বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, কংগ্রেসের নেতৃত্বে ওড়িশার সমস্ত বিরোধী দল একসঙ্গে রাজ্য জুড়ে বনধ ডেকেছে।

শেষ আপডেট: 16 July 2025 13:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজের সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদস্বরূপ নিজেই গায়ে আগুন লাগিয়ে মৃত্যুবরণ করে ওড়িশার কলেজছাত্রী। তার মৃত্যু ঘিরে আজ, বুধবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত ওড়িশা বিধানসভা চত্বর।
বহু মানুষ ওই মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদ করতে দলে দলে জড়ো হয়েছেন বিধানসভার সামনে। ভুবনেশ্বরের লোক সেবা ভবনের সামনে প্রতিবাদ জানাচ্ছে বিজেডি। ফলে আঁটসাঁট করা হয়েছে নিরাপত্তা। ঘটনার সঠিক ন্যায়বিচারের দাবিতে বিরোধী দল বালেশ্বর জেলায় আট ঘণ্টাব্যাপী বনধ ঘোষণা করেছে।
ঘটনাস্থল থেকে যে ভিডিও এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে চলার চেষ্টা করছেন প্রতিবাদীরা। তাঁদের আটকাতে জলকামান ব্যবহার করছে পুলিশ। রাজ্য পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, কংগ্রেসের নেতৃত্বে ওড়িশার সমস্ত বিরোধী দল একসঙ্গে রাজ্য জুড়ে বনধ ডেকেছে।
এদিকে, মৃতার বাবার দাবি, তাঁর মেয়ের মৃত্যুর ঘটনা নিছক আত্মহত্যা নয়, তাকে খুন করা হয়েছে। এটি খুনের মামলা হিসেবে ধরে তিনি অভিযুক্ত সকলের শাস্তি দাবি করেছেন রাজ্য সরকারের কাছে।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি মৃতা তরুণীর বাবার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি এক্স-এ একটি পোস্টে জানান, ‘বালেশ্বরের ঘটনায় ন্যায়ের দাবীতে মৃত্যুবরণ করে নেওয়া সাহসী ওই তরুণীর বাবার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাঁর গলায় মেয়েকে হারিয়ে বেদনার সুর স্পষ্ট। কংগ্রেস পার্টি এবং আমি প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁর পাশে আছি। যা ঘটেছে, তা অমানবিক এবং সমাজের জন্য এক লজ্জাজনক ক্ষত।’
ওই পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায়, তা তিনি নিশ্চিত করবেন বলেও জানান।
ফকির মোহন কলেজের বি.এডের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ জানিয়েছিলেন। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েও সুবিচার পাননি বলে অভিযোগ। শনিবার নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়েছিলেন তিনি। সেইসময়েই কলেজের প্রিন্সিপালের ঘরের সামনে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ছাত্রীটি। শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় মৃত্যু হয় তাঁর।
এরপরই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। ওড়িশার বিজেপি সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছেন বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, 'এটা আত্মহত্যা নয়, প্রাতিষ্ঠানিক হত্যা।'
তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার দশদিন আগেই কলেজের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটির কাছে চিঠি দিয়েছিলেন ওই তরুণী। সেখানে অভিযুক্ত হিসেবে বিভাগীয় প্রধান সমীর কুমার সাহুর নাম উল্লেখ ছিল। অভিযুক্ত অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে আত্মহত্যার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এরপরও কলেজ কর্তৃপক্ষ নিষ্ক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ।
ওই তরুণীর মৃত্যুর পর কলেজের প্রিন্সিপাল দিলীপ কুমার ঘোষ এবং অভিযুক্ত বিভাগীর প্রধান সমীর কুমার সাহুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।