ভোটার তালিকা সংশোধনের আগেই রণকৌশল (voter list strategy) তৈরি করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বুথ স্তরে প্রস্তুতি, পরিচয়পত্র যাচাই ও এজেন্ট (Booth Level Agent) নিয়োগে তৃণমূল (TMC) এগিয়ে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 6 August 2025 14:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এখনও পর্যন্ত যা ইঙ্গিত তাতে অগস্ট মাসের শেষে বা সেপ্টেম্বরের গোড়া থেকে বাংলায় ভোটার তালিকায় (Voter List Bengal) সংশোধনের প্রক্রিয়া (SIR) শুরু করে দিতে পারে নির্বাচন কমিশন (Election Commission India)। তবে কমিশন মাঠে নামার আগেই রক্ষণ সাজিয়ে (TMC Strategy) ফেললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
মঙ্গলবার দলের সাংসদ, বিধায়ক, কাউন্সিলর, জেলা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে অভিষেক যে বৈঠক করেছেন, তাতে সেই রক্ষণ সাজানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। কালীঘাটের ঘনিষ্ঠ সূত্রে বলা হচ্ছে, অভিষেক জানিয়েছেন বুথ স্তরের এজেন্টদের এখনই বাড়ি বাড়ি যেতে হবে। দেখতে হবে সবার পরিচয়পত্র ও রেসিডেন্ট সার্টিফিকেট রয়েছে কিনা। কারও কাছে যদি ডকুমেন্ট না থাকে তবে তাঁকে সাহায্য করতে হবে।
অর্থাৎ ভোটার তালিকায় নাম রাখা বা নাম তোলার ব্যাপারে কারও কাছে যদি পর্যাপ্ত ডকুমেন্ট না থাকে বা কাগজপত্র না থাকে তাহলে তাঁকে সাহায্য করতে হবে। এ ব্যাপারে কোথাও কোনও অসুবিধা হলে ৩১ অগস্টের মধ্যে রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী বা অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসকে জানাতে বলা হয়েছে।
বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস শাসক দল। পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকার ও শাসক দল চাইলে কারও রেসিডেন্ট সার্টিফিকেট পাওয়ার সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
কালীঘাটের ঘনিষ্ঠ এক নেতার কথায়, বাংলায় ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনের (SIR) ক্ষেত্রে তৃণমূলের কিছু সুবিধা রয়েছে। যেহেতু বিহারে প্রথম এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাই দল সে ব্যাপারটা পর্যাপ্ত স্টাডি করার সুযোগ পেয়েছে। এ ব্যাপারে আই প্যাকও একটি নোট বা গাইডলাইন তৈরি করেছে। সুতরাং ভোটার তালিকা থেকে যাতে কোনও যোগ্য ভোটারের নাম বাদ না যায়, সে ব্যাপারে নিশ্ছিদ্র কৌশল সাজিয়ে ফেলেছে তৃণমূল।
তৃণমূল মনে করছে, এ ব্যাপারে তাদের আরও একটা অ্যাডভান্টেজ রয়েছে। রাজ্যে মোট বুথের সংখ্যা ৮০ হাজার। প্রতি বুথের জন্য সব রাজনৈতিক দলকে বিএলএ তথা বুথ লেভেল এজেন্ট নিয়োগ করতে হবে। কিন্তু ঘটনা হল অতীতের নির্বাচনগুলিতেই দেখা গিয়েছে যে বিজেপি ৩০ শতাংশর বেশি বুথে এজেন্টই দিতে পারে না। বিপরীতে প্রতি বুথে তৃণমূলের এক জন এজেন্ট তো থাকবেনই, তাঁকে সঙ্গত করার জন্য অন্তত আরও দশ জন থাকবে।
তবে মৃত ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নিয়ে তৃণমূলের একাংশের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে আশঙ্কা রয়েছে, উত্তরবঙ্গ নিয়েও। কারণ, উত্তরবঙ্গে বিজেপির সংগঠন দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় অনেক মজবুত।
প্রসঙ্গত মৃত ভোটারদের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ (Dead Voter Removal) দেওয়ার ব্যাপারে কমিশনের কাছে আগেই একপ্রস্ত সুপারিশ পাঠিয়ে রেখেছে বামেরা। সিপিএমের বক্তব্য, শুধু কলকাতার ভোটার তালিকাতেই ৩৭ হাজার মৃত ভোটারের নাম রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এখন ডেথ সার্টিফিকেট পুরসভা ও পঞ্চায়েত থেকে ইস্যু করা হয়। ফলে গত বিশ বছরে কোথায় কে মারা গেছে তার সঠিক ডকুমেন্টেশন রয়েছে। কমিশন চাইলে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের সময়ে সেই ডকুমেন্টেশনকে ব্যবহার করতে পারে। তাতে মৃত ভোটারের নাম চিহ্নিত করা সহজ হতে পারে।
সব বুথে এজেন্ট নিয়োগের ব্যাপারে তাদের যে অপারগতা রয়েছে তা বুঝতে পারছে বিজেপিও। এই অবস্থায় শুভেন্দু-শমীকরা অনেক বেশি নির্ভর করছে কমিশনের উপর। বিজেপি নেতাদের কথায়, ইলেকশন রেজিস্ট্রেশন অফিসার তথা ইআরও এবং বিএলওদের মাথায় রাখতে হবে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময়ে কোথাও অনিয়ম হলে তাঁদের দায় নিতে হবে। কমিশন ইতিমধ্যে পাঁচ জনকে সাসপেন্ড করে এফআইআর করার সুপারিশ করেছে। তাই মনে রাখতে হবে, কারচুপি হলে বিএলও বা ইআরও-দের সরকারি চাকরিই বিপন্ন হয়ে পড়তে পারে।
তবে তৃণমূল নেতারা বলছেন, কমিশন মাঠে নামার আগেই যদি সবার পরিচয়পত্র বা কাগজপত্র তৈরি থাকে, তাহলে কোনও ঝুঁকি নেই। ভোটার তালিকায় সংশোধন হলেও বিজেপি কোনও সুবিধা করতে পারবে না বাংলায়।