মঙ্গলবার ২০২৬ সালের প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, পাকিস্তান (Pakistan) ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে শুরু হওয়া এই অভিযান এখনও কার্যকর রয়েছে।

সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী
শেষ আপডেট: 13 January 2026 13:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপারেশন ‘সিঁদুর’ (Operation Sindoor) শেষ হয়নি। আবারও স্পষ্ট ভাষায় পাকিস্তানকে সেই বার্তাই দিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী (Army Staff General Upendra Dwivedi )। মঙ্গলবার ২০২৬ সালের প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, পাকিস্তান (Pakistan) ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে শুরু হওয়া এই অভিযান এখনও কার্যকর রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনও দুঃসাহস দেখালে তার “উপযুক্ত ও কার্যকর জবাব” দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সেনাপ্রধানের কথায়, অপারেশন সিঁদুর ছিল “স্পষ্ট রাজনৈতিক নির্দেশে তিন বাহিনীর নিখুঁত সমন্বয়ের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ”, যেখানে বাহিনীগুলিকে প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করা বা পাল্টা জবাব দেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, গত ৭ মে অপারেশন সিঁদুর শুরু করে ভারত। তার আগে ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে (Pahelgam) ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় একাধিক প্রাণহানি ঘটে। ওই হামলার দায় স্বীকার করে দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট, যা পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন বলে দাবি ভারতের। এর জবাবেই সীমান্তের ওপারে জঙ্গি পরিকাঠামোয় আঘাত হানে ভারতীয় বাহিনী।
সেনা সূত্রে জানানো হয়, পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি শিবিরে হামলা চালিয়ে ১০০-রও বেশি জঙ্গিকে নিকেশ করা হয়। তার পাল্টা হিসেবে পাকিস্তান ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার চেষ্টা করে, যা ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যর্থ করে দেয়। পরবর্তী ধাপে ভারত পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটিতে আঘাত হানে। শেষ পর্যন্ত ১০ মে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়।
এই প্রসঙ্গে জেনারেল দ্বিবেদীর ব্যাখ্যা, “৭ মে ২২ মিনিটের সূচনায় এবং পরবর্তী ৮৮ ঘণ্টার সুসংহত অভিযানে অপারেশন সিঁদুর কৌশলগত সমীকরণ বদলে দিয়েছে। গভীরে ঢুকে আঘাত হানা হয়েছে, জঙ্গি পরিকাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং বহুদিনের পারমাণবিক হুমকির বয়ানকেও প্রশ্নের মুখে ফেলা হয়েছে।”
তিনি জানান, নির্ধারিত ৯টি লক্ষ্যের মধ্যে ৭টিতেই সফল ভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি, প্রয়োজনে স্থলযুদ্ধের জন্যও সেনা সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল বলে জানান তিনি।
যুদ্ধবিরতির পর পশ্চিম সীমান্ত এবং জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি “সংবেদনশীল হলেও নিয়ন্ত্রণে” রয়েছে বলে দাবি সেনাপ্রধানের। তাঁর কথায়, ২০২৫ সালে মোট ৩১ জন জঙ্গিকে নিকেশ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬৫ শতাংশই পাকিস্তানি নাগরিক। পহেলগাম হামলার তিন অভিযুক্তকেও ‘অপারেশন মহাদেব’-এ খতম করা হয়েছে।
সেনাপ্রধান আরও জানান, উপত্যকায় সক্রিয় স্থানীয় জঙ্গির সংখ্যা এখন এক অঙ্কে নেমে এসেছে। জঙ্গি নিয়োগ কার্যত বন্ধের মুখে— ২০২৫ সালে মাত্র দু’জন নতুন করে জঙ্গি দলে নাম লিখিয়েছে।
কাশ্মীরের পরিস্থিতি বদলের ইঙ্গিত হিসেবেও একাধিক দিক তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, উন্নয়নমূলক কাজের গতি বেড়েছে, পর্যটন ফের চাঙ্গা হচ্ছে এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন হয়েছে শ্রীঅমরনাথ যাত্রা। চলতি বছরে চার লক্ষের বেশি পুণ্যার্থী অংশ নিয়েছেন, যা গত পাঁচ বছরের গড়ের চেয়েও বেশি। সেনাপ্রধানের কথায়, “সন্ত্রাস থেকে পর্যটনের পথে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে জম্মু ও কাশ্মীর।”