এত অল্প সময়ে এতগুলো ফাইল যাচাই করে অনুমোদন দেওয়া স্বাভাবিক নয়। বিরোধীদের অভিযোগ, এভাবে একদিনে ৭৫টি ফাইল অনুমোদন (75 minority school files cleared) হওয়া সন্দেহজনক, এর তদন্ত হওয়া জরুরি।
.jpg.webp)
অজিত পাওয়ার
শেষ আপডেট: 18 February 2026 08:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অজিত পাওয়ারের বিমান দুর্ঘটনার (Ajit Pawar Plane Crash) তদন্ত এখনও চলছে। শুধুই কি দুর্ঘটনা নাকি লুকিয়ে আছে কোনও ষড়যন্ত্র- এই নিয়েও তীব্র বিতর্ক দেখা গেছে। এর মধ্যেই দুর্ঘটনার দিনেই নেওয়া এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সেই বিতর্কের আগুনে ঘি ঢালল। অজিত পাওয়ারের বিমান দুর্ঘটনার (Ajit Pawar Plane Crash) দিনই সংখ্যালঘু দফতর থেকে একঝটকায় ৭৫টি স্কুল-সংক্রান্ত ফাইলে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
গত ২৮ জানুয়ারি বারামতীতে (Baramati Plane Crash) ভেঙে পড়ে তৎকালীন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের বিমান (Ajit Pawar Death)। দাউ দাউ করে জ্বলে মুহূর্তে কার্যত ভস্মে পরিণত হয় বিমানটি। সেই বিমানে থাকা পাঁচজনেরই মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যেই একজন ছিলেন অজিত পাওয়ার।
সূত্রে খবর, সেদিন সম্পূর্ণ মহারাষ্ট্র এবং প্রশাসনের অধিকাংশই এই দুর্ঘটনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, সেই সময়েই সংখ্যালঘু দফতর ৭৫টি সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফাইল অনুমোদন করে। এই ফাইলগুলিতে স্কুলের স্বীকৃতি, অনুমোদন এবং অন্যান্য প্রশাসনিক অনুমতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।
সূত্রের দাবি, এত অল্প সময়ে এতগুলো ফাইল যাচাই করে অনুমোদন দেওয়া স্বাভাবিক নয়। বিরোধীদের অভিযোগ, এভাবে একদিনে ৭৫টি ফাইল অনুমোদন (75 minority school files cleared) হওয়া সন্দেহজনক, এর তদন্ত হওয়া জরুরি। বিরোধী দলের এক নেতা বলেন, “একদিনে এত ফাইল কীভাবে অনুমোদন দেওয়া সম্ভব, এটা খুবই অস্বাভাবিক। সব কটি কি নিয়ম মেনে দেখা হয়েছিল? সঠিক যাচাই হয়েছিল তো?” পাশাপাশি, এই অনুমোদনের সঙ্গে দুর্ঘটনার কোনও যোগ আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন বিরোধীরা।
এই ঘটনার পর প্রশাসনিক স্তরেও পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। সংখ্যালঘু দফতরের ডেপুটি সেক্রেটারি মিলিন্দ শেণয়কে বদলি করা হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এখন রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন কয়েকটি—
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন সময়ে প্রশাসনিকভাবে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে যখন রাজ্যের নজর ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ঘটনায়। তারা মনে করছেন, সরকারের তদন্তের ফলেই স্পষ্ট হবে আদৌ কোনও অনিয়ম ছিল কি না।
যদিও ভাইপোর মৃত্যুর পর ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব সামনে আসতেই অজিত পাওয়ারের কাকা এবং এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার (Sharad Pawar) বলেছিলেন, “এটা কোনও ষড়যন্ত্র নয়, একেবারে দুর্ঘটনাই। অজিত চলে যাওয়ায় মহারাষ্ট্র অনেক ক্ষতির সম্মুখিন হবে। রাজ্য এক জন বড় মাপের মানুষকে হারাল। এই ক্ষতির কোনও ক্ষতিপূরণ হয় না।”