মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, রাজ্যের ১০ শতাংশ নমুনায় ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। জাজপুর-সহ চার রাজ্য়ে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 18 June 2025 09:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্ষা আসতে না আসতেই ওড়িশায় (Odisha) থাবা বসাল কলেরা (Cholera)। জলবাহিত এই মারণ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে উপকূলবর্তী একাধিক জেলায়। মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, রাজ্যের ১০ শতাংশ নমুনায় ভিব্রিও কলেরি (Vibrio cholerae) ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে মারা গিয়েছেন ১১ জন, আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজারেরও বেশি মানুষ।
এই অবস্থায় ওড়িশার ৩০টি জেলাকেই দেওয়া হয়েছে উচ্চমাত্রার সতর্কবার্তা। বিশেষ করে জাজপুর, ধেনকানাল, কেওনঝাড়, ভদ্রক ও কটক- এই পাঁচটি জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
৯ জুন জাজপুর জেলার কিছু এলাকায় ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সেখান থেকেই শুরু হয় এই সংক্রমণ। পরে বিভিন্ন জেলার হাসপাতালে পাঠানো নমুনার পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়, এটি সাধারণ ডায়রিয়া নয়, ভিব্রিও কলেরি ভাইরাসের সংক্রমণ।
স্বাস্থ্যসচিব অস্বতী এস জানান, ‘যত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, তার মধ্যে ১০ শতাংশে কলেরার অস্তিত্ব মিলেছে। মঙ্গলবারেই নতুন করে আরও ৩০০ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। একটি নির্দিষ্ট উৎস থেকে এই সংক্রমণ শুরু হয়নি। তাই সব উৎসকেই জীবাণুমুক্ত করতে হবে।’
কলেরা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ও রাজ্যবাসীকে সচেতন করতে সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। জেলার সব কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এক সপ্তাহের জন্য সাবধানতামূলক পদক্ষেপ নিতে। পাশাপাশি জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক, আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের সক্রিয় থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
সচেতনতা জারি করার পাশাপাশি, জাজপুরে রাস্তাঘাটের খাবারের দোকান, হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, সর্বসাধারণের জন্য ভোজের অনুষ্ঠান করতে হলে প্রশাসনের অনুমতি বাধ্যতামূলক।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাজপুরে চলছে ৪৫টি মোবাইল হেলথ ক্যাম্প, ৪০টি মোবাইল মেডিকেল টিম।
জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, জাজপুরে ২২০ জন ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে ঠিকই, তবে আবার সংক্রমণ ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে জনগণকে সরকারি স্বাস্থ্য নির্দেশিকা মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
হাসপাতালগুলোতে ৩০ মিনিট অন্তর জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। শহরের হোটেল, মিষ্টির দোকান ও রেস্তোরাঁয় চলছে তল্লাশি অভিযান।
ভুবনেশ্বর ও কটকে বেশ কয়েকটি হোটেল ও দোকানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে। কাটক মিউনিসিপাল কর্পোরেশন (CMC) সিল করে দিয়েছে দু’টি হোটেল, যেখানে নোংরা জল ও নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছিল।
বহু প্রচারমূলক সচেতনতা কর্মসূচি চালানো হচ্ছে গ্রামীণ এলাকায়। পরিশ্রুত জল পান, হাত ধোওয়া ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
দু’দিন ধরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দফতরের একটি দল ওড়িশায় রয়েছে। মঙ্গলবার তারা ফের জাজপুর পরিদর্শন করেছে। আজ, বুধবার ওড়িশা সরকারের স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হবে।