গত বছর হাইকোর্টের রায়ে জানানো হয়েছিল, ওবিসি তালিকা পুরোপুরি আইন মেনে তৈরি করা হয়নি। নির্দিষ্ট সমীক্ষা না করেই, নির্দিষ্ট তথ্য ছাড়াই কারা ওবিসি, তা ঘোষণা করা হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 17 June 2025 17:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওবিসি মামলা (OBC Case) বড় ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার (State Govt)। কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের জারি করা বিজ্ঞপ্তির ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে।
১৪০টি জনজাতিকে নিয়ে রাজ্যের নতুন বিজ্ঞপ্তি ছিল। সেই বিজ্ঞপ্তিতেই অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি মান্থার রাজ্য সরকারের উদ্দেশে বলেন, ''কেন ২০১২ সালের আইনে সংশোধনী আনলেন না? আপনারা ২০১২ সালের ওবিসি আইন অনুযায়ী অর্ধেক কাজ করেছেন। তারপর আবার ১৯৯৩ সালের আইনে ফেরত গেছেন। এটা কেন? বিভিন্ন বিষয়ে রাজ্যের ৪-৫টি বিজ্ঞপ্তিতে আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে।''
অন্যদিকে, রাজ্যের উদ্দেশে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর বক্তব্য, ''আগেও বলা হয়েছিল ওবিসি শ্রেণিভুক্ত ৬৬টি সম্প্রদায়কে নিয়ে পদক্ষেপ করুন। আপনারা বলেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের অপেক্ষা করছেন। তখন বলেছিলাম ঠিক আছে, তাহলে সেই পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ করবেন না।'' কিন্তু সেই নির্দেশও অমান্য হয়েছে বলে জানিয়েছে উচ্চ আদালত। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই রাজ্যের আবেদন মানেননি দুই বিচারপতি। বলা হয়েছে, আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
রাজ্যের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল বলেন, ''বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হল, সার্ভে হয়েছে তখন কেন প্রশ্ন উঠল না? আমরা অ্যাডমিশন করতে পারছি না। যদি আমাদের সিদ্ধান্ত ঠিক প্রমাণিত হয় তখন?'' এরই পাল্টা বিচারপতি মান্থার বক্তব্য, ''যে ৪-৫টা নোটিফিকেশন এসেছে এটা তো আদালতের নির্দেশ অবমাননা বোঝায়। লেজিসলেটিভ প্রসেসও ভেঙেছেন আপনারা।'' রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বলেন, ''এটি লেজিসলেটিভ ব্যাপার নয়। পার্লামেনটারি ডেমোক্রেটিক সিস্টেম। বিষয়টাই আলাদা। ২৫ বছর আমার সেই অভিজ্ঞতা রয়েছে।''
সরকারি চাকরিতে ওবিসিদের জন্য ১৭ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করেছিল রাজ্য। যা নিয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। ওই মামলায় রাজ্যের সংরক্ষণ নির্দেশ বাতিল করে হাইকোর্ট জানিয়েছিল, 'ধর্মের ভিত্তিতে কোনও সংরক্ষণ করা যায় না'।
গত বছর হাইকোর্টের রায়ে জানানো হয়েছিল, ওবিসি তালিকা পুরোপুরি আইন মেনে তৈরি করা হয়নি। নির্দিষ্ট সমীক্ষা না করেই, নির্দিষ্ট তথ্য ছাড়াই কারা ওবিসি, তা ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১০ সালের পর থেকে ওবিসি শংসাপত্র প্রাপকদের যে তালিকা তৈরি করা হয়েছে, তা ১৯৯৩ সালের ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস আইনের পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করেছিল আদালত।
সূত্রের খবর, ওবিসি সংরক্ষণ তালিকায় আগে ছিল ৬৬ টা জাতি। নতুন করে সমীক্ষা করে জাতির সংখ্যা কমিয়ে ৬৪টি করা হল এবং নতুন করে আরও ৭৬টি নতুন অনগ্রসর জাতিকে তালিকায় যুক্ত করা হল। অর্থাৎ ওবিসি সংরক্ষণের আওতায় জাতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১৪০টি। সেই বিজ্ঞপ্তিতেই স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।