মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ রবিবার পৌঁছেছিলেন সেখানে। চলতি মাসে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার। গিয়ে তিনি দেখেছেন ভিড়ে ঠাসা রাস্তা, যানজট আর দেশ-বিদেশের পর্যটকদের ভিড়। যা দেখে স্বভাবতই রাজ্যের প্রশাসক হিসেবে খুশি তিনি।

ওমর আবদুল্লাহর শেয়ার করা ছবি
শেষ আপডেট: 23 June 2025 12:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জঙ্গি হামলায় থমকে গিয়েছিল পর্যটনের চাকা। তারপর পাকিস্তানে অপারেশন সিঁদুর ও ইসলামাবাদের প্রত্যাঘাতের ফলে কার্যত জনশূন্য ছিল কাশ্মীর। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়েছে পরিস্থিতি। ফিরছেন পর্যটকরা। সেই ছবিই শেয়ার করলেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। পহেলগামও হচ্ছে জমজমাট।
মে মাসের শেষ সপ্তাহে বৈসরন ভ্যালিতে লস্কর জঙ্গিদের হামলায় ২৫ জন পর্যটক ও এক স্থানীয় বাসিন্দার মৃত্যু হয়। তারপর দ্রুত সেখান থেকে সকলকে বাড়ি ফেরায় প্রশাসন। ঘটনার তদন্তে নামে এনআইএ। ধীরে ধীরে কাশ্মীরে লোকজনের আনাগোনা বাড়লেও পহেলগাম নিয়ে ভীতি সকলের মনেই কম-বেশি কাজ করছিল।
মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ রবিবার পৌঁছেছিলেন সেখানে। চলতি মাসে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার। গিয়ে তিনি দেখেছেন ভিড়ে ঠাসা রাস্তা, যানজট আর দেশ-বিদেশের পর্যটকদের ভিড়। যা দেখে স্বভাবতই রাজ্যের প্রশাসক হিসেবে খুশি তিনি।
এক্স-এ সেই অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন ওমর লেখেন, 'পহেলগাম এত ফাঁকা ছিল যে গতবার সাইকেল চালিয়েছিলাম। এবার ফিরে দেখলাম গমগম করছে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা জায়গা ভাগ করে নিচ্ছেন স্থানীয় পিকনিক করতে আসা মানুষদের সঙ্গে। ঠান্ডা আর বৃষ্টিমুখর আবহাওয়ার আনন্দে মেতে উঠেছেন সকলে।'
ওমর আরও লিখেছেন, 'আমি ও আমার সহকর্মীরা যে চেষ্টা করে যাচ্ছি, ধীরে ধীরে তার ফল মিলছে দেখে ভাল লাগছে।'
জঙ্গি হামলার পর উপত্যকার ৪৮টি পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছিল প্রশাসন। মে মাসে ৮০ শতাংশ হোটেল বুকিং বাতিল হয়ে যায়। পর্যটনশূন্য উপত্যকা থেকে সরে যেতে বাধ্য হন ব্যবসায়ীরা। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই মে-র শেষ সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রীরা শ্রীনগর ছেড়ে পহেলগামে একটি মন্ত্রিসভার বৈঠকের আয়োজন করেন। সেই সময় থেকেই পর্যটকদের আশ্বস্ত করার কাজ শুরু করে প্রশাসন।
এইমুহূর্তে বন্ধ থাকা ৪৮টি পর্যটন কেন্দ্রের মধ্যে ১৬টি ফের খুলে দেওয়া হয়েছে এবং তাতেই দেখা যাচ্ছে ভিড় বাড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে পহেলগামের রাস্তায় ঘুরে দেখেছেন সেই চেনা উষ্ণতা।
উল্লেখ্য, জম্মু-কাশ্মীরের মোট জিডিপির প্রায় ৭-৮ শতাংশ আসে পর্যটনশিল্প থেকে। উপত্যকা অঞ্চলে এই নির্ভরতা আরও বেশি। ফলে এই খাতকে দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করাই এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।