বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি বন্দে মাতরম-এর এ বছর সার্ধ শতবর্ষ উপলক্ষে সোমবার লোকসভায় বিশেষ আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। ১০ ঘণ্ট্য ব্যাপী আলোচনায় সমাপ্তি ভাষণ দেবেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। সকালে আলোচনার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বন্দে মাতরম নিয়ে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানান

শেষ আপডেট: 8 December 2025 19:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার সংসদে বন্দে মাতরম (Vande Mataram) নিয়ে আলোচনায় বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী (Priyanka Gandhi)। কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য, বিজেপি ভোট ছাড়া কিছু বোঝে না। বাংলায় নির্বাচন দুয়ারে কড়া নাড়ছে। তাই সংসদে বন্দে মাতরম নিয়ে আলোচনায় এত আগ্রহী কেন্দ্রের সরকার ও শাসক দল।
প্রিয়ঙ্কার বক্তব্য, ‘বিজেপি ও সরকার দুটি অঙ্ক বিবেচনায় রেখে বন্দে মাতরম নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী। প্রথম উদ্দেশ্য স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে হেয় করা। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য, নিজেদের স্বাধীনতা সংগ্রামী প্রমাণ করা।’ বিতর্কে কংগ্রেস নেতারা বারে বারে দাবি করেন, বিজেপির বন্দে মাতরম নিয়ে কিছু বলার নৈতিক অধিকার নেই। স্বাধীনতার লড়াইয়ে এই দলের নেতা ও পূর্বসূরিদের কোনও অপদান নেই।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি বন্দে মাতরম-এর এ বছর সার্ধ শতবর্ষ উপলক্ষে সোমবার লোকসভায় বিশেষ আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। ১০ ঘণ্ট্য ব্যাপী আলোচনায় সমাপ্তি ভাষণ দেবেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। সকালে আলোচনার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বন্দে মাতরম নিয়ে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানান। বলেন, বন্দে মাতরমের খণ্ডিত অংশ ব্যবহার করে কংগ্রেস গানটির অমর্যাদা করেছে। পাল্টা কংগ্রেসের বক্তব্য, বন্দে মাতরম নিয়ে বিতর্ক অনর্থক। মহাত্মা গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মতো বরেণ্য মানুষদের উপস্থিতিতে বন্দে মাতরম-এর প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। প্রথম স্তবক দুটিতে জাতীয় সম্প্রীতির কথা বলা রয়েছে। পরের স্তবক দুটি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত হয়েছিল।
প্রিয়ঙ্কা গান্ধী এই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে বন্দে মারতম নিয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা (কংগ্রেস) ভোটে হেরে যেতে পারি। তারপরও আমরা শুধু নির্বাচন নিয়ে মেতে থাকি না। আমরা দেশের কথা ভেবে রাজনীতি করি। অন্যদিকে, বিজেপির ভাবনায় শুধু ভোট। পদ্ম শিবিরের নেতারা দেশের কথা ভাবেন না। বাংলায় ভোট আসন্ন বলেই বন্দে মারতম নিয়ে আলোচনায় কেন্দ্রের এ আগ্রহ।
কংগ্রেসের লোকসভার উপনেতা তরুণ গগৈও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বন্দে মাতরমকে হাতিয়ার করে স্বাধীনতা সংগ্রামের নতুন ইতিহাস লিখতে চাইছে গেরুয়া শিবির। এমন পবিত্র এক গান নিয়ে রাজনীতি করছেন প্রধানমন্ত্রী। গগৈ বলেন, যে কোনও ইস্যুতে জওহরলাল নেহরু ও কংগ্রেসকে নিশানা করা প্রধানমন্ত্রী মোদীর স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী ১৪ বার নেহরু এবং ৫০ বার কংগ্রেসের নাম নিয়েছেন। সংবিধান নিয়ে আলোচনায় নেহরুর নাম করেছেন ১০ বার। ২৬ বার বলেছেন কংগ্রেসের কথা।