বন্ধুর অভিযোগ, তাঁর শিক্ষা বিভাগের প্রধান (হেড অব ডিপার্টমেন্ট) সমীর কুমার সাহু ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে ফেল করিয়ে দিচ্ছিলেন এবং ব্যাকলগ ক্লিয়ার করতে দিচ্ছিলেন না।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 18 July 2025 14:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওড়িশার (Odisha College Fire) ফকির মোহন কলেজের যে ২০ বছর বয়সি ছাত্রী যৌন হেনস্থার অভিযোগে নিজেকে আগুনে ঝলসে দিয়েছিলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক এবং অ্যাকাডেমিক নির্যাতনের (Odisha Student Death) শিকার ছিলেন, এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ওই বন্ধুর কথায়, একাধিকবার নিজের উপর হওয়া নিপীড়নের কথা বলেছিলেন ছাত্রী, কিন্তু তখন কাউকে কিছু বলার অনুমতি দেননি।
বন্ধুর অভিযোগ, তাঁর শিক্ষা বিভাগের প্রধান (হেড অব ডিপার্টমেন্ট) সমীর কুমার সাহু ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে ফেল করিয়ে দিচ্ছিলেন এবং ব্যাকলগ ক্লিয়ার করতে দিচ্ছিলেন না। শুধু তাই নয়, একাধিকবার ক্লাসে হেনস্থা করেন এবং এমনকি তাঁকে ব্ল্যাকমেলও করেন বলে অভিযোগ। ৩০ জুন, ওই ছাত্রী বন্ধুদের জড়ো করে অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে যান। অধ্যক্ষ তখন বলেন, “সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ”, এবং আরও সময় চান।
১২ দিন পরে ফের যখন মেয়েটি ন্যায়বিচার চেয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করতে চান, তখন কলেজে ভর্তি সংক্রান্ত ভিড় চলছিল। দুপুরবেলার ২০ মিনিটের বিরতিতে মেয়েটি একা পড়ে যান। সেই সময়ই ঘটে যায় ভয়াবহ ঘটনা। তাঁর বন্ধুর কথায়, “আমরা খবর পাই, কেউ বা কিছু তাঁকে এমনভাবে আঘাত করেছিল, যেন সে ‘অগ্নিপরীক্ষা’ দিতে বাধ্য হয়। ওই অধ্যক্ষের কথা হয়তো তাঁকে এতটাই আঘাত করেছিল যে তিনি আর সহ্য করতে পারেননি।”
প্রিন্সিপালের অফিসের সামনে নিজের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন ছাত্রী। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আর এক ছাত্র জ্যোতিরঞ্জন বিসওয়াল ১৫ শতাংশ পোড়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু ছাত্রীটির শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায়, শেষরক্ষা হয়নি। ১৪ জুলাই, ভুবনেশ্বর এইমস-এ মৃত্যু হয় তাঁর।
ছাত্রীর অভিযোগের পর, বিভাগীয় প্রধান ৩০০-রও বেশি ছাত্রকে নিজের পক্ষে নিয়ে আসেন।যেখানে ৭০ জনের মতো পড়ুয়া ছাত্রীকে বহিস্কারের পক্ষে ডেপুটেশন জমা দেন। বিপরীতে, মাত্র ১৫-২০ জন ছাত্রীর পাশে দাঁড়ান। বন্ধুর দাবি, ওই ছাত্রী ছিলেন এবিভিপির (ABVP) সক্রিয় সদস্য, আর তাঁকেই রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে চরিত্র হননের চেষ্টাও হয়। অভিযোগপত্র দিয়ে অধ্যক্ষকে জানানো হয় ছাত্রীটি মিথ্যে বলছেন।
এই ঘটনার জেরে দু’জন কলেজ আধিকারিক সমীর কুমার সাহু এবং অধ্যক্ষকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, যৌন হেনস্থা, পিছু নেওয়া এবং একজন মহিলার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার ধারায় গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্য সরকার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। উদ্দেশ্য, ছাত্রীর এই আত্মহত্যার পেছনের প্রকৃত সত্য উন্মোচন করা।