লালকেল্লার বিস্ফোরণে ৪০ কেজি বিস্ফোরক ব্যবহারের কথা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সন্ত্রাস দমনে দ্রুত সব রাজ্যে অভিন্ন এটিএস কাঠামো গড়ার বার্তা দিলেন।

অমিত শাহ
শেষ আপডেট: 26 December 2025 22:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লালকেল্লা চত্বরের বিস্ফোরণে ব্যবহার করা হয়েছিল প্রায় ৪০ কেজি বিস্ফোরক। শুক্রবার রাজধানীতে আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সম্মেলন ২০২৫ (Anti-Terrorism Conference 2025)-এর মঞ্চে এমনই বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। একই সঙ্গে তিনি দেশের সব রাজ্যের পুলিশপ্রধানদের দ্রুত একটি অভিন্ন এটিএস কাঠামো (ATS structure) গড়ে তোলার নির্দেশ দেন, যাতে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় আরও মজবুত হয়।
সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে অমিত শাহ বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-র সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতির উপর দাঁড়িয়েই এই সম্মেলনগুলির গুরুত্ব বেড়েছে।' তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আগাম পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণ এখন দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ‘টিম ইন্ডিয়া (Team India)’ ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে প্রতিটি রাজ্যে অভিন্ন এটিএস কাঠামো তৈরি করাই এখন সময়ের দাবি।
এদিন এনআইএ (NIA)-র আপডেটেড অপরাধ সংক্রান্ত ম্যানুয়াল প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি চালু হয় অস্ত্রের ই-ডেটাবেস (e-database of weapons) এবং সংগঠিত অপরাধ চক্রের একটি পৃথক ডেটাবেস। তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করতে রাজ্যগুলির ডিজিপিদের (DGP) উদ্দেশে তিনি অনুরোধ করেন, নিজ নিজ রাজ্যে বিশেষ দল গঠন করে এই ম্যানুয়াল ভালভাবে অধ্যয়ন করতে।
লালকেল্লা চত্বরের বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে অমিত শাহ বলেন, 'এটি কোনও সাধারণ তদন্তের উদাহরণ নয়, বরং ‘জল না চুঁইয়ে’ করা তদন্তের দৃষ্টান্ত। দিল্লির ওই ঘটনায় ৪০ কেজি বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল। পাশাপাশি তদন্তের সময় বিস্ফোরণের আগেই প্রায় ৩ টন বিস্ফোরক উদ্ধার করা সম্ভব হয়, যা যদি ফাটত, তাহলে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসত।' এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত গোটা দলকেই আগেভাগে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
'পহেলগাম (Pahalgam) ও দিল্লির বিস্ফোরণ মামলাগুলি প্রমাণ করে দিয়েছে, কীভাবে সমন্বিত ও নিখুঁত তদন্ত সন্ত্রাসের শিকড়ে আঘাত করতে পারে। সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ৩৬০ ডিগ্রি অ্যাকশন প্ল্যান (360-degree action plan) আনা হচ্ছে, যাতে একযোগে সব দিক থেকে আঘাত হানা যায়,' শেষে উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের চরিত্র বদলাচ্ছে বলেও সতর্ক করেন শাহ। প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সন্ত্রাসের বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে। তাই প্রযুক্তিগত দিক থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও সমান তালে আধুনিক করে তুলতে হবে। শেষ তিন বছরে এই সম্মেলনকে নিয়মিত বার্ষিক মঞ্চে রূপ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সংগঠিত অপরাধ প্রসঙ্গে তাঁর মত, প্রথমে মুক্তিপণ বা তোলাবাজির মাধ্যমে শুরু হলেও, অনেক সময় অপরাধচক্রের মাথারা বিদেশে পালিয়ে গিয়ে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে। এরপর সেই কালো টাকাই দেশের ভিতরে সন্ত্রাস ছড়াতে ব্যবহৃত হয়। এই যোগসূত্র ভাঙতেই নতুন কৌশল নেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আঁটসাঁট করতে এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক নতুন দিশা দেখাল সন্ত্রাসবিরোধী সম্মেলন ২০২৫—এমনটাই মত প্রশাসনিক মহলের।