ঋণখেলাপি বিজয় মাল্য (Vijay Mallya), মেহুল চোকসি (Mehul Choksi), নীরব মোদী (Nirav Modi) বহু বছর ধরে পলাতক। কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে ভারতের (India) খোঁজে থাকা তাঁদের মতোই ৭১ জন পলাতককে বিদেশে (fugitives wanted) চিহ্নিত করা হয়েছে।

গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 24 January 2026 19:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিদেশে পলাতক অপরাধীদের খোঁজে উল্লেখযোগ্য সাফল্য মিলেছে গত অর্থবর্ষে (Financial Year)। ঋণখেলাপি বিজয় মাল্য (Vijay Mallya), মেহুল চোকসি (Mehul Choksi), নীরব মোদী (Nirav Modi) বহু বছর ধরে পলাতক। কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে ভারতের (India) খোঁজে থাকা তাঁদের মতোই ৭১ জন পলাতককে বিদেশে (fugitives wanted) চিহ্নিত করা হয়েছে। গত এক দশকের মধ্যে এই সংখ্যাই সর্বাধিক বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।
কেন্দ্রীয় কর্মিবর্গ, জনঅভিযোগ ও পেনশন মন্ত্রকের বার্ষিক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, একই সময়ে অন্য দেশগুলির অনুরোধে ভারতে খোঁজ মিলেছে ২০৩ জন পলাতক বা ‘ওয়ান্টেড’ ব্যক্তির। শুধু তাই নয়, গত অর্থবর্ষে বিদেশ থেকে মোট ২৭ জন পলাতককে দেশে ফেরানো সম্ভব হয়েছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই গোটা প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে সিবিআই, যারা ভারতে ইন্টারপোলের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) হিসেবে কাজ করে। এপ্রিল ২০২৪ থেকে মার্চ ২০২৫— এই এক বছরে বিদেশে তদন্ত সংক্রান্ত সহযোগিতা চেয়ে মোট ৭৪টি ‘লেটার্স রোগেটরি’ পাঠানো হয়। এর মধ্যে ৫৪টি সিবিআইয়ের মামলার সঙ্গে যুক্ত এবং বাকি ২০টি রাজ্য পুলিশের ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে পাঠানো হয়েছিল।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির তরফে পাঠানো ৪৭টি লেটার্স রোগেটরি সম্পূর্ণ ভাবে কার্যকর হয়েছে। আংশিক কাজ হওয়ার পর বন্ধ বা প্রত্যাহার করা হয়েছে আরও ২৯টি আবেদন। যদিও ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের কাছে এখনও মোট ৫৩৩টি লেটার্স রোগেটরি ঝুলে রয়েছে। তার মধ্যে ২৭৬টি সিবিআইয়ের এবং ২৫৭টি রাজ্য পুলিশ ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থার মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত।
অন্য দিকে, বিভিন্ন দেশ থেকে ভারতে তদন্তে সহায়তার জন্য ৩২টি চুক্তিভিত্তিক বা লেটার্স রোগেটরি এসেছে বলেও রিপোর্টে জানানো হয়েছে। একই সময়ে পলাতক বা সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীদের খোঁজে ইন্টারপোলের মাধ্যমে একাধিক নোটিস জারি করেছে এনসিবি–ইন্ডিয়া। তার মধ্যে রয়েছে ১২৬টি রেড নোটিস, ২৪টি ইয়েলো নোটিস, ৭টি ব্ল্যাক নোটিস এবং একটি গ্রিন নোটিস।
সিবিআইয়ের গ্লোবাল অপারেশনস সেন্টার ইন্টারপোল চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশি আইনরক্ষী সংস্থার সহযোগিতায় পলাতকদের অবস্থান চিহ্নিত করে। অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর স্বরাষ্ট্র ও বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় করে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে তাঁদের প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এ ছাড়াও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে ভারতীয় নাগরিকত্ব ত্যাগ সংক্রান্ত ২২,২০০-র বেশি আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করেছে সিবিআই। পাশাপাশি, ইন্টারপোলের স্টোলেন অ্যান্ড লস্ট ট্রাভেল ডকুমেন্টস ডেটাবেসে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ ৯১ হাজার হারানো, চুরি যাওয়া বা বাতিল ভারতীয় পাসপোর্টের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই ডেটাবেসের সাহায্যে বিদেশে অন্তত ৩০টি ক্ষেত্রে ভারতীয় পাসপোর্টের অপব্যবহার ধরা পড়েছে বলেও রিপোর্টে জানানো হয়েছে।