বিএসএফ কনস্টেবল নিয়োগে প্রাক্তন অগ্নিবীরদের জন্য সংরক্ষণ এক ধাক্কায় ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এই সিদ্ধান্তে অগ্নিপথ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ অনেকটাই কমবে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 21 December 2025 11:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অগ্নিপথ (Agnipath) প্রকল্প ঘিরে চাকরি-নিশ্চয়তা নিয়ে যে প্রশ্ন বহুদিন ধরে উঠছিল, তার বড়সড় জবাব এল কেন্দ্রের তরফে। সীমান্তরক্ষা বাহিনী অর্থাৎ বিএসএফে (Border Security Force) কনস্টেবল নিয়োগে প্রাক্তন অগ্নিবীরদের (Ex-Agniveer) জন্য সংরক্ষণ এক লাফে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হল। আগে যেখানে এই সংরক্ষণ প্রস্তাব ছিল মাত্র ১০ শতাংশ, সেখানে নতুন নিয়মে অর্ধেক শূন্যপদই সংরক্ষিত থাকছে প্রাক্তন অগ্নিবীরদের জন্য। বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই সিদ্ধান্ত জানাল কেন্দ্রীয় সরকার।
সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি নিয়োগ বছরে বিএসএফের কনস্টেবল (জেনারেল ডিউটি) পদে মোট শূন্যপদের ৫০ শতাংশ প্রাক্তন অগ্নিবীরদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি, ১০ শতাংশ শূন্যপদ সংরক্ষিত থাকবে প্রাক্তন সেনাকর্মীদের (Ex-Servicemen) জন্য। এ ছাড়া, কমব্যাটাইজড কনস্টেবল (ট্রেডসম্যান) পদে সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে বার্ষিক শূন্যপদের সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ পর্যন্ত অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রাখা হয়েছে।
কেন্দ্রের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই নিয়োগ হবে দু’টি ধাপে। প্রথম ধাপে, মোট শূন্যপদের ৫০ শতাংশে শুধুমাত্র প্রাক্তন অগ্নিবীরদের নিয়োগ করা হবে। এই পর্বের নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে নোডাল ফোর্স (Nodal Force)। দ্বিতীয় ধাপে, বাকি ৪৭ শতাংশ শূন্যপদের জন্য নিয়োগ করবে স্টাফ সিলেকশন কমিশন (Staff Selection Commission)। এই ৪৭ শতাংশের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে প্রাক্তন সেনাকর্মীদের জন্য নির্ধারিত ১০ শতাংশ কোটা। পাশাপাশি, প্রথম ধাপে কোনও নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে যদি প্রাক্তন অগ্নিবীরদের শূন্যপদ পূরণ না হয়, সেই শূন্যপদগুলিও দ্বিতীয় ধাপে যুক্ত হবে।
মহিলা প্রার্থীদের বিষয়েও আলাদা করে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মহিলা প্রার্থীদের জন্য শূন্যপদের সংখ্যা প্রতি বছর বিএসএফের ডিরেক্টর জেনারেল (Director General, BSF) কার্যকরী প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারণ করবেন। অর্থাৎ, বছরে বছরে বাহিনীর প্রয়োজনের ভিত্তিতেই ঠিক হবে কতজন মহিলা প্রার্থী নিয়োগ করা হবে।
এই গোটা সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৫ সালের বিএসএফ জেনারেল ডিউটি ক্যাডার (নন-গেজেটেড) নিয়োগ বিধিতে সংশোধন এনেছে। সীমান্তরক্ষা বাহিনী আইন, ১৯৬৮ (Border Security Force Act, 1968)-এর ১৪১ নম্বর ধারার উপধারা (২)-এর (b) এবং (c) ক্লজ অনুযায়ী ক্ষমতা প্রয়োগ করেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে। নতুন বিধির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স, জেনারেল ডিউটি ক্যাডার (নন-গেজেটেড) রিক্রুটমেন্ট (অ্যামেন্ডমেন্ট) রুলস, ২০২৫’। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে ১৮ ডিসেম্বর থেকে।
প্রসঙ্গত, এর আগে কেন্দ্র সরকার বিএসএফ-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় বাহিনীতে প্রাক্তন অগ্নিবীরদের জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণের কথা ঘোষণা করেছিল। পাশাপাশি, বয়সসীমায় ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল- প্রথম ব্যাচের অগ্নিবীর এবং পরবর্তী ব্যাচের অগ্নিবীরদের জন্য আলাদা আলাদা ছাড়ের নিয়ম ছিল। কিন্তু চাকরির নিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছিল। বিশেষ করে চার বছরের মেয়াদ শেষে অগ্নিবীরদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে উদ্বেগে ছিল যুবসমাজের একটা বড় অংশ।
এবার সংরক্ষণ বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সিদ্ধান্তে সেই উদ্বেগ অনেকটাই কমাবে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। সীমান্তরক্ষা বাহিনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় বাহিনীতে প্রাক্তন অগ্নিবীরদের জন্য এত বড় অংশ সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্তকে অগ্নিপথ প্রকল্পের ‘সবচেয়ে বড়’ দিক হিসেবে দেখছেন অনেকে।