দলের সাংসদ, বিধায়কদের নিয়ে মঙ্গলবার ভার্চুয়াল বৈঠক ডেকেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অবিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 5 August 2025 18:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দলের সাংসদ, বিধায়কদের নিয়ে মঙ্গলবার ভার্চুয়াল বৈঠক ডেকেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
রাজ্যজুড়ে সংগঠনকে মজবুত করতে এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলীয় শৃঙ্খলার বার্তা দিতেই এই বৈঠক। তবে, সব নেতারা উপস্থিত থাকলেও, বৈঠক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে অনুপস্থিত ছিলেন হুগলির বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (kalyan Banerjee)।
সূত্রের খবর, কল্যাণ অভিষেককে জানিয়েছেন, তিনি বৈঠকে উপস্থিত হতে পারবেন না। তাঁর মন মেজাজ ঠিক নেই। কল্যাণের দাবি, অভিষেক নাকি তাঁকে জানিয়েছেন, 'ঠিক আছে, ৭ তারিখ কথা হবে'।
এ ব্যাপারে দ্য ওয়ালের তরফে কল্যাণের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বৈঠকে যোগ না দেওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। কল্যাণের কথায়, "আমি যে বৈঠকে যোগ দেব না, সেটা আগেই অভিষেককে জানিয়েছিলাম।"
ঘটনার সূত্রপাত, সোমবার তৃণমূলের সংসদীয় দলের বৈঠকে স্থির হয় লোকসভায় দলনেতা হবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর পরই বৈঠক থেকে বেরিয়ে কল্যাণ সাংবাদিকদের বলেন, “মমতাদির মনে হয়েছে আমি দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছি না। তাই চিফ হুইপ পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছি।" কল্যাণ এও অভিযোগ করেন, নিশ্চয়ই কেউ দিদির কান ভাঙিয়েছেন। এ ব্যাপারে মহুয়া মৈত্র বিরুদ্ধেও ক্ষোভের জ্বালামুখ খুলে দেন।
তৃণমূলের অনেক নেতা মনে করেন, কল্যাণ যে ভাবে রাগ দেখিয়েছেন, তা যতটা না মহুয়ার বিরুদ্ধে তার চেয়ে হয়তো অনেক বেশি দিদির বিরুদ্ধে। কল্যাণ হয়তো আশা করেছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর তাঁকে লোকসভায় দলনেতা করা হবে। কিন্তু তা না হওয়াতেই হতাশ হয়েছেন।
এরপরই কল্যাণকে শান্ত করতে আসরে নামেন অভিষেক। তিনি টেলিফোনে কথাও বলেন শ্রীরামপুরের সাংসদের সঙ্গে। এখনই ইস্তফা না দেওয়ার অনুরোধও করেন। দিল্লিতে গিয়ে এ ব্যাপারে কল্যাণের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও তাঁকে জানান অভিষেক। তারপরই এদিন আচমকা দেখা যায়, কল্যাণের ওই ইস্তফাপত্র গ্রহণ করে নেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুধু তা নয়, ওই পদে বসালেন তাঁর আস্থাভাজন সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারকে। লোকসভায় তৃণমূলের উপ দলনেতা করলেন শতাব্দী রায়কে।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, এ ঘটনার মধ্যে দিয়ে একটা ব্যাপার স্পষ্ট। তা হল কল্যাণের উপর নির্ঘাত চটেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে কারণে ইস্তফাপত্র গ্রহণে কোনও দেরি করলেন না।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, কল্যাণও যেন পাল্টা মেজাজ ধরে রেখেছেন। দলনেত্রী তাঁর ইস্তফা গ্রহণের পর কল্যাণ সোশাল পোস্টে লিখেছেন—চেয়ারপার্সনকে বলছি, ইস্তফা গ্রহণের জন্য ধন্যবাদ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, ঘটনা পরম্পরার জেরে কল্যাণের 'মন খারাপ' হওয়ার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে। সম্ভবত, সে কারণেই এদিনের বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলেন তিনি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই টানাপোড়েন অবশ্য এখানেই থামবে না, জল আরও গড়াতে পারে।