বিহার ভোটের আগে ভিডিও বার্তায় রাজ্যবাসীর কাছে সমর্থন চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। নাম না করে আক্রমণ করলেন অসুস্থ ও ঘরবন্দি লালু প্রসাদ যাদবকে, বললেন তিনিই আসল প্রতিদ্বন্দ্বী।

নীতীশ কুমার ও লালুপ্রসাদ যাদব
শেষ আপডেট: 1 November 2025 10:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার সাত সকালে ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে রাজ্যবাসীর সমর্থন চাইলেন নীতীশ কুমার। জনতা দল ইউনাইটেড সূত্রের খবর, এই প্রথম নীতীশ কুমার ভিডিও বার্তাকে ভোট প্রচারের অঙ্গ করলেন।
সরকারিভাবে তাঁর দল স্বীকার না করলে জানা যাচ্ছে এবারের বিধানসভা ভোটে নীতীশ কুমার তাঁর রাজনৈতিক জীবনে সবচেয়ে কম ছোটাছুটি করবেন। বছর তিনেক হল তিনি শারীরিকভাবে ততটা সবল নন। বিরোধীদের বক্তব্য, তিনি মানসিকভাবেও অসুস্থ। সম্প্রতি একাধিক প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অসংলগ্ন কথা বলে দল ও সরকারকে বিপাকে ফেলেছেন। মনে করা হচ্ছে সেই কারণেই নীতীশ এবার ভিডিও বার্তায় প্রচারের কৌশল নিয়েছেন।
শনিবার সকালে প্রচারিত ভিডিওতে নীতীশ তাঁর সরকারের সময়ে বদলে যাওয়া বিহারের ছবি তুলে ধরেছেন। বলেছেন, ২০০৫ এ পাকাপাকিভাবে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর সংকল্প করেছিলাম গোটা বিশ্বে বিহার ও বিহারবাসীর মান-মর্যাদা রক্ষা করব। আর সেজন্য দরকার ছিল রাজ্যের উন্নয়ন। নীতীশ বলেছেন, এমন কোনও ক্ষেত্র নেই যেখানে আমার সরকার উন্নয়ন করেনি।
প্রসঙ্গত বিহারের নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ জোট সঙ্গী বিজেপি নেতারাও নীতীশকে বিহারের উন্নয়নের কাণ্ডারী হিসেবে তুলে ধরছেন। মোদী বিহারে তাঁর আগের সভায় বলেছেন, নীতীশবাবুর তুলনা হয় না। তিনি বিহারকে বদলে দিয়েছেন। আমরা জানি বিহার কী ছিল।
শনিবার সকালে ভিডিও বার্তায় নীতীশ দুই বিহারে ছবি তুলে ধরেছেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে ১৫ বছর রাজ্য শাসন করেছেন লালু প্রসাদ যাদব ও তাঁর স্ত্রী রাবড়ি দেবী। সেই ১৫ বছর বিহার কেমন ছিল ব্রিটিশ উল্লেখ করেছেন ভিডিও বার্তায়। তারপর তুলে ধরেছেন আজকের বিহারের চিত্র।
আর এই প্রসঙ্গেই নাম না করে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তথা আরজেডি সুপ্রিমো লালু প্রসাদ যাদবকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিহারের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। লালু প্রসাদের পুত্র তেজস্বী এবার বিহারে বিরোধী জোটের মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী। তিনি এখন বিহার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। পশু খাদ্য কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত লালু প্রসাদ ১৯৯৭ সালে জেলে যাওয়ার আগে স্ত্রী রাবড়ী দেবীকে মুখ্যমন্ত্রী করেছিলেন। রাবড়ীদেবী বর্তমানে বিহার বিধান পরিষদের বিরোধী নেত্রী।
অন্যদিকে লালু প্রসাদের বড় মেয়ে মিসা ভারতী রাজ্যসভার সদস্য। লালু-রাবড়ী এবং তেজস্বী সহ তাদের চার সন্তানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় তদন্ত চলছে। পশু খাদ্য কেলেঙ্কারিতে লালু প্রসাদ তিন বছর জেলে কাটিয়ে এখন জামিনে মুক্ত।
লালু প্রসাদকে নিশানা করেই নীতীশ কুমার বলেছেন, 'এত বছর রাজনীতি করছি। কখনও নিজের বা পরিবারের জন্য কিছু করিনি।' প্রসঙ্গত নীতীশ কুমারের স্ত্রী বহু বছর আগেই প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর একমাত্র ছেলে বিষয় ইঞ্জিনিয়ার। তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। এবারই প্রথম ভোটের বাদ্যি বাজার আগে ফের তাঁর বাবাকে মুখ্যমন্ত্রী করার আহ্বান জানান। তখন জল্পনা ছড়িয়েছিল নীতীশ ছেলেকে রাজনীতিতে আনছেন। তৎক্ষণাৎ ছেলে নিজেই জল্পনায় জল ঢেলে দেন।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, শুধু লালুপ্রসাদের দুর্নীতি আর স্বজনপোষণের কারণেই নয়, জাতপাতের অঙ্কেও ঘরবন্দি, অসুস্থ আরজেডি সুপ্রিমোকে তীব্র আক্রমণ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আসলে তিনি জানেন বিরোধী শিবিরে মুখ্যমন্ত্রী মুখ তেজস্বী হলেও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি লালু প্রসাদই। পারলে একমাত্র তিনি ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন।
জানা যাচ্ছে লালু প্রসাদেরও বেশ কিছু ভিডিও ভাষণ প্রচারের পরিকল্পনা করেছে আরজেডি। তাই আগেভাগে একদা বন্ধু, এখন প্রধান প্রতিপক্ষ লালু প্রসাদকে আক্রমণ শুরু করলেন নীতীশ।