জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কেন্দ্র ও রাজ্যকে একসঙ্গে ‘টিম ইন্ডিয়া’ হিসেবে কাজ করার ডাক দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ‘নিড টু নো’ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে ‘ডিউটি টু শেয়ার’ মানসিকতা গড়ে তোলার উপর জোর দেন তিনি।

শেষ আপডেট: 27 December 2025 08:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ মিলেছে ২০২৫ সালে, এমনই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah anti terrorism message)। শুক্রবার তিনি বলেন, এই প্রথমবার সন্ত্রাসবাদী হামলার পরিকল্পনাকারী ও হামলা কার্যকরকারী - দু’পক্ষকেই আলাদা, লক্ষ্যভিত্তিক অভিযানে শাস্তি দিয়েছে ভারত। অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) এবং অপারেশন মহাদেবের (Operation Mahadev) মাধ্যমে পাকিস্তানের 'জঙ্গি মদতদাতাদের' (Terrorism) কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ‘অ্যান্টি-টেররিজ়ম কনফারেন্স–২০২৫’-এ ভাষণ দিতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, “২২ এপ্রিল পহেলগামে যে সন্ত্রাসবাদী হামলার (Pahalgam Attack) পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তার জবাব দেওয়া হয়েছে অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে। আর যারা সেই হামলা কার্যকর করেছিল, তাদের নিকেশ করা হয়েছে অপারেশন মহাদেবের মাধ্যমে।”
তিনি আরও বলেন, “এটাই প্রথম সন্ত্রাসবাদী ঘটনা, যেখানে হামলার পরিকল্পনাকারীদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে এবং যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন - দুই দিক থেকেই ভারত সরকার, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী এবং দেশের মানুষ একসঙ্গে পাকিস্তানের জঙ্গি মদতদাতাদের যোগ্য জবাব দিয়েছে।”
কী ছিল অপারেশন সিঁদুর ও অপারেশন মহাদেব?
অপারেশন সিঁদুরের আওতায় ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী মে মাসে পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা জঙ্গি শিবিরগুলিতে নিখুঁত হামলা চালায়। এই অভিযান হয় জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলার কয়েক দিনের মধ্যেই। ওই হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে জুলাই মাসে অপারেশন মহাদেব চালিয়ে পহেলগামে হামলায় সরাসরি জড়িত জঙ্গিদের নিকেশ করা হয়।
পহেলগাম হামলা ও আন্তর্জাতিক বার্তা
বৈসরন ভ্যালি, পহেলগামে হওয়া জঙ্গি হামলা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন অমিত শাহ। তাঁর কথায়, এই হামলার লক্ষ্য ছিল কাশ্মীরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা এবং উন্নয়ন ও পর্যটনের নতুন অধ্যায়কে ব্যাহত করা।
তিনি জানান, অত্যন্ত নির্ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী তিন জন জঙ্গিকেই নিকেশ করেছে। পহেলগাম হামলার তদন্ত সম্পূর্ণ হয়েছে এবং তা সফল বলেও দাবি করেন তিনি। অমিত শাহ বলেন, এই তদন্তের ফল আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে।
বদলে যাওয়া সন্ত্রাসের চরিত্র
সন্ত্রাসবাদের চরিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে, এই বিষয়েও সতর্ক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। “প্রযুক্তির ব্যবহারে সন্ত্রাসের রূপ বদলে যাচ্ছে। আমাদের সব সময় অন্তত দু’ধাপ এগিয়ে থাকতে হবে,” বলেন তিনি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি “অভেদ্য ও শক্তিশালী সন্ত্রাসবিরোধী গ্রিড” গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শাহ।
দেশজুড়ে এক ছাঁচে ATS কাঠামোর পক্ষে সওয়াল
সমন্বয় ও কার্যকর প্রতিরোধের জন্য দেশজুড়ে অভিন্ন অ্যান্টি-টেররিজ়ম স্কোয়াড (ATS) কাঠামোর পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, “অপারেশনাল ইউনিফর্মিটি না থাকলে সঠিকভাবে হুমকি মূল্যায়ন বা পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।”
রাজ্যের ডিজিপিদের দ্রুত এই কাঠামো কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি NIDAAN ও NATGRID-এর মতো প্ল্যাটফর্ম নিয়মিত ব্যবহারের উপর জোর দেন।
দিল্লি বিস্ফোরণ ও সংগঠিত অপরাধ
গত মাসে দিল্লির লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। “সব সংস্থা মিলিতভাবে পুরো নেটওয়ার্কের চমৎকার তদন্ত করেছে,” বলেন তিনি। পহেলগাম ও দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তকে তিনি ‘ওয়াটারটাইট’ তদন্তের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
সম্মেলনে অমিত শাহ এনআইএ-র আপডেটেড ক্রাইম ম্যানুয়াল প্রকাশ করেন। পাশাপাশি অস্ত্র সংক্রান্ত একটি ই-ডাটাবেস এবং সংগঠিত অপরাধচক্রের ডাটাবেসও উদ্বোধন করেন। তাঁর কথায়, অনেক সময় সংগঠিত অপরাধই সন্ত্রাসের অর্থের জোগান দেয়, বিশেষত যখন অপরাধচক্রের মাথারা বিদেশে পালিয়ে গিয়ে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগসূত্র গড়ে তোলে।
“সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে ৩৬০ ডিগ্রি আক্রমণের পরিকল্পনা আমরা আনছি,” বলেন অমিত শাহ। রাজ্যগুলিকে কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই ডাটাবেস ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।
‘টিম ইন্ডিয়া’ ও তথ্য ভাগাভাগির বার্তা
জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কেন্দ্র ও রাজ্যকে একসঙ্গে ‘টিম ইন্ডিয়া’ হিসেবে কাজ করার ডাক দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ‘নিড টু নো’ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে ‘ডিউটি টু শেয়ার’ মানসিকতা গড়ে তোলার উপর জোর দেন তিনি।
“ভারত যত এগোবে, চ্যালেঞ্জ তত বাড়বে। সেই পরিস্থিতিতে আমাদের দায়িত্ব এমন একটি শক্তিশালী সন্ত্রাসবিরোধী কাঠামো তৈরি করা, যা সব চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে পারে,” বলেন অমিত শাহ।