কনকনে ঠান্ডার মধ্যে সাধারণ কামরায় দাঁড়িয়ে ও শৌচাগারের পাশে বসে কোনও মতে উত্তরপ্রদেশ পৌঁছতে হয় ওই কুস্তিগিরদের। প্রতিযোগিতা শেষে ফেরার সময়ও একই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে তাদের।

শেষ আপডেট: 23 December 2025 12:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওরাই দেশের ভবিষ্যৎ, ওদের মধ্যেই কেউ কাল দেশের জন্য পদক আনবে - কিন্তু তাদের জন্য ট্রেনের কামরাতে জায়গাই হল না। ঠাঁই হল শৌচাগারের পাশে, তীব্র দুর্গন্ধে (Train travel issue)। তাও আবার আবার এমন এক সময়ে, যখন তারা জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতাতেই অংশ নিতে উত্তরপ্রদেশে যাচ্ছে। ট্রেনের কনফার্মড টিকিটের ব্যবস্থাই হয়নি, এমনই অপমানজনক পরিস্থিতির মুখে পড়তে হল কিশোর কুস্তিগিরদের (Odisha under-17 wrestlers travel controversy)।
উত্তরপ্রদেশে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় কুস্তি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ওড়িশা থেকে যাওয়া ১৮ জন পড়ুয়াকে ট্রেনের সাধারণ কামরায়, শৌচাগারের পাশেই বসে যাতায়াত করতে হয়েছে বলে অভিযোগ (sports administration failure)।
উত্তরপ্রদেশে আয়োজিত ৬৯তম জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ বালক ও বালিকা কুস্তি প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ওড়িশার ১৮ জন পড়ুয়া - এর মধ্যে ১০ জন ছেলে ও ৮ জন মেয়ে। নিয়ম অনুযায়ী, যাতায়াত ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ছিল ওড়িশা রাজ্যের স্কুল ও গণ শিক্ষা দফতরের (Odisha sports department)। কিন্তু অভিযোগ, খেলোয়াড়দের জন্য ট্রেনের কনফার্মড টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়নি।
ফলে কনকনে ঠান্ডার মধ্যে সাধারণ কামরায় দাঁড়িয়ে ও শৌচাগারের পাশে বসে কোনও মতে উত্তরপ্রদেশ পৌঁছতে হয় ওই কুস্তিগিরদের। প্রতিযোগিতা শেষে ফেরার সময়ও একই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে তাদের।
সোমবার এই যাত্রার ছবি ও ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বহু মানুষ। কেন জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাওয়া পড়ুয়াদের এমন অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে সফর করতে হল, তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবিও জানানো হয়েছে।
এক শিক্ষক জানিয়েছেন, স্কুল ও গণ শিক্ষা দফতরের চিঠি পাওয়ার পরেই তাঁরা চারটি দল নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যান। চার জন শিক্ষক ছিলেন দায়িত্বে। অভিযোগ, দলের ম্যানেজার কটকের ভানু রানা ট্রেনের টিকিট কনফার্ম করেননি। সেই কারণেই খেলোয়াড় ও শিক্ষকদের শৌচাগারের পাশে বসে যাত্রা করতে হয়েছে। ওই শিক্ষক আরও দাবি করেন, বিষয়টি এক জন মন্ত্রীকে জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এক পড়ুয়ার অভিভাবক বিশ্বজিৎ মহাপাত্র জানান, টিকিট সংক্রান্ত সমস্যার কথা তাঁরা আগে জানতেন না। স্টেশনে এসে জানতে পারেন, কারও কনফার্মড টিকিট নেই। বাধ্য হয়ে কোচ ও ম্যানেজারকেও খেলোয়াড়দের সঙ্গে সাধারণ কামরায়, শৌচাগারের পাশে বসে যাত্রা করতে হয়। বেরহামপুরের কয়েক জন সহযাত্রী দয়া করে তাঁদের কিছুটা বিশ্রামের ব্যবস্থা করে দেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ওড়িশা সরকারের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।