোস্ট এত দ্রুত মানুষের মনে ছাপ ফেলে দেয়। ভয়টা সোজাসাপ্টা— “আমার সঙ্গেও যদি এমন হয়?”

পলিসিধারীরা কী করতে পারেন

ক্লেম বাতিল হলে কয়েকটা পথ খোলা থাকে। লিখিতভাবে কারণ জানতে চাওয়া যায়, কোন ধারা অনুযায়ী ক্লেম কাটা হল, তা জানতে হবে। সংস্থার ভিতরেই গ্রিভ্যান্স (grievance) জমা দেওয়া যায়। তাতেও কাজ না হলে ইন্স্যুরেন্স ওম্বাডসম্যান বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে অভিযোগ করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে পরে সমাধান হয় ঠিকই, কিন্তু প্রক্রিয়াটা সময়সাপেক্ষ আর মানসিকভাবে ক্লান্তিকর।

ভারতে স্বাস্থ্যবিমার বিস্তার এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। বিমা সংস্থার যুক্তি— জালিয়াতি আর তথ্য গোপন করলে সবার জন্য ঝুঁকি বাড়ে, প্রিমিয়ামও বাড়ে। আর গ্রাহকদের বক্তব্য— আসল ক্লেম অনেক সময় কাগুজে যুক্তিতে কেটে দেওয়া হয়। স্টার হেলথকে ঘিরে বর্তমান বিতর্ক আসলে এই দ্বন্দ্বটাই সামনে এনেছে। ওই পরিবারের কাছে প্রশ্নটা কোনও চুক্তির ভাষা নয়। প্রশ্নটা প্রত্যাশার বছরের পর বছর টাকা দিয়েছেন এই ভেবে— বিপদে অন্তত আর্থিক ভরসা থাকবে।


```