কেরলে রবিবার হৃদয়বিদারক এক বিদায় (farewell) জানানো হল ১০ মাসের শিশু আলিন শেরিন আব্রাহামকে (Aalin Sherin Abraham)। কেরলের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ অঙ্গদাতা (youngest organ donor)। তার শেষকৃত্য (funeral) অনুষ্ঠিত হয় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় (state honours)।
.jpeg.webp)
আলিন শেরিন আব্রাহাম।
শেষ আপডেট: 16 February 2026 11:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জীবনের কাছে মৃত্যু চিরকালই হেরে যায়। কিন্তু, এমনও মৃত্যু থাকে, যার দিকে চোখে চোখ রাখতে লজ্জা পায় জীবনও। সেই মৃত্যুর একটি স্পন্দন থাকে। যা শুধু সেই দেহের ভিতরে থেমে গিয়ে যাওয়ার আগে স্পন্দিত করে দেয় আরও বেশ কয়েকটি জীবনকে। একইসঙ্গে সেই স্পন্দনে জেগে ওঠে এক নতুনের জীবনরেখা। উজ্জ্বলতর দৃষ্টান্তের মহতী উদ্ভাস। ঠিক সেরকই একটি মৃত্যুর মুখোমুখি হল কেরল রাজ্য একা নয়, গোটা দেশ, বলা ভাল তামাম দুনিয়া।
কেরলে রবিবার হৃদয়বিদারক এক বিদায় (farewell) জানানো হল ১০ মাসের শিশু আলিন শেরিন আব্রাহামকে (Aalin Sherin Abraham)। কেরলের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ অঙ্গদাতা (youngest organ donor)। তার শেষকৃত্য (funeral) অনুষ্ঠিত হয় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় (state honours)। মৃত্যুর কয়েক দিনের মধ্যেই তার অঙ্গদানে (organ donation) নতুন জীবন (new lease of life) পেয়েছে পাঁচজন গুরুতর অসুস্থ শিশু।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন (Pinarayi Vijayan) এই সিদ্ধান্তকে অভিহিত করেন মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত (monumental act of compassion) হিসেবে। অভিনেতা কমল হাসান (Kamal Haasan) পরিবারকে লেখা এক আবেগঘন বার্তায় বলেছেন, আলিন এখন পাঁচটি জীবনের মধ্যে বেঁচে থাকবে।
পাঠানামথিট্টার (Pathanamthitta) একটি গির্জার সামনে পুলিশের তরফে গার্ড অব অনার (guard of honour) প্রদান করা হয়। শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ (Veena George) এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুরেশ গোপী (Suresh Gopi)। কান্না চাপতে না পেরে চোখ ভেজান শত শত শোকাহত মানুষ। সরকার এই সম্মান জানিয়েছে শিশুটির প্রতি শ্রদ্ধা (mark of respect) এবং তার বাবা-মায়ের সাহসী সিদ্ধান্তের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে।

আলিন এই মাসের শুরুতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় (fatal road accident) গুরুতর জখম হয়। মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, অকল্পনীয় যন্ত্রণার মধ্যেও বাবা-মা অরুণ আব্রাহাম (Arun Abraham) ও শেরিন অ্যান জন (Sherin Ann John) সন্তানের অঙ্গদান করার সিদ্ধান্ত নেন। এর মধ্য দিয়ে আলিন পাঁচটি জীবনকে নতুন আশার আলো (hope) উপহার দিয়েছে।
ফেব্রুয়ারি ৫ তারিখে মা ও দাদা-দিদার সঙ্গে গাড়িতে যাচ্ছিল আলিন। উল্টো দিক থেকে আসা একটি গাড়ি জোরে ধাক্কা মারে। গুরুতর আহত হয় শিশুটি, আশঙ্কাজনক অবস্থায় কোচি (Kochi) নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। ১২ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসকরা তার ব্রেন ডেথ (brain death) ঘোষণা করেন।

শোকের মাঝেই শুরু হয় এক মানবিক প্রয়াস। অঙ্গ পরিবহনের জন্য তৈরি করা হয় বিশেষ গ্রিন করিডর (green corridor)। রাতের বেলা হেলিকপ্টার চলাচলের অনুমতি না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সে করে কোচি থেকে তিরুবনন্তপুরম (Thiruvananthapuram) পর্যন্ত প্রায় ২৩০ কিলোমিটার পথ মাত্র ৩ ঘণ্টা ২০ মিনিটে অতিক্রম করা হয়। পথে কড়া ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ (traffic restrictions) ও হাতে হাতে সিগনাল দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়।
আলিনের যকৃত (liver), দুটি কিডনি (kidneys) ও হৃদযন্ত্রের ভালভ (heart valve) দান করা হয়। যকৃত প্রতিস্থাপন করা হয় এক ছয় মাসের শিশুর শরীরে, কিডনি দেওয়া হয় ১০ বছরের এক শিশুকে। সরকারি মেডিক্যাল কলেজে এই অস্ত্রোপচার হলেও হৃদযন্ত্রের ভালভ ও কর্নিয়া (cornea) পাঠানো হয় আলাদা হাসপাতালে।
ঘটনাটি কেবল কেরল নয়, গোটা দেশে আবেগের সাড়া (emotional outpouring) ফেলে। রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আর্লেকর (Rajendra Vishwanath Arlekar) বলেন, তিনি বাবা-মায়ের সিদ্ধান্তে গভীরভাবে মর্মাহত ও অনুপ্রাণিত। এই আত্মত্যাগের মাধ্যমে তাঁরা অন্যদের জীবনে আশার আলো জ্বালিয়েছেন। অভিনেতা মোহনলাল (Mohanlal) আলিনকে এক ছোট দেবদূত (little angel) বলে আখ্যা দেন, যে অন্য শিশুদের জীবনে পুনর্জন্মের আশা (hope of rebirth) এনে দিয়েছে। সুরেশ গোপী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) নির্দেশে তিনি জাতির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন। শিশুটির দেহ কবরস্থ হলেও, তার স্পন্দন, দৃষ্টি এখন অন্যদের মধ্যে বহমান থাকবে।