সেঞ্চুরির পর জীবনের কঠিন লড়াইয়ের কথা অকপটে শোনালেন জেমাইমা, জানালেন অ্যাংজাইটিতে ভুগেছেন, কেঁদেছেন দিনের পর দিন। তাঁর এই সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানালেন দীপিকা পাড়ুকোন।

শেষ আপডেট: 1 November 2025 10:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এভাবেও ফিরে আসায়! ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে সম্ভবত জীবনের সেরা ইনিংস খেললেন জেমাইমা। ‘রকস্টার’ জেমাইমা, যাঁর হাসি, উচ্ছ্বাস, প্রাণশক্তি মুগ্ধ করে ক্রিকেটপ্রেমীদের, এদিনের ম্যাচ শেষে ছিলেন আশ্চর্যরকম শান্ত। সেঞ্চুরি করে ও কোনও বাড়তি উচ্ছ্বাস নয়, নেই চিৎকারে সেলিব্রেশন। ম্যাচ জেতার পর চোখ ভিজল শুধু আনন্দাশ্রুতে।
সেদিনের ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ জেমাইমা নিজের বক্তব্যে খুলে বললেন কঠিন জীবনের সেই লড়াই, মানসিক ভাঙনের দিনগুলো। হাজারো দর্শকের সামনে নিজের দুর্বলতা স্বীকার করে নেওয়ার সাহস দেখালেন সহজেই।
জেমাইমা বলেন, “দিনের পর দিন কেঁদেছি। মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছিলাম। অ্যাংজাইটি আমাকে গ্রাস করেছিল। নিজের উপর ভরসা রাখতে পারছিলাম না। রাতের পর রাত নিদ্রাহীন কেটেছে। শুধু জানতাম, ঘুরে দাঁড়াতেই হবে। ঈশ্বরের উপর ভরসা ছিল, আর পাশে পেয়েছিলাম মা-বাবাকে।”
মঞ্চের সেই অকপট জেমাইমা যেন আরও একবার ছুঁয়ে গেলেন কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর হৃদয়। মাঠে সেঞ্চুরি, মাঠের বাইরে আরও বড় জয়—নিজের মনের ভয়কে জয় করা।
জেমাইমাকে কুর্নিশ দীপিকা পাড়ুকোনের
জেমাইমার সাহসিকতা নজর এড়ায়নি বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনেরও। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ক্রিকেটারকে নিয়ে পোস্ট করেন তিনি। লেখেন, “ধন্যবাদ তোমাকে। যেভাবে তুমি সকলের সামনে নিজের মানসিক লড়াইয়ের কথা বলেছো, সেটাকে কুর্নিশ জানাই।”
দীপিকা বরাবরই মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব নিয়ে সরব। তিনি নিজে ডিপ্রেশনের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে শেয়ার করেছেন বহুবার। তাই জেমাইমার খোলামেলা স্বীকারোক্তি তাঁর কাছে নিঃসন্দেহে এক সাহসী দৃষ্টান্ত।
দীপিকার মতে, মঞ্চে জেতা ট্রফির থেকেও বড় হল নিজের মনের ভয়কে মেনে নেওয়া—যা জেমাইমা করেছেন বিন্দুমাত্র দ্বিধা ছাড়াই।
যেভাবে সেদিন তিনি শান্ত মুখে ব্যাট তুলে ধরেছিলেন, তা যেন বলে দিচ্ছিল, “আমি ফিরে এসেছি।” আর হয়তো সেই কারণেই আজ জেমাইমা শুধু এক ক্রিকেটার নন, হয়ে উঠেছেন অনুপ্রেরণা।