বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এমন দিন বারবার আসে না। যেখানে শিল্পী, পরিচালক, প্রযোজক—সকলেই একসুরে মুখ খুললেন বাংলা ছবির ভবিষ্যতের জন্য। টলিউড যেন দাঁড়িয়ে এক সন্ধিক্ষণে। একদিকে বড় বাজেটের হিন্দি ছবি ‘ওয়ার টু’ আসছে অগাস্টে, অন্যদিকে মুক্তি পাচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত বাংলা ছবি ‘ধূমকেতু’।

মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ প্রসেনজিৎ, দেব-সৃজিত
শেষ আপডেট: 6 August 2025 13:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এমন দিন বারবার আসে না। যেখানে শিল্পী, পরিচালক, প্রযোজক—সকলেই একসুরে মুখ খুললেন বাংলা ছবির ভবিষ্যতের জন্য। টলিউড যেন দাঁড়িয়ে এক সন্ধিক্ষণে। একদিকে বড় বাজেটের হিন্দি ছবি ‘ওয়ার টু’ আসছে অগাস্টে, অন্যদিকে মুক্তি পাচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত বাংলা ছবি ‘ধূমকেতু’। কিন্তু টানাপড়েনটা শুরু হয়েছে অন্য জায়গায়—সিনেমাহল দখলের লড়াইয়ে। আর সেই লড়াইয়ে একপ্রকার কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বাংলা ছবি।
গত কয়েক বছর ধরেই রাজ্যের একাধিক সিঙ্গল স্ক্রিন মাল্টিপ্লেক্সে একটা অদৃশ্য চাপ কাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, কিছু হিন্দি ছবির ডিস্ট্রিবিউটররা হলমালিকদের কাছে আসছে কঠিন শর্ত—চারটে শো, সবই হিন্দি ছবির। বাংলা ছবির সঙ্গে শো ভাগ করা চলবে না। এর ফলে বাংলা ছবিগুলি দিনের প্রাইম টাইম স্লট, মানে বিকেল থেকে রাতের মূল সময়—সেটা হারাচ্ছে। দর্শক চাইছেন, ছবি তৈরিও হচ্ছে, কিন্তু সেই ছবি ঠিকমতো পৌঁছচ্ছে না সিনেমাহলে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলার সিনেমার দুই মহারথী—প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও দেব, সঙ্গে রয়েছেন প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতা, নিসপাল সিং রানে, পরিচালক-অভিনেতা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এবং সৃজিত মুখোপাধ্যায়—মিলিতভাবে সরাসরি চিঠি পাঠিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। বাংলা সিনেমার প্রতি তাঁদের এই আবেদন যেন এক নতুন ভাষা আন্দোলনের রূপ নিয়েছে।
চিঠিতে তাঁরা স্পষ্ট লিখেছেন—এটা শুধু সিনেমার লড়াই নয়, এটা বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি আর আত্মসম্মানের লড়াই। মহারাষ্ট্রে, পঞ্জাবে, দক্ষিণ ভারতে কেউ এমন শর্ত চাপিয়ে দেয় না, কিন্তু বাংলায় কেন বাংলা ছবিকে এই অপমান সহ্য করতে হবে? কেন নিজেদের রাজ্যেই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না বাংলা সিনেমা?
চিঠিতে আরও আবেদন জানানো হয়েছে, সারা বছর রাজ্যের সব সিনেমাহলে বাংলা ছবিকে প্রাইম টাইম শো দেওয়াটা বাধ্যতামূলক করা হোক। বাংলা সিনেমা যেন তার সম্মান, ঐতিহ্য আর গৌরব ফিরে পায়, এই দায়িত্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দিলেন তাঁরা।
এই চিঠি পৌঁছনোর পরই এসেছে এক খবর। সূত্র বলছে, রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে ৭ অগাস্ট দুপুরে নন্দনে ডাকা হয়েছে এক জরুরি বৈঠক। টলিউড জুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন—এই বৈঠকে কী রায় আসে? ‘ধূমকেতু’-র ভাগ্যে জুটবে কি প্রাইম টাইম শো?
বাংলা ছবির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই মুহূর্তে একটি শক্ত প্রতিরোধের ওপর। ভাষা, সংস্কৃতি আর সিনেমার অস্তিত্বরক্ষার এই লড়াইয়ে দাঁড়িয়ে টলিউড একজোট। সিনেমা শুধু বিনোদন নয়, তা আত্মপরিচয়ের প্রতীকও বটে। বাংলা ছবির গলা টিপে ধরলে, শেষমেশ নিশ্বাস বন্ধ হবে বাংলারই। এখন দেখার, প্রশাসন কীভাবে রক্ষা করে বাংলার এই সেলুলয়েডের স্বপ্ন।