কটাক্ষ করে চিদম্বরম বলেন, 'মোদী সরকার ততক্ষণ আপনার পাশে থাকবে যতক্ষণ তাদের মতো করে কাজ করবেন। কিন্তু কেউ নিজের মতামত দিতে চাইলেই তারা সরে যায়। ধনকড়ের ক্ষেত্রেও হয়তো সেটাই হয়েছে।'

ধনকড়কে নিয়ে বললেন চিদম্বরম
শেষ আপডেট: 23 July 2025 07:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোনও আগাম আভাস ছাড়াই উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন জগদীপ ধনকড় (Jagdeep Dhankhar)। এরপরই রাজনৈতিক মহল থেকে নানা মন্তব্য আসছে। এরমধ্যেই কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ পি চিদম্বরমের (P. Chidambaram) দাবি, 'সরকারের আস্থা হারিয়ে ফেলায় ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছেন ধনকড়।'
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে চিদম্বরম বলেন, 'বিচারপতি যশবন্ত বর্মার (Justice Yashwant Varma) বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করেছিলেন জগদীপ ধনকড়। তাতেই কেন্দ্রের সরকার বিরক্ত হয়। এরপর থেকেই সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে। শেষে সরকার তাঁকে আর ভরসা করতে পারেনি।'
বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতার কথায়, রাজ্যসভায় ধনকড়ের ইস্তফার খবর খুব সংক্ষিপ্তভাবে জানানো হয়েছিল। কোনও বিদায় বার্তা বা আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। এর থেকেই বোঝা যায়, সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে কটাক্ষ করে চিদম্বরম বলেন, 'মোদী সরকার ততক্ষণ আপনার পাশে থাকবে যতক্ষণ তাদের মতো করে কাজ করবেন। কিন্তু কেউ নিজের মতামত দিতে চাইলেই তারা সরে যায়। ধনকড়ের ক্ষেত্রেও হয়তো সেটাই হয়েছে।'
তিনি আরও জানান, বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটির বৈঠকে দুপুরে বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা ও মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু বিকেলে আবার বৈঠক শুরু হলে তাঁরা আর ফেরেননি। ধনকড় এতে অসন্তুষ্ট হয়ে বৈঠক শেষ করে দেন।
চিদম্বরম প্রশ্ন তোলেন, 'দুপুর ১২:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০-এর মধ্যে কী হল, যে ধনখড় এতটাই বিরক্ত হলেন?'
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের অগাস্টে উপরাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেয়েছিলেন জগদীপ ধনকড় (Jagdeep Dhankhar resigns as Vice President od India)। মেয়াদ ছিল ২০২৭ পর্যন্ত। কিন্তু তা শেষ হওয়ার আগেই ২০২৫-এর জুলাই মাসে ইস্তফা দেন তিনি। স্বাস্থ্যজনিত কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন জগদীপ ধনকড়। তবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে বিরোধী দলের একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এই ইস্তফার নেপথ্যে অন্য কারণ থাকতে পারে বলেই মনে করছেন।
সোমবার নবান্নে (Nabanna) সাংবাদিক বৈঠকে ধনকড়ের ইস্তফা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেন, “আমি এখনই এই বিষয়ে কিছু বলব না। আমাদের সংসদীয় দল আছে, ওরা বলবে। তবে আমি যতটা জানি, উনি (ধনকড়) সুস্থই আছেন। এর মধ্যে গড়বড় কিছু নিশ্চয়ই আছে।”
মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর স্বাভাবিক ভাবেই নতুন করে জল্পনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। ধনকড়ের পদত্যাগের নেপথ্যে শুধুই কি শারীরিক কারণ, নাকি এর পেছনে আছে অন্য কোনও রাজনৈতিক চাপ তা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। সবথেকে বেশি মতান্তর ও সংঘাতের ইঙ্গিত মিলেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে।