লোকসভা নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের প্রথম ঐক্যবদ্ধ চাঁদের হাট দেখা যাবে আগামিকাল, বৃহস্পতিবার, ৭ অগস্ট রাহুল গান্ধীর ডাকা নৈশভোজে।

নৈশভোজে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করা হবে।
শেষ আপডেট: 6 August 2025 14:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের প্রথম ঐক্যবদ্ধ চাঁদের হাট দেখা যাবে আগামিকাল, বৃহস্পতিবার, ৭ অগস্ট রাহুল গান্ধীর ডাকা নৈশভোজে। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস সম্পর্কে তৃণমূল কংগ্রেসের দূরত্ব বজায় থাকলেও সূত্রের খবর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের কেউ না কেউ নৈশভোজে হাজিরা দিতে যাবেন। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে মোদী হটাও, দেশ বাঁচাওয়ের ডাক দিয়ে এক মঞ্চে জোট বেঁধেছিল দেশের প্রধান বিরোধী দলগুলি। যে জোটের অন্যতম মুখ ছিলেন বাংলার তৃণমূল মুখ্যমন্ত্রীও। কিন্তু, লোকসভা ভোটে তৃতীয়বারের জন্য মোদী গদিতে বসার পর থেকে ছন্নছাড়া হয়ে যায় ইন্ডিয়া জোট। তার জন্য অনেকেই কংগ্রেসের নাক উঁচু মনোভাবকেই দায়ী করেন।
এবার সেই প্রধান ও বৃহত্তম বিরোধী দল কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ডাকে নৈশভোজে দেখা যাবে বহু নেতা-নেত্রীকে। বিহার বিধানসভা ভোটের আগে এই রাজনৈতিক ভোজসভা সেই দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সংসদের বর্ষা অধিবেশন প্রায় শেষের মুখে। এর মধ্যেই বিহার বিধানসভা ভোটের আগে দেশজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ভুয়ো ভোটার বাছাইয়ের পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্রের উপর চটে রয়েছে কংগ্রেস, আরজেডি, তৃণমূল সহ প্রায় সব দলই। এর মধ্যে তৃণমূল নেত্রী বাংলা ভাষা বিরোধী বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রায় যুদ্ধ ঘোষণা করে দিয়েছেন। যদিও সরকারিভাবে কংগ্রেস বাংলাদেশি তাড়ানোর নামে বাংলাভাষীদের বিরুদ্ধে এই কেন্দ্রীয় অভিযানের বিরোধিতা করেছে। কিন্তু, মমতার আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি রাহুল গান্ধী কিংবা গান্ধী পরিবারের কেউ।
সূত্র জানিয়েছে, রাহুলের এই নৈশভোজে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করা হবে। এছাড়াও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয় উঠে আসতে পারে, তা হল উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিরোধী মুখ ঠিক করা। প্রসঙ্গত, ৯ সেপ্টেম্বর রয়েছে উপরাষ্ট্রপতি ভোট। সেখানে বিরোধী জোট চাইছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মোদী-শাহ জুটির সরকারকে অগ্নিপরীক্ষায় ফেলা। আস্থা ভোটাভুটির মতোই বিজেপির প্রতি শক্তি পরীক্ষায় যাওয়া। যদিও সরকার পক্ষ তলায় তলায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, সর্বসম্মত প্রার্থী বাছাই করতে। অন্তত ইন্ডিয়া জোটের ভিতরে ভাঙন ধরতে পারে এমন প্রার্থী ঠিক করতে। যেমনটা ঘটেছিল সদ্য পদত্যাগী জগদীপ ধনকড়ের সময়। তাই এবারে আগেভাগে বিরোধী ঐক্য টিকিয়ে রাখতে ময়দানে নেমেছেন রায়বরেলির সাংসদ রাহুল।
আপাতত ঠিক রয়েছে, নৈশভোজের পরদিনই বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনের দফতর পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিল করবে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী যাদব রাহুলের নৈশভোজে থাকার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের তরফেও একজন শীর্ষস্থানীয় কোনও এমপি হাজির থাকবেন। তা সে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও হতে পারেন। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা ডিএমকে প্রধান এমকে স্ট্যালিন অসুস্থ। ডাক্তাররা অনুমতি দিলে তিনিও দিল্লি আসতে পারেন। অন্যদিকে, উদ্ধব ঠাকরে সহ এনসিপি-র কেউ আসতে পারেন। ঝাড়খণ্ডের অবিসংবাদিত নেতা শিবু সোরেন সম্প্রতি প্রয়াত হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন যোগ দিতে না পারলেও তাঁর দলের কেউ সম্ভবত থাকবেন।