অভিযোগ, আইএএস অফিসার তদন্তে কোনওরকম সহযোগিতা করছেন না। যেহেতু তিনি স্বরাষ্ট্র দফতরের উচ্চপদে রয়েছেন, তাই তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কমিশনারেট পুলিশ ইতিমধ্যেই রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতর এবং সাধারণ প্রশাসন দফতরের (GAD) কাছে লিখিত অনুমতি চেয়েছে।

ওড়িশা স্বরাষ্ট্র দফতরের অতিরিক্ত সচিব আইএএস অফিসার আরাধনা দাস
শেষ আপডেট: 11 April 2026 19:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওড়িশা প্রশাসনের শীর্ষস্তরে বড়সড় কেলেঙ্কারির অভিযোগ। জমি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এক ব্যক্তির থেকে ৯৫ লক্ষ টাকা হাতানোর অভিযোগ উঠল এক আইএএস অফিসার আরাধনা দাসের বিরুদ্ধে (IAS Aradhana Das land fraud Cuttack)। বর্তমানে তিনি ওড়িশা সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতরের অতিরিক্ত সচিব পদে কর্মরত (Odisha IAS officer Aradhana Das cheating case)।
অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর জমি তো দেননি, উল্টে অভিযোগকারীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ (Odisha Home Department IAS fraud) এবং খুনের হুমকি দিয়েছেন ওই সরকারি আধিকারিক (IAS officer death threat complainant)।
ঘটনাটি ঠিক কী?
অভিযোগকারী কমল কুমার ভাওসিংকা একজন বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি। তাঁর অভিযোগ, কটকের সিডিএ (Cuttack Development Authority) এলাকায় জমি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আরাধনা দাস। সেই ভরসায় কমলের স্ত্রী বীণা ভাওসিংকা দু’দফায় ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার মাধ্যমে ওই আইএএস অফিসারকে টাকা পাঠান।
সব মিলিয়ে ৯৫ লক্ষ টাকা লেনদেন হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ, এই টাকার একটি বড় অংশ নগদেও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও জমি পাননি কমলবাবু।
পুলিশি তদন্ত ও অসহযোগিতার অভিযোগ
ঘটনাটি নিয়ে কটকের সিডিএ ফেজ-২ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক পুলিশি তদন্তে ৯৫ লক্ষ টাকার লেনদেনের প্রমাণও মিলেছে।
অভিযোগ উঠেছে, আইএএস অফিসার আরাধনা দাস তদন্তে কোনওরকম সহযোগিতা করছেন না। যেহেতু তিনি একজন আইএএস অফিসার এবং স্বরাষ্ট্র দফতরের উচ্চপদে রয়েছেন, তাই তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কমিশনারেট পুলিশ ইতিমধ্যেই রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতর এবং সাধারণ প্রশাসন দফতরের (GAD) কাছে লিখিত অনুমতি চেয়েছে।
খুনের হুমকি ও দাপট
কমলবাবুর অভিযোগ, টাকা ফেরত চাইলে জমি দেওয়ার বদলে আরাধনা দাস তাঁকে ভয় দেখাতে শুরু করেন। এমনকি তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে এফআইআর-এ উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে আরাধনা দাস আবাসন ও ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরে কর্মরত ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার সুযোগ নিয়েই তিনি এই জালিয়াতি করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতরের মতো সংবেদনশীল জায়গায় কর্মরত একজন উচ্চপদস্থ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর আর্থিক তছরুপের অভিযোগে অস্বস্তিতে ওড়িশা সরকার। এখন প্রশাসন এই ‘প্রভাবশালী’ অফিসারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করার অনুমতি দেয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে ওড়িশার সাধারণ মানুষ।